বান্দরবানের ৭ মাইল এলাকায় আজ সকালে ঢাকা থেকে আগত একটি পর্যটকবাহী গাড়িতে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বান্দরবান পর্যটন কেন্দ্রে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে আসা গাড়িটি যখন নির্দিষ্ট গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছায়, ঠিক তখনই গাড়ির ইঞ্জিন থেকে ধোঁয়া বের হতে শুরু করে এবং যান্ত্রিক ত্রুটির সংকেত পাওয়া যায়। চালক তাৎক্ষণিকভাবে গাড়িটি থামিয়ে দিলে ভেতরে থাকা পর্যটকরা দ্রুত বেরিয়ে আসার সুযোগ পান। গাড়ি থেকে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো গাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে তা ভয়াবহ রূপ নেয়। ভাগ্যক্রমে গাড়িটিতে থাকা সকল যাত্রী অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে আসতে সক্ষম হওয়ায় এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর আহতের খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় পথচারী এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা দ্রুত আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় গাড়িটির অধিকাংশ অংশ পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায়। ঘটনার পর ওই এলাকায় যান চলাচল কিছু সময়ের জন্য বিঘ্নিত হয় এবং পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
ভুক্তভোগী পর্যটকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসার সময় গাড়িতে কোনো অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়নি, তবে গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছানোর পরই হঠাৎ পোড়া গন্ধ এবং ড্যাশবোর্ডে সংকেত বাতি জ্বলে ওঠে। গাড়ির ভেতরে থাকা যাত্রীদের ভাষ্যমতে, চালকের সচেতনতা এবং দ্রুত গাড়ি থামানোর সিদ্ধান্তের কারণেই বড় ধরনের ট্র্যাজেডি থেকে তারা রক্ষা পেয়েছেন। যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন যে, দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রাপথে গাড়িটির ফিটনেস সংক্রান্ত কোনো ত্রুটি আগে থেকে ছিল কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে যান্ত্রিক ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি নিয়ে চলাচল করা পর্যটকদের জীবনের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পর্যটন এলাকায় যাতায়াতকারী যানবাহনগুলোর ফিটনেস নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মালিকপক্ষের চরম অবহেলা এবং উদাসীনতা এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে। এই বিষয়ে গাড়ির মালিকপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা যান্ত্রিক ত্রুটিকে সম্পূর্ণ আকস্মিক বলে দাবি করেছেন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যটকবাহী গাড়িগুলো পাহাড়ি পথে চলার উপযোগী কি না, তা যাচাই করার জন্য নিয়মিত অভিযানের প্রয়োজন রয়েছে। স্থানীয় পরিবহণ খাতের সাথে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাহাড়ি রাস্তায় অতিরিক্ত চাপ এবং ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা যাচাই না করেই অনেক সময় পুরনো গাড়ি পর্যটন সেবায় নিয়োজিত করা হয়, যা এই ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে গাড়িটিতে কোনো কারিগরি গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি বান্দরবানের পর্যটন শিল্পে যাতায়াত ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। পর্যটন মৌসুমে যেখানে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা জরুরি, সেখানে যান্ত্রিক ত্রুটিপূর্ণ গাড়ির কারণে এমন বিপর্যয় পর্যটন খাতের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পর্যটকবাহী প্রতিটি গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট এবং যান্ত্রিক সক্ষমতা কঠোরভাবে মনিটরিং করার পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায়, পাহাড়ি পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ভ্রমণে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়বে এবং এটি সামগ্রিক পর্যটন অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।