৮০০ বছর ধরে শক্তি জমছে নরসিংদী অঞ্চলে, বড় ভূমিকম্পের আশংকা..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
৮০০ বছর ধরে শক্তি জমছে নরসিংদী অঞ্চলে, বড় ভূমিকম্পের আশংকা..
৮০০ বছর ধরে শক্তি জমছে নরসিংদী অঞ্চলে, বড় ভূমিকম্পের আশংকা..
Recent tremors in Narsingdi signal a major catastrophe; Dhaka is at risk of becoming a death trap.

নরসিংদীর সাম্প্রতিক ভূমিকম্প বড় বিপদের অশনি সংকেত; ঢাকা হতে পারে মৃত্যুপুরী।

মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)

সরাসরি কেনাকাটা করুন
সবগুলো দেখুন

ঢাকার উপকণ্ঠ নরসিংদীর মাধবদী অঞ্চল থেকে উৎপত্তি হওয়া ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প পুরো দেশকে কাঁপিয়ে দেওয়ার পর, এখন ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগজনক পূর্বাভাসে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। দেশি-বিদেশি সংস্থাগুলির তথ্যানুযায়ী, ঢাকা থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরত্বে মাটির ১০ কিলোমিটার গভীরে শক্তির যে সঞ্চয় ঘটছিল, তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই কম্পনের মধ্য দিয়ে। প্রাথমিক কম্পনে অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর ও পাঁচ শতাধিক আহতের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়েছে।

শুক্রবার প্রথম কম্পনের পর শনিবার একই এলাকায় ৩.৩ ও ৪.৩ মাত্রার আরও দুটি কম্পন অনুভূত হওয়া বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিনের জমে থাকা শক্তির বহিঃপ্রকাশের দিকে ইঙ্গিত করছেন। প্রশ্ন উঠেছে, মাধবদীর মতো অঞ্চলে, যা সাধারণত বড় ভূমিকম্পের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত নয়, কেন হঠাৎ এমন শক্তিশালী কম্পনের জন্ম হলো?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞ সৈয়দ হুমায়ুন আখতারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই কম্পনের উৎস হলো ইন্ডিয়ান প্লেট ও বার্মিজ প্লেটের অবস্থান পরিবর্তন। এই দুই টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে দীর্ঘ ৮০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে শক্তি জমা হচ্ছে। প্লেটগুলো একে অপরকে ধাক্কা দেওয়া বা ফাটল সৃষ্টির মাধ্যমে শক্তি সঞ্চয় করে এবং যখন তা শিলাস্তরের ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে যায়, তখনই ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়।

অধ্যাপক আখতারের মতে, নরসিংদীর মাধবদীতে প্লেট বাউন্ডারির যে 'লকড' অংশটি ছিল, তার অতি সামান্য ক্ষুদ্রাংশ খুলে যাওয়ায় শুক্রবারের কম্পনটি হয়েছে। এটিই প্রমাণ করে যে, একটি বিরাট ভূমিকম্প আমাদের দোরগোড়ায়। মাধবদীর এই সামান্য শক্তি নির্গমনের ফলে সামনের দিনে প্লেটের মূল অংশ থেকে আরও সহজে বড় আকারের শক্তি বেরিয়ে আসার পথ তৈরি হলো।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দুই প্লেটের সংযোগস্থলে বর্তমানে ৮.২ থেকে ৯ মাত্রার ভূকম্পন তৈরি করার মতো বিপুল পরিমাণ শক্তি জমা হয়ে আছে। অধ্যাপক আখতারের কঠোর হুঁশিয়ারি: "এই শক্তি বের হবেই।" আর যদি সেটি হয়, তবে অপরিকল্পিত নগরায়ণের ঢাকা নগরী 'মৃত্যুপুরী'তে পরিণত হওয়ার চরম ঝুঁকি রয়েছে। তাই আর কোনো অবহেলা না করে সরকারের উচিত দ্রুত কার্যকর ও প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া।

অতীতের দিকে তাকালে দেখা যায়, বাংলাদেশের এই অঞ্চলে বড় মাত্রার ভূমিকম্প নতুন নয়। ১৭৬২ সালে ৮.৫ মাত্রার কম্পনে সেন্টমার্টিন দ্বীপ তিন মিটার উপরে উঠে এসেছিল। ১৮৯৭ সালে ডাউকি ফল্টে হয়েছিল ৮.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, যা নদীপথও বদলে দিয়েছিল। এসব অতীত দৃষ্টান্ত সামনে রেখে বিশেষজ্ঞদের শেষ সতর্কবার্তা—দুটি ভূমিকম্প উৎসের (সিলেট-চট্টগ্রাম) বাইরেও এই নতুন উৎসের কারণে ঢাকার বিপর্যয়ের আশংকা এখন অত্যন্ত জোরালো।

No comments found


News Card Generator