মোংলা পৌর কবরস্থানের গোরখোদক মুজিবর, বারেক ও রমজান জানান, আমরা ১৮/২০ বছর ধরে কবর খনন করি। কিন্তু একদিনে এমন ৯টি কবর কোনদিন এর আগে খনন করিনি। জীবনে প্রথম আজ খনন করেছি, তা আবার এক পরিবারের ৯ জনের। তাই ৯টা কবরই এক জায়গায় পাশাপাশি। এমন ঘটনা অত্যান্ত দুঃখজনক, যা কোনভাবে মেনে নেয়া সম্ভব নয়। পাশাপাশি ৯টি কবর খুঁড়তে গিয়ে হাত কাঁপছিল। খুব কষ্ট লাগছিল।তিনি আরও জানান, পরিবারের সম্মতিতেই একই জায়গায় পাশাপাশি কবরগুলো খোঁড়া হয়েছে, যাতে স্বজনরা একই স্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত থাকতে পারেন।
‘১৮ থেকে ২০ বছর ধরে কাজ করি, এই প্রথম একসঙ্গে ৯টি কবর খুঁড়লাম’

বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনা নিহত একই পরিবারের ৯ সদস্যদের দাফনের জন্য খোঁড়া কবর
আবুল হাসান, মোংলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫:২৪, ১৩ মার্চ ২০২৬| আপডেট: ১৫:৩৪, ১৩ মার্চ ২০২৬
জীবনে প্রথম একদিনে একসঙ্গে ৯টি কবর খুঁড়লেন মোংলা পৌর কবরস্থানের গোরখোদক মুজিবর, বারেক ও রমজান। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে তারা এ কবর খনন শুরু করেন। দুপুরের আগেই তারা একে একে খনন করেন ৯টি কবর। তার মধ্যে রয়েছে ৭টি বড় ও ২টি শিশু বাচ্চার কবর।
মোংলা পৌর কবরস্থানের গোরখোদক মুজিবর, বারেক ও রমজান জানান, আমরা ১৮/২০ বছর ধরে কবর খনন করি। কিন্তু একদিনে এমন ৯টি কবর কোনদিন এর আগে খনন করিনি। জীবনে প্রথম আজ খনন করেছি, তা আবার এক পরিবারের ৯ জনের। তাই ৯টা কবরই এক জায়গায় পাশাপাশি। এমন ঘটনা অত্যান্ত দুঃখজনক, যা কোনভাবে মেনে নেয়া সম্ভব নয়। পাশাপাশি ৯টি কবর খুঁড়তে গিয়ে হাত কাঁপছিল। খুব কষ্ট লাগছিল।
তিনি আরও জানান, পরিবারের সম্মতিতেই একই জায়গায় পাশাপাশি কবরগুলো খোঁড়া হয়েছে, যাতে স্বজনরা একই স্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত থাকতে পারেন।
বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিচয় মিলেছে
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মোংলার সাত্তার লেনের বাসিন্দা আঃ রাজ্জাক পরিবারের ৯ জন নিহত হয়। রাতে তাদের লাশ বাড়িতে আনা হয়। এরপর প্রস্তুতি নেয়া হয় গোসল, জানাজা ও দাফনের। পরিবারের ইচ্ছায় পৌর কবরস্থানে তাদেরকে দাফন করা হবে।
নিহত আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ভাই মো. সাজ্জাদ সরদার জানান, রাজ্জাক ভাই ছেলের বিয়ে দিয়ে নতুন বউ ঘরে তুলবেন এই আনন্দ নিয়ে সবাই ছিলাম। কিন্তু সেই আনন্দের বিয়েই আজ পুরো পরিবারকে শেষ করে দিল।
প্রসঙ্গত, গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে বাগেরহাটের রামপালে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে মাইক্রোবাস ও বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের ১১ জনসহ ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বাগেরহাটের মোংলা পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, তার স্ত্রী, ৩ ছেলে, ২ মেয়ে, ৪ নাতি, কনে ও তার এক স্বজনসহ ১২ জন ও মাইক্রোবাসের চালক।
জানা যায়, খুলনার কয়রা উপজেলার নাকসা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মার্জিয়া আক্তারের (মিতু) সঙ্গে বিয়ে হয় মোংলা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে আহাদুর রহমানের (সাব্বির)। বিয়ের পর বর-কনেসহ দুই পরিবারের সদস্যরা মাইক্রোবাসে ফিরছিলেন। এরপর মাইক্রোবাসটি রামপাল উপজেলার বেলাইবিজ এলাকায় বিপরীত দিক দিয়ে আসা বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।



















