রিপোর্ট: রত্না বেগম
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
মাত্র কয়েক হাজার টাকার ব্যাটারি আর সামান্য কিছু আর্থিক লেনদেনের বিরোধ! আর তাতেই প্রাণ গেল ২২ বছরের তরুণ অটোরিকশা চালক সারোয়ার হোসেনের। বিশ্বাস করে বন্ধুদের সাথে গিয়েই নিজের জীবন প্রদীপ নিভে গেল তার। নরসিংদীর নজরপুরে ঘটে যাওয়া এই লোমহর্ষক ক্লু-লেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদঘাটন করেছে পুলিশ। একই সাথে গ্রেপ্তার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত দুই পাষণ্ডকে।
সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. কলিমুল্লাহ।
নিহত সারোয়ার হোসেন নেত্রকোনার কেন্দুয়া থেকে এসে পরিবারের সাথে নরসিংদী শহরের টাওয়াদী এলাকায় ভাড়া থাকতেন। পেশায় ছিলেন একজন অটোরিকশা চালক। গত ১৩ জুন রাতে তিনি নিখোঁজ হন। এরপর ১৪ জুন দিবাগত রাত সাড়ে বারোটার দিকে নজরপুর ইউনিয়নের চম্পকনগর গ্রামের বেড়িবাঁধ এলাকায় একটি অজ্ঞাত গলাকাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা।
"লাশ উদ্ধারের সময় পুলিশের কাছে কোনো ক্লু ছিল না। কিন্তু আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও সুচারু গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে পুলিশ দ্রুতই ঘাতকদের অবয়ব চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়।"
গ্রেপ্তারকৃত মূলহোতা মো. আনোয়ার হোসেন (২৭) এবং তার সহযোগী আশিককে (২১) আটকের পর জেরার মুখে বেরিয়ে আসে খুনের রোমহর্ষক বর্ণনা।
পুলিশ জানায়, সারোয়ারের সাথে আনোয়ারের আগে থেকেই কিছু আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ ছিল।
গত ১৩ জুন রাতে সারোয়ারকে কৌশলে ফুসলিয়ে নির্জন বেড়িবাঁধ এলাকায় নিয়ে যায় আনোয়ার ও আশিক। সেখানে সুযোগ বুঝে সারোয়ারকে ঝাপটে ধরে নির্মমভাবে গলাকেটে হত্যা করে লাশ ফেলে রাখা হয়। খুনের নৃশংসতা এখানেই শেষ নয়। প্রমাণ লোপাট ও চুরির উদ্দেশ্যে সারোয়ারের অটোরিকশার ব্যাটারিগুলো খুলে নিয়ে তারা অন্যত্র বিক্রি করে দেয়।
নিহত সারোয়ারের বাবা হাজি রহমান বাদী হয়ে নরসিংদী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ আসামিদের আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন জানালে, আদালত মূল পরিকল্পনাকারী আনোয়ারের ৩ দিন এবং সহযোগী আশিকের ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।