চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষে আহতদের খোঁজ নিতে সোমবার রাতেই চমেক হাসপাতালে পৌঁছান ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সংঘর্ষের ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীদের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে এবং তাদের চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ছুটে যান। রাত ১১টার কিছু পর হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে তিনি একে একে আহত শিক্ষার্থীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিদর্শনের সময় উপদেষ্টা বলেন, “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে জ্ঞান ও শিক্ষার কেন্দ্র। এখানে এ ধরনের সহিংসতা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক। কোনো দুষ্কৃতিকারী যেন এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চক্রান্তের সুযোগ না পায়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।” তিনি আহতদের চিকিৎসা নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগের জবাবে আশ্বস্ত করে জানান, সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন চিকিৎসকদের প্রতিও আহ্বান জানান, যেন আহত শিক্ষার্থীরা দ্রুত সেবা পান এবং কোনো অবহেলা না ঘটে। এ সময় তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা দেন যাতে প্রত্যেক আহত শিক্ষার্থীকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনার দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে বলেও উপদেষ্টা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা হচ্ছে দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের নিরাপত্তা ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। যারা এ অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
হাসপাতাল পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন, অতিরিক্ত পরিচালক (প্রশাসন) ডা. কাজী সাইফুল ইসলাম আজিম, অতিরিক্ত পরিচালক (ফিন্যান্স) ডা. দেবপ্রসাদ চক্রবর্তী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাঈদ আহসান খালিদ। তারা সবাই মিলে আহত শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
উল্লেখ্য, ধর্ম উপদেষ্টা বর্তমানে দুই দিনের সরকারি সফরে চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন। সফরের মাঝেই বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের খবর পেয়ে তিনি সরাসরি হাসপাতালে গিয়ে আহতদের দেখতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা এ ঘটনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা নৈতিকভাবে সাহস পাচ্ছে এবং ন্যায়বিচারের আশ্বাস পাচ্ছে।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা জানিয়েছে, কারা এই সহিংসতায় জড়িত তা তদন্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
চট্টগ্রামবাসী আশা করছে, এ ধরনের সংঘর্ষ আর হবে না এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে। উপদেষ্টার সফর শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন বার্তা হয়ে এসেছে যে, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার অটুট।