টানা আট দিন ধরে চলমান আন্দোলনের মুখে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য বাড়িভাড়া বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, শিক্ষকদের বাড়িভাতা ৫ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন দুই হাজার টাকা হারে নির্ধারণ করা হয়েছে।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি ও রাজপথের আন্দোলনের মুখে এই সরকারি সিদ্ধান্ত এল। রোববার (১৯ অক্টোবর) সকালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রবিধি অনুবিভাগের উপসচিব মরিয়ম মিতুর সই করা প্রজ্ঞাপনে এই নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এই প্রজ্ঞাপন জারির ফলে শিক্ষকদের আন্দোলনের প্রথমিক একটি দাবি পূরণ হলো।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। তাদের দাবি ছিল, সরকারি শিক্ষকদের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হোক।
যদিও শিক্ষকদের দাবি ছিল বাড়িভাতার পরিমাণ আরও বেশি হোক, তবুও ৫ শতাংশ বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত আন্দোলনরত শিক্ষকদের জন্য একটি প্রাথমিক স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা কিছুটা হলেও লাঘব করবে।
শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের এই সিদ্ধান্তকে তারা সাধুবাদ জানাচ্ছেন। তবে, তাদের অন্যান্য দাবি, যেমন চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। ফলে এই প্রজ্ঞাপন জারির পর তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সে বিষয়ে তারা আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেন।
এদিকে, শিক্ষাবিদ ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শিক্ষকদের জন্য সামান্য হলেও এই অর্থনৈতিক সুবিধা বৃদ্ধি শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষকদের পেশায় ধরে রাখতে সহায়ক হবে। তবে, শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে এই খাতটিতে আরও সুদূরপ্রসারী বিনিয়োগ প্রয়োজন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই প্রজ্ঞাপন শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার মুখে এক প্রাথমিক স্বস্তি আনলেও, জাতীয়করণসহ অন্যান্য মূল দাবি পূরণে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে আছেন শিক্ষকরা।