চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের এক কেন্দ্রীয় নেতার মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বাসচাপায় ওই নেতার মৃত্যুর প্রতিবাদে গতকাল সংগঠনটির নেতাকর্মীরা প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতকরণ এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। দীর্ঘ সময় ধরে সড়ক অবরোধের কারণে চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি সংযোগকারী প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে রাওজানের গহীরা এলাকায় বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সদস্য মাওলানা সোহেল চৌধুরী নিহত হন। এই আকস্মিক মৃত্যুতে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পরদিন অর্থাৎ বুধবার সকাল সাতটার দিকে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা হাটহাজারী মাদ্রাসার সামনে এবং কলেজ রোডে অবস্থান নেন। তারা চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি এবং চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি উভয় সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এই অবস্থান কর্মসূচির ফলে মূল সড়কগুলো সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে।
বিক্ষোভকারীরা তাদের দাবি উত্থাপন করে জানান, মাওলানা সোহেল চৌধুরীর মৃত্যু নিছক কোনো দুর্ঘটনা নয়। তাদের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিতভাবে চাপিয়ে দেওয়া হত্যাকাণ্ড। তারা অবিলম্বে এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন, কারণ তারা মনে করেন এ ধরনের ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে প্রায়শই অপরাধীরা পার পেয়ে যায় এবং ভুক্তভোগীরা সঠিক বিচার পায় না।
এদিকে দীর্ঘ চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে এই সড়ক অবরোধের কারণে সড়কের দুপাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। অফিসগামী মানুষ, পণ্যবাহী ট্রাক এবং অন্যান্য যাত্রীবাহী যানবাহনের যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। অনেক যাত্রী হতাশা ব্যক্ত করে বলেন যে অবরোধের কারণে তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে এবং গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকে বিকল্প পথে যাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
অন্যদিকে, এই দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ঘাতক বাসটির চালককে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জনভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছালে এক পর্যায়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। পুলিশের আশ্বাসে সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে বিক্ষোবকারীরা সড়ক ছেড়ে দেন এবং এর পরপরই চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি সড়কে যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
তবে এই প্রতিবাদ পদ্ধতি নিয়ে বিশ্লেষক মহল থেকে সমালোচনাও উঠে এসেছে। এক বিশ্লেষকের মতে, যদি এই ঘটনা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকে, তবে বিক্ষোভ না করে বা সাধারণ মানুষকে জিম্মি না করে আইনি প্রক্রিয়ায় মামলা দায়ের করা উচিত ছিল। তিনি মন্তব্য করেন, সড়ক অবরোধের এই 'হটকারী' সিদ্ধান্ত সাধারণ জনগণের সমস্যা বাড়িয়েছে এবং এটি উল্টো তাদের মূল মামলার গুরুত্বকে হালকা করতে পারে।
জনগণের সমস্যা সৃষ্টি করে সড়ক অবরোধের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এক্ষেত্রে আইনি পথে হেঁটে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানানোই অধিক ফলপ্রসূ বলে মনে করেন অনেকে।