২রা জানুয়ারি ২০২৬
গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গৃহকর্মী ও দীর্ঘদিনের নীরব সহচর ফাতেমা বেগমকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে নানা তথ্য সামনে এসেছে। দীর্ঘ প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি শুধু একজন গৃহকর্মী নন, বরং খালেদা জিয়ার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছিলেন।
ফাতেমা বেগমের গ্রামের বাড়ি ভোলা জেলার শাহমাদার গ্রামে। একটি সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া ফাতেমা ছিলেন পরিবারের বড় মেয়েদের একজন। ব্যক্তিগত জীবনে অল্প বয়সেই তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেও স্বামীর অকাল মৃত্যু তার জীবনে বড় ধাক্কা হয়ে আসে। স্বামীর মৃত্যুর পর এক মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে জীবিকার তাগিদে ঢাকায় পাড়ি জমান তিনি।
বর্তমানে তার মেয়ে রিয়ামনি ২০২৫ সালে এইচএসসি পাস করেছেন এবং ছেলে রিফাত এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে ফাতেমা দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে দূরে থেকে কাজ করেছেন। প্রায় ৩০টি ঈদ তিনি সন্তানদের ছাড়া কাটিয়েছেন, যা তার ত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
২০১০ সালে একজন আত্মীয়ের মাধ্যমে ফাতেমা বেগম বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবনে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। শুরুতে দায়িত্ব ছিল সাধারণ গৃহস্থালি কাজের, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার সততা, নিষ্ঠা ও বিশ্বস্ততার কারণে তিনি খালেদা জিয়ার সর্বক্ষণিক সঙ্গীতে পরিণত হন। রাজপথ, বাসভবন, কারাগার, হাসপাতাল কিংবা বিদেশ সফর—সবখানেই নেত্রীর পাশে ছায়ার মতো উপস্থিত ছিলেন তিনি।
২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে খালেদা জিয়া কারাবন্দি থাকাকালে আদালতের অনুমোদনে ফাতেমা বেগম তাকে সহায়তা করার জন্য কারাগারে প্রবেশের অনুমতি পান। কারাগারেও তিনি নেত্রীর সেবা ও দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে খালেদা জিয়া মুক্তি পেয়ে হাসপাতালে ও নিজ বাসভবনে অবস্থান করলে সেখানেও ফাতেমা তার পাশে থেকে সেবাযত্ন চালিয়ে যান।
ফাতেমার এই দীর্ঘ ত্যাগ ও নিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে তার বাবা রাফিজুল মিয়া বলেন, ফাতেমা নিজের সন্তানদের বড় একটি সময় থেকে দূরে রেখে জীবনের অধিকাংশ সময় বেগম খালেদা জিয়ার পাশে কাটিয়েছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরাও মনে করেন, ফাতেমা কেবল একজন কর্মী ছিলেন না; তিনি খালেদা জিয়ার পরিবারের একজন সদস্যের মতোই দায়িত্ব ও ভালোবাসা নিয়ে পাশে ছিলেন।
বেগম খালেদা জিয়ার জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত ফাতেমা বেগম তার সান্নিধ্যে ছিলেন। নীরবে, আড়ালে থেকে দায়িত্ব পালন করা এই সহচর অনেক সময় সংবাদ শিরোনামে না এলেও ইতিহাসের পাতায় তার অবদান আলাদা গুরুত্ব বহন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজ জনাব তারেক রহমান ফাতেমাকে বোনের স্বীকৃতি জানিয়ে নেটিজেদের মাঝে উজ্জ্বল নক্ষত্রের দৃষ্টান্ত স্হাপন করেন।



















