ভূরুঙ্গামারীতে জমি বিরোধে সহিদুল হত্যার ঘটনায় ১৭ জন গ্রেপ্তার..

Md Minhajul Islam avatar   
Md Minhajul Islam
ভূরুঙ্গামারীতে জমি বিরোধে সহিদুল হত্যার ঘটনায়  ১৭ জন গ্রেপ্তার..
ভূরুঙ্গামারীতে জমি বিরোধে সহিদুল হত্যার ঘটনায়  ১৭ জন গ্রেপ্তার..
ছবি: সংগৃহীত

****

মোঃ মিনহাজুল ইসলাম 

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ

 

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে মাত্র ৮ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সহিদুল ইসলাম (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ২টার দিকে উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের রায়গঞ্জ ব্রিজসংলগ্ন খামার আন্ধারীঝাড় কানিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

নিহত সহিদুল ইসলাম ওই এলাকার আব্দুল শেখের ছেলে।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আব্দুল শেখ ও শুক্কুর আলীর মধ্যে প্রায় ৮ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে এর আগে স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সালিশ এবং ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে শুনানির চেষ্টা করা হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি।

 

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সোমবার দুপুরে শুক্কুর আলীসহ কয়েকজন বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে হালচাষ করে রোপা আমন রোপণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় আব্দুল শেখের ছেলে সহিদুল ইসলাম ও তার স্বজনেরা সেখানে গিয়ে বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

 

সংঘর্ষের সময় সহিদুল ইসলামকে মাছ ধরার সরঞ্জাম কোঁচ দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

 

সংঘর্ষের খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশের একটি দল এবং ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। পরে তাৎক্ষণিক সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে মারামারি ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ জনকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়।

 

ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ ছিল। এই বিরোধ আজ মারাত্মক সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং একজন ব্যক্তি নিহত হন। আমরা বিবাদমান এলাকার পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছি। তাৎক্ষণিকভাবে মারামারি ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। নিহতের পরিবারের কাছ থেকে এজাহার পাওয়া গেলে আসামির সঠিক সংখ্যা নির্ণয় করা সম্ভব হবে। স্থানীয় ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, আরও দুই-তিনজন ব্যক্তি পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

 

সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। নিহতের মরদেহের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator