জমি বিরোধের জেরে সাতক্ষীরায় ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: avatar   
জমি বিরোধের জেরে সাতক্ষীরায় ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার
জমি বিরোধের জেরে সাতক্ষীরায় ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরার আশাশুনিতে জমি বিরোধের জেরে নিখোঁজ ব্যবসায়ী কালাম সরদারের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা:

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কুল্ল্যা ইউনিয়নের আগরদাঁড়ি গ্রামে নিখোঁজের ৩৮ ঘণ্টা পর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কালাম সরদারের (৬০) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে তার বড় ভাই নূর ইসলামের বাড়ির পিছন থেকে কাদামাখা অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়।

মৃত কালাম সরদার ছিলেন আশাশুনি উপজেলার আগরদাঁড়ি গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় ফল ব্যবসায়ী। তিনি গ্রামে গ্রামে ফল কিনে বাজারে বিক্রি করতেন। তার ছেলে গোলাম কিবরিয়া গোল্ডেন জানান, পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত আট শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তার বড় চাচা নূর ইসলামের সাথে বিরোধ চলছিল। নূর ইসলাম জমিটি তার দাবি করে ২০২৪ সালে আশাশুনি সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকে জমি নিয়ে বিরোধ তীব্রতর হয়।

গত শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কালাম সরদার পার্শ্ববর্তী মোড়ে চা খাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন এবং আর ফেরেননি। তার পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও তার কোনো সন্ধান পাননি। সোমবার সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য আঙুর হোসেনের পরামর্শে থানায় সাধারণ ডায়েরী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এরই মধ্যে প্রতিবেশী চাচা গিয়াউদ্দিনের স্ত্রী সালেহা খাতুন বাড়ির পিছনে তার বাবার লাশ দেখতে পেয়ে খবর দেন। পুলিশকে অবহিত করা হলে দুপুর আড়াইটার দিকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। গোলাম কিবরিয়া গোল্ডেন আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, জমি নিয়ে বিরোধের জেরেই তার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে।

আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম আহম্মেদ খান জানান, কালাম সরদারের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে না। ঘটনাস্থলে দেবহাটা সার্কেল অফিসারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেছেন।

স্থানীয়দের মতে, জমি নিয়ে বিরোধের কারণে কালাম সরদারের মৃত্যুর ঘটনা একটি সতর্কবার্তা হতে পারে। এ ধরনের বিরোধের সমাধানে সামাজিক উদ্যোগ এবং আইনি সহায়তা জরুরি হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দ্রুত এবং সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে স্থানীয় জনসাধারণ।

No se encontraron comentarios


News Card Generator