এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজের ওপর হত্যাচেষ্টার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামি। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সাম্প্রতিক ধারাবাহিক হামলা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির গভীর ষড়যন্ত্র।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে আবারও নেমে এসেছে সহিংসতার ছায়া। জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)-এর চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজের ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) এক লিখিত বিবৃতিতে এ ঘটনার নিন্দা জানান।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের জাতীয় নেতৃবৃন্দের ওপর ধারাবাহিকভাবে হামলা চালানো হচ্ছে, যা দেশের স্থিতিশীলতা ভাঙার নীলনকশার অংশ। তিনি উদাহরণ টেনে উল্লেখ করেন, সম্প্রতি গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নূরুল হক নূর এবং জাগপার (একাংশ) সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লুৎফর রহমানের ওপরও প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়, যাতে তারা গুরুতরভাবে আহত হন। ববি হাজ্জাজের ওপর এই হামলাও একই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের পরবর্তীকালে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে, তার প্রেক্ষাপটে জনগণ শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায়। কিন্তু একশ্রেণির শক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে রাজনৈতিক সহিংসতা উসকে দিচ্ছে। তার মতে, “ফ্যাসিবাদ বিদায় নিলেও তাদের সহযোগী ও দোসররা দেশে অশান্তি সৃষ্টি এবং নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থিতিশীল করার গভীর পাঁয়তারা করছে। বিশেষ করে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, এসব হামলা জাতির জন্য অশনি সংকেত হয়ে দাঁড়াচ্ছে।”
বিবৃতিতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান, ববি হাজ্জাজসহ সাম্প্রতিক সময়ে যেসব রাজনৈতিক নেতার ওপর হামলা চালানো হয়েছে, সেই সব ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি তিনি দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে, শান্তি বজায় রাখতে এবং রাজনৈতিক পরিবেশকে স্থিতিশীল রাখতে সরকারের প্রতি তৎপর হওয়ার অনুরোধ জানান।
জামায়াতে ইসলামী সূত্রে জানা গেছে, দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও এই বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দলটি স্পষ্ট করেছে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন, সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে যেভাবে ধারাবাহিকভাবে হামলার ঘটনা ঘটছে, তা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে বড় ধরনের সংকটের ইঙ্গিত বহন করছে। সাধারণ জনগণও আতঙ্কে রয়েছে, কারণ এ ধরনের সহিংসতা শুধু রাজনৈতিক নেতাদের নয়, পুরো জাতিকেই অস্থির করে তুলতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। তবে রাজনৈতিক দলগুলো মনে করছে, কেবল তদন্ত নয়, এসব ঘটনার পেছনে যেসব শক্তি কাজ করছে তাদের মুখোশ উন্মোচন করে শাস্তি নিশ্চিত না করলে সহিংসতা থামবে না।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নির্বাচনপূর্ব সময়ে সহিংসতার নজির নতুন নয়। তবে জনগণের প্রত্যাশা—এবার যেন সেই পুরনো চিত্র না ফিরে আসে। ববি হাজ্জাজের ওপর হামলা তাই শুধু একজন নেতার ওপর আঘাত নয়, বরং একটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর আঘাত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।