স্টাফ রিপোর্টারঃদেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে পণ্য খালাস ও রপ্তানি কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতার কারণে সৃষ্টি হয়েছে চরম অচলাবস্থা। বন্দরের ট্রাক টার্মিনাল ও সংলগ্ন সড়কগুলোতে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে আটকে আছে শত শত ট্রাক। এর মধ্যে সুপারিবোঝাই ট্রাকের সংখ্যাই বেশি। দীর্ঘ অপেক্ষার ফলে নষ্ট হতে বসেছে কোটি কোটি টাকার পণ্য, যার ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক-রপ্তানিকারকরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকদের সূত্রে জানা গেছে, অনেক ট্রাক এক মাস, দুই মাস এমনকি তারও বেশি সময় ধরে মালামাল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বিশেষ করে ভারতীয় বাজারের উদ্দেশ্যে পাঠানো সুপারি ভর্তি ট্রাকগুলো সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে। দীর্ঘ সময় বদ্ধ ট্রাকে থাকায় এসব পণ্য পচে যাওয়ার বা গুণমান হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।ট্রাক চালকরা জানান, দীর্ঘসময় এক জায়গায় অবস্থান করায় তাদের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং ট্রাক মালিকদের প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে।আঞ্চলিক ব্যবসায়ীদের মতে, বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতের সাথে রপ্তানি বাণিজ্য বর্তমানে অনেকটাই স্থবির। প্রশাসনিক জটিলতা বা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নীতিমালার কোনো পরিবর্তনের প্রভাবে রপ্তানি কার্যক্রম ধীরগতিতে চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই স্থবিরতার প্রভাব কেবল আমদানিকারকদের ওপর নয়, বরং বন্দর কেন্দ্রিক স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসা ও কুলি-শ্রমিকদের আয়ের ওপরও পড়েছে।
বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে ঠিক কী কারণে এই দীর্ঘ জট সৃষ্টি হয়েছে বা কবে নাগাদ এই সমস্যার সমাধান হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি বা স্পষ্ট ঘোষণা এখনও আসেনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, ওপার থেকে পণ্য গ্রহণে ধীরগতি এবং কাস্টমস সংক্রান্ত কিছু অভ্যন্তরীণ জটিলতা নিরসনে কাজ চলছে।বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও স্থানীয় চেম্বার অব কমার্স এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, দ্রুত সমাধান না হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বেনাপোল বন্দরের বিশ্বাসযোগ্যতা কমবে এবং ব্যবসায়ীরা বিকল্প রুটের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হবেন, যা সরকারের রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ভারতের সাথে আলোচনা করে এই অচলাবস্থা কাটানোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।



















