আওয়ামী দোসর রাজস্ব পরিদর্শকের হাতে আলাদিনের চেরাগ, বনে গেছেন কোটিপতি..

Rakib Khan avatar   
Rakib Khan
****

নিজস্ব প্রতিবেদক 

রুপকথার আলাদিনের চেরাগ যেন ধরা দিয়েছে সাবেক ওয়াসা মিটার রিডার ও বর্তমান রাজস্ব পরিদর্শক হারুন অর রশিদ রানার হাতে। একসময় অভাবের তাড়নায় রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও রাতারাতি বনে গেছেন কোটিপতি। অঢেল সম্পতির  মালিক হারুনের আলাদিনের সন্ধানে গেলে বেরিয়ে আসে দুর্নীতির ভয়াবহ কালো চিত্র। অভিযোগ রয়েছে, আন্ডার বেলিং, মিটার টেম্পারিং ও অবৈধ পানির সংযোগে সহযোগিতা করে মাত্র ৩৫ হাজার টাকায় চাকরি করা হারুন অর রশিদ রাজধানীতে গড়ে তুলেছেন একাধিক রাজকীয় ভবণ ও অঢেল সম্পত্তি।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সাথে সম্পৃক্তাতায় ভাগ্য বদলেছে তার। পলাতক হাসিনা সরকারে মন্ত্রী  জাহাঙ্গীর কবির নানক ও ময়মনসিংহ –১০ এর সাবেক এমপি ফাহমী বাবেল গোলন্তাজের দাপট দেখিয়ে দুর্নীতির রাজ্য সামলেছেন বর্তমান  মোহাম্মদপুর ঢাকা ওয়াসা রাজস্ব জোন -৩ রাজস্ব পরিদর্শক হারুন অর রশিদ রানা। অভিযোগ আছে, ময়মনসিংহ অনুষ্ঠিত জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদের উপর হামলার জন্য অর্থের যোগান দিয়েছেন তিনি। এছাড়াও ঢাকায় মোহাম্মদপুরে জুলাই আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের হয়ে সম্মুখসারিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। জুলাই গণহত্যা মামলায় ফ্যাসিস্ট হাসিনার সাথে নাম রয়েছে হারুনের। মামলাটি তদন্তনাধীন অবস্থায় রয়েছে।

জুলাইয়ের সক্রিয় যোদ্ধা আব্দুল মান্নান বলেন, তিনি একজন সক্রিয় আওয়ামী লীগ নেতা ছিলেন। ময়মনসিংহ বিভাগে অর্থের যোগান দিয়ে ছাত্রদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে উৎসাহিত করেন এবং আন্দোলন দমনের চেষ্টা চালান। এছাড়া মোহাম্মদপুরে আন্দোলনেও সাবেক আওয়ামীলীগের ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীবের সাথে সক্রিয় ভূমিকা রেখে ছাত্রদের হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা য়ায়, মোহাম্মদপুরে টিক্কাপাড়া, ঢাকা উদ্যান, ৩নং রোড,ও চান মিয়া হাউজিংয়ে রয়েছে হারুনের আলিসান ভবণ। এছাড়া গাজিপুরের ময়মনসিংহের ভালুকা, ও গফরগাঁও নিজ গ্রাম মাখলে রয়েছে পাহাড় পরিমাণ সম্পত্তি ।সরকারি গণপুর্তের জমিও রেহায় দেননি আওয়ামী দোসর হারুন অর রশিদ। মোহাম্মদপুরে জাহাঙ্গির কবির নানকের সহযোগিতায় অবৈধভাবে দখল করেছেন বহুতল ভবণ। সরকারি ভবনকে নিজের নামে চালিয়ে নিচ্ছেন লাখ টাকা ভাড়া ।

মোহাম্মদপুর তার বাসার দারোয়ান সিরাজ বলেন, এটা হারুন স্যারের বাসা। হারুন স্যারের মোহাম্মদপুরে আরো ৩টি বাড়ি ও অসংখ্য দোকানপাট রয়েছে।  তার নামে মাঝে মাঝেই তদন্ত করতে লোকজন আসে।

শুধু তাই নয় অভিযোগ আছে, আওয়ামীলীগের নেতাদের কাজে লাগিয়ে নিজ গ্রামবাসীদের উপর তান্ডব চালিয়েছেন হারুন। পছন্দ হলেই মামলা দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন জমি। অনেকের পরিবারকে করে দিয়েছেন সর্বস্বান্ত।

ভুক্তভোগী এলাকার বাসিন্দা মান্নান ভুঁইয়া বলেন, হারুন টাকা অভাবে রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত। ওয়াসার চাকরীর পাওয়ার পরে আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে নিয়ে এলাকায় জমি দখলশুরু করেন। তার যে জমি পছন্দ হয় সেটা সে বিভিন্ন মাধ্যমে অল্প টাকায় অফার করেন। পরবর্তী সেটা না মানলে তার নামে জামায়াত বিএনপি বলে মামলা দিয়ে জেল খাটান। আওয়ামীলীগের ক্ষমতা দেখিয়ে গ্রামের মসজিদের ইমামকে জঙ্গি বলে তাড়িয়ে দেন। 

এতোকিছুর পরও ধরা ছোয়ার বাইরে চতুর হারুন। বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে ধামাচাপা দিয়েছেন নিজের করা সকল দুর্নীতি। বিরুদ্ধে গ্রামবাসী ও ওয়াসা কর্মচারীর পক্ষ হতে একাধিকবার দুর্নীতি দমন কমিশন ও ওয়াসা কর্তপক্ষে অভিযোগ দায়ের করা হয়।  ঢাকা ওয়াসার কর্মচারি বেলাল উদ্দিন  ও কামরুল হাসান ভিন্ন সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেন । অভিযোগকারীদের দাবি মোটা অংকের টাকা খেয়ে হারুনকে বারবার দায়মুক্তি দিয়েছে দুদক।

হারুনের প্রতিবেশি ঢাকার সরকারি আনসার কমান্ডার জালাল উদ্দিন জানান, হারুন ১০ হাজারের কম টাকায় চাকরী শুরু করে কোটি টাকার সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন। তার বিরুদ্ধে কেউ কিছুই বললেই তাকে মামলা দিয়ে কোনঠাসা করেন। আমি তার দূর্নীতি বিষয়গুলো নিয়ে দূর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করি। সে টাকা পয়সা দিয়ে তা সমাধান করে নেয়। তাকে ঠেকানোর মতো কেউ নাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বারবার বলার পরেও কোন কাজ হচ্ছেনা। এতোকিছুর পরও হারুন বহল তবিয়তে তার দায়িত্বে আছে ।

অভিযুক্ত হারুন রশীদ রানার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো মিথ্যা। আমার সম্পত্তি রয়েছে আলাদা উৎস রয়েছে। কিন্তু উৎসের কথা জানতে চাইলে সাংবাদিককে সরাসরি দেখা করার আদেশও দেন অভিযুক্ত হারুন।

Không có bình luận nào được tìm thấy


News Card Generator