প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী সতীশ চন্দ্র রায়ের প্রয়াণ: দিনাজপুরের রাজনীতিতে এক যুগের অবসান.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী সতীশ চন্দ্র রায়ের প্রয়াণ: দিনাজপুরের রাজনীতিতে এক যুগের অবসান..

Abu Rayhan avatar   
Abu Rayhan
প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী সতীশ চন্দ্র রায়ের প্রয়াণ: দিনাজপুরের রাজনীতিতে এক যুগের অবসান..
প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী সতীশ চন্দ্র রায়ের প্রয়াণ: দিনাজপুরের রাজনীতিতে এক যুগের অবসান..
ছবি: সংগৃহীত

দিনাজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী সতীশ চন্দ্র রায় বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।..

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রবীণ ব্যক্তিত্ব এবং দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বাবু সতীশ চন্দ্র রায় আজ মঙ্গলবার রাত ১০টা ০৫ মিনিটে পরলোকগমন করেছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, গত বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন। তার মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে দিনাজপুরসহ সারা দেশের রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে। একজন নিবেদিতপ্রাণ জননেতা হিসেবে তার প্রস্থান স্থানীয় রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে, যা পূরণ হওয়ার নয়। তার মৃত্যুকালে বয়স ও অন্যান্য শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় চিকিৎসকরা তাকে দীর্ঘ সময় নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

সতীশ চন্দ্র রায়ের মৃত্যুতে তার নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীরা গভীরভাবে শোকাহত। বিরল এবং বোচাগঞ্জ উপজেলার তৃণমূল মানুষের কাছে তিনি ছিলেন এক আস্থার প্রতীক, যিনি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে উন্নয়নের চেয়েও মানুষের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, তিনি কেবল একজন মন্ত্রীই ছিলেন না, বরং বিপদের দিনে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এক অভিভাবক ছিলেন। স্থানীয় একজন রাজনৈতিক কর্মী আক্ষেপ করে বলেন, তিনি আমাদের এলাকার উন্নয়নে যে ভিত্তি স্থাপন করে দিয়ে গেছেন, তা বর্তমান প্রজন্মের রাজনীতিবিদের জন্য অনুকরণীয়। তার বিদায়ে সাধারণ মানুষ কেবল একজন দক্ষ প্রশাসককেই হারায়নি, বরং হারিয়েছে এমন একজন নেতাকে যার কাছে যেকোনো সময় সাধারণ মানুষ তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা বলতে পারত। তার প্রয়াণে এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠ থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্ম পর্যন্ত সবাই শোকস্তব্ধ, কারণ তিনি ছিলেন স্থানীয় রাজনীতির স্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।

এদিকে প্রবীণ এই রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে শোকের মাতম চলছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে। স্থানীয় প্রশাসন এবং রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পৃথক শোকবার্তায় তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। বিরল প্রেস ক্লাব ও স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলোও তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, সতীশ চন্দ্র রায়ের মতো ত্যাগী নেতাদের জীবন ও কর্ম থেকে বর্তমান প্রজন্মের রাজনীতিকদের শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তার শেষকৃত্য ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। যদিও রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা থাকে, তবুও মৃত্যুর এই চরম মুহূর্তে সকল দলের প্রতিনিধিরা তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছেন, যা তার ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতারই প্রমাণ বহন করে। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে শোকাবহ পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতৃবৃন্দ যৌথভাবে শোক পালন কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন।

সতীশ চন্দ্র রায়ের প্রস্থান দিনাজপুরসহ জাতীয় রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি করেছে, যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হবে। একজন দক্ষ পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে তিনি যে আদর্শ রেখে গেছেন, তা ভবিষ্যতে গণমুখী রাজনীতির ক্ষেত্রে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। তার মৃত্যুতে কেবল তার পরিবারেরই ক্ষতি হয়নি, বরং দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এক অভিজ্ঞ নক্ষত্রের পতন ঘটল। সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও সেবার মানোন্নয়নে তিনি যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়ন করাই হবে তার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা। তার মৃত্যু পরবর্তী সময়ে স্থানীয় রাজনীতিতে নেতৃত্বের যে সংকট তৈরি হতে পারে, তা কাটিয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ এখন তার অনুসারীদের ওপরই বর্তাবে। সামগ্রিকভাবে, তার বিদায়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল, যার রেশ রয়ে যাবে দীর্ঘ সময়।

Nema komentara


News Card Generator