দুপচাঁচিয়ায় মনসা পূজা অনুষ্ঠিত | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

দুপচাঁচিয়ায় মনসা পূজা অনুষ্ঠিত

Sushanto Malakar avatar   
Sushanto Malakar
দুপচাঁচিয়ায় মনসা পূজা অনুষ্ঠিত
দুপচাঁচিয়ায় মনসা পূজা অনুষ্ঠিত
ছবি: সংগৃহীত

সুশান্ত মালাকার নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

 
 
 
 
মা মনসা হিন্দু ধর্মের লৌকিক সর্পদেবী। হিন্দু পুরাণের দেবীদের মধ্যে মনসা অগ্রগন্য। মধ্য যুগের মা মনসা কাব্য থেকে দেবী মনসার পরিচয় পাওয়া যায়। ভক্তদের কাছে মা মনসা বিষহরি নামে পরিচিত। বর্ষাকালে সাপের বিচরন বেরে যায়, তাই সর্প দংশন প্রতিরোধ করতে ও সাপের বিষ হতে রক্ষা পেতে শ্রাবন মাসের সংক্রান্তিতে (শ্রাবন মাসের শেষ দিন) মা মনসার পুজা করা হয়। এছাড়াও ধন সম্পদ, সন্তান লাভের জন্যও মা মনসার পুজা করে থাকেন হিন্দু সম্প্রদায়। পঞ্জিকা মতে, হিন্দু ধর্মালম্বীরা শ্রাবন মধ্য যুগ থেকে মা মনসার পুজা করে আসছে। পূর্ব পুরুষদের সেই ধারাবাহিকতায় আজও বিশ্বের সকল হিন্দু সম্প্রদায়ের সাথে একযোগে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা সদর কালীবাড়ি কেন্দ্রীয় মহাশ্মশান ও কইল মালাকার বাড়ি সহ উপজেলার প্রতিটি গ্রামের পরিবারে শ্রাবন সংক্রান্তি ( ৩২ শ্রাবন/ ১৮ আগষ্ঠ/ মঙ্গলবার) সারাদিন ব্যাপী মা মনসা দেবীর পুজা অনুষ্ঠিত হয়। দুপচাঁচিয়া  উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রী অসিম কুমার দাস জানান,সর্পজাতির পিতা কশ্যপমুনির সন্তান হিসেবে মা মনসাকে কল্পনা করেন অনেকেই। মূলতঃ মঙ্গল কাব্যে বলা হয়েছে যে, মনসার পিতা হলো দেবাদিদেব মহাদেব শিব। একবার নাগমাতা কদরু একটি বালিকার মূর্তি নির্মান করেছিলেন, সেই মূর্হতেই মহাদেব শিবের রশ্মি নির্গত হলে তা থেকে মনসার জন্ম হয়েছিল। এরপর নাগরাজ বাসকী তাকে ভগিনী বলে শিকার করে নেয় এবং ছোট বেলা থেকেই মা মনসাকে লালন পালন করে এসেছে। দেবদিদেব মহাদেব বলেছিল যদি চাঁদসওদাগর মনসার পুজা করতে রাজি হয় তবেই পৃথিবীতে মনসা প্রচলিত হবে। কিন্তু চাঁদসওদাগর কোন ভাবেই মনসা পুজা করতে রাজি হয় না। এক পর্যায়ে মা মনসা পুজা আদায়ের জন্য চাঁদসওদাগরের ৬ পুত্রকে হত্যা এবং ধনসম্পদ থেকে নিঃস্ব করেন। বেহুলা-লক্ষিন্দর কাহিনী এর অংশ। লক্ষিন্দরের স্ত্রী বেহুলা ছিল মনসার পরমভক্ত। অনেক চেষ্টা করে বেহুলা চাঁদসওদাগরকে মনসা পুজা করাতে রাজি করেন। চাঁদসওদাগর মনসার দিকে না তাকিয়ে বাম হাত দিয়ে ফুল ছুরে দেন মনসার দিকে। মনসাদেবী তাতেই খশি হয়ে লক্ষিন্দর সহ চাঁদসওদাগরের ৬ পুত্রকে জীবিত করেন এবং সব ধনসম্পদ ফিরিয়ে দেন। এরপরই মনসা পুজা জনপ্রিয় হয়ে উঠে। সেই তখন থেকেই প্রতিবছর হিন্দুধর্মালম্বীরা শ্রাবন মাসের সংক্রান্তি অর্থাৎ (শেষ দিন) মা মানসা পুজা করে আসছে।
 
সুশান্ত মালাকার দুপচাঁচিয়া থেকে 
 
कोई टिप्पणी नहीं मिली


News Card Generator