বিএনপির কাউন্সিলে সা.সম্পাদক পদে চার হেভিওয়েট নেতার দৌড়ঝাঁপ..

Juwel Hossain avatar   
Juwel Hossain
বিএনপির কাউন্সিলে সা.সম্পাদক পদে চার হেভিওয়েট নেতার দৌড়ঝাঁপ..
বিএনপির কাউন্সিলে সা.সম্পাদক পদে চার হেভিওয়েট নেতার দৌড়ঝাঁপ..
ছবি: সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জ জেলা কাউন্সিলের চূড়ান্ত তারিখ ও সিদ্ধান্তের দিকে এখন নজর সিরাজগঞ্জের সর্বস্তরের বিএনপি নেতাকর্মীদের।..

আসন্ন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-হামলা, কারাবরণ ও তৃণমূলের রাজনীতিতে পরীক্ষিত চার হেভিওয়েট নেতা দলের গুরুত্বপূর্ণ 'সাধারণ সম্পাদক' পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

প্রার্থীরা হলেন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইদুর রহমান বাচ্চু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল হাসান রঞ্জন, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান এবং অপর সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আবু সাঈদ সুইট। দলের দুঃসময়ে রাজপথের ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও ত্যাগের খতিয়ান তুলে ধরে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সমর্থন আদায়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন এই চার শীর্ষ নেতা।

জেলা বিএনপির অন্যতম জ্যেষ্ঠ শীর্ষ নেতা সাইদুর রহমান বাচ্চু। প্রায় চার দশকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি ১৯৮৮–৮৯ ও ১৯৮৯–৯০ মেয়াদে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস এবং ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন।

২০০৩ সালে মূল দলে যোগ দিয়ে শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১৬ সালে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বাচ্চুর বিরুদ্ধে প্রায় ৬৮টি রাজনৈতিক মামলা রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে বন্যা ও দুর্যোগে ত্রাণ এবং সামাজিক কার্যক্রমে তাঁর প্রত্যক্ষ উপস্থিতি তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে এক জনপ্রিয় মুখ হিসেবে গড়ে তুলেছে।

অন্যদিকে ছাত্র রাজনীতির উত্তাল সময় থেকে সক্রিয় রাশেদুল হাসান রঞ্জন চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় পাবনা কারাগারে ৯ মাসসহ মোট ৬ বার এবং পরবর্তীতে মোট ২১ বার কারাবরণ করেন তিনি। তিনি সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের দুইবার এজিএস, একবার জিএস এবং দীর্ঘ ১২ বছর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে দুই শতাধিক মামলার মুখোমুখি হওয়ার কথা উল্লেখ করে রঞ্জন জানান, রাজনৈতিক জীবনে কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ড বা চাঁদাবাজির দাগ তাঁর গায়ে লাগেনি। আগামী দিনের সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেকে সাধারণ সম্পাদক পদে একজন যোগ্য ও ত্যাগী প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরছেন তিনি।

এদিকে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম মির্জা মোরাদুজ্জামানের সন্তান মির্জা মোস্তফা জামান। ১৯৯০-এর এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে সক্রিয় পথচলা শুরু করে পরবর্তীতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এবং বর্তমানে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে ৪০টি রাজনৈতিক মামলা রয়েছে।

২০০৭ সালে রাজনৈতিক হামলার শিকার হয়ে দীর্ঘদিন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সামনের সারিতে থাকা এই নেতা উচ্চশিক্ষিত ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে যুক্ত। শহীদ জিয়ার আদর্শ ও পিতার দেখানো পথ অনুসরণ করে তৃণমূল নেতাকর্মীদের আস্থার প্রতীক হিসেবে নিজেকে সাধারণ সম্পাদক পদের শক্ত দাবিদার মনে করেন তিনি।

ইতোমধ্যে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আবু সাঈদ সুইট সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সাধারণ সম্পাদক পদে তাঁর প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন। সিরাজগঞ্জ বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা মরহুম আব্দুস সালাম তালুকদারের সন্তান সুইট এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় ১০ মাস ডিটেনশনে থাকা সহ পরবর্তীতে একাধিকবার কারাবরণ করেন।

পূর্বে প্রত্যক্ষ ভোটে সিরাজগঞ্জ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি নির্বাচিত হয়ে তিনি সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দেন। ক্রীড়া ও সামাজিক অঙ্গনে সুপরিচিত সুইট বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নেতৃত্বে দলকে ইস্পাতকঠিন ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

সিরাজগঞ্জ জেলা কাউন্সিলের চূড়ান্ত তারিখ ও সিদ্ধান্তের দিকে এখন নজর সিরাজগঞ্জের সর্বস্তরের বিএনপি নেতাকর্মীদের। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিগত দিনের রাজপথের ত্যাগ, মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং সাংগঠনিক নেতৃত্বের দক্ষতার ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হবে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির আগামী দিনের নতুন কান্ডারি।

No se encontraron comentarios


News Card Generator