২১ ঘণ্টার বৈঠকে ১২ বার ট্রাম্পকে ফোন করেছিলেন ভ্যান্স: নেপথ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য..

আব্দুল্লাহ আল মামুন avatar   
আব্দুল্লাহ আল মামুন
জানা গেছে, টানা ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অন্তত ১২ বার সরাসরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করেছিলেন।..

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনা কেন কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলো, তা নিয়ে নতুন নতুন তথ্য বেরিয়ে আসছে। জানা গেছে, টানা ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অন্তত ১২ বার সরাসরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করেছিলেন। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এবং শর্ত পরিবর্তনের আগে ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশনা নিয়েছিলেন তিনি।

১. ‘ম্যাক্সিমাম প্রেসার’ ও ট্রাম্পের কঠোর নজরদারি

আলোচনা সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে যুগান্তর জানিয়েছে, শনিবার শুরু হওয়া এই বৈঠকে জেডি ভ্যান্স কোনো সিদ্ধান্তই এককভাবে নেননি। বৈঠকের প্রতিটি পর্যায়ে বিশেষ করে হরমোজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এবং ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যু যখনই টেবিলে এসেছে, তখনই তিনি ট্রাম্পের সাথে পরামর্শ করেছেন। ট্রাম্প তাকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, ইরানের পক্ষ থেকে ‘পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের’ শতভাগ নিশ্চয়তা না পেলে কোনো ধরনের নমনীয়তা দেখানো যাবে না।

২. কেন এই বারবার ফোন?

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বারবার ফোনে কথা বলার মূল কারণ ছিল ট্রাম্পের ‘ম্যাক্সিমাম প্রেসার’ নীতি বজায় রাখা।

  • চূড়ান্ত প্রস্তাব: ভ্যান্স যখন ইরানকে ‘সেরা ও চূড়ান্ত’ (Final and Best Offer) প্রস্তাবটি দিচ্ছিলেন, তার ঠিক আগেই তিনি হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে থাকা ট্রাম্পের সাথে কয়েক মিনিট কথা বলেন।

  • অনড় অবস্থান: ইরান যখন হরমোজ প্রণালীতে টোল আদায়ের দাবিতে অনড় থাকে, তখন ট্রাম্প ফোনে ভ্যান্সকে নির্দেশ দেন আলোচনা থেকে বেরিয়ে আসার প্রস্তুতি নিতে।

৩. ইরানি প্রতিনিধি দলের পর্যবেক্ষণ

ইরানের প্রতিনিধি দল এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন। তারা অভিযোগ করেছেন যে, আমেরিকার প্রতিনিধি দলটি আলোচনার টেবিলে বসেও স্বাধীনভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছিল না। প্রতিটি ছোটখাটো বিষয়ে ট্রাম্পের সম্মতির জন্য অপেক্ষা করার ফলে আলোচনার গতি বারবার ব্যাহত হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।

৪. ব্যর্থতার নেপথ্যে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি

অনেকে মনে করছেন, আসন্ন মার্কিন নির্বাচনের আগে ট্রাম্প ইরানের সাথে কোনো ‘দুর্বল’ চুক্তিতে যেতে চাননি। তাই তিনি ব্যক্তিগতভাবে বৈঠকের প্রতিমুহূর্ত তদারকি করেছেন যাতে ভ্যান্স কোনো ধরনের নমনীয়তা না দেখান। ট্রাম্পের এই অনড় মনোভাবই শেষ পর্যন্ত ‘ইসলামাবাদ টকস’ ভেঙে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২১ ঘণ্টার বৈঠকে ১২ বার ফোন করার এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতি বর্তমানে পুরোপুরি হোয়াইট হাউসের একক নিয়ন্ত্রণে। এই অতিরিক্ত সতর্কতাই কি শান্তির সুযোগ হাতছাড়া করল, নাকি বড় কোনো সামরিক অভিযানের পথ প্রশস্ত করল—তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে এখন চলছে গভীর বিশ্লেষণ।

No comments found


News Card Generator