গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় শিক্ষার পরিবেশ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে গত মঙ্গলবার। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে উপজেলার তুমুলিয়া এলাকার সেন্ট মেরিস গার্লস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং কালীগঞ্জ রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবনের শুভ উদ্বোধন করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় উদ্বোধনী কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ.কে.এম. ফজলুল হক মিলন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.টি.এম. কামরুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। মূলত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করাই ছিল এই সরকারি উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী ও নজরুল বর্ষ উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল আয়োজনের মাধ্যমে পুরো উপজেলা জুড়ে একটি শিক্ষাবান্ধব আবহ তৈরি করা হয়।
নতুন ভবন উদ্বোধনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশে আয়োজিত বিতর্ক প্রতিযোগিতা, পাঠচক্র এবং বই পড়া প্রতিযোগিতা স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহের জন্ম দিয়েছে। সেন্ট মেরিস গার্লস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সিস্টার বীনা স্ত্রীষ্টিনা রোজারিও স্বাগত বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানের নতুন ভবনকে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও এমন সৃজনশীল আয়োজনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে স্কাউট দলের বরণ অনুষ্ঠান, নজরুল সংগীত ও কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের সুপ্ত প্রতিভার পরিচয় দিয়েছে। তবে কেবল একাডেমিক শিক্ষা নয়, বরং মাদকবিরোধী সমাবেশের মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা তৈরির যে উদ্যোগ প্রশাসন গ্রহণ করেছে, তা স্থানীয় অভিভাবক মহলে প্রশংসিত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা মনে করছে, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত নতুন ভবনগুলো তাদের পড়াশোনার মানোন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে এবং নিয়মিত পাঠচক্র ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে কার্যকর প্রভাব ফেলবে।
অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.টি.এম. কামরুল ইসলাম শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেবল ভবন নির্মাণই যথেষ্ট নয়, শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই মূল চ্যালেঞ্জ। জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া আশ্বস্ত করেছেন যে, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে সংসদ সদস্য এ.কে.এম. ফজলুল হক মিলন অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান-বিজ্ঞানের সঙ্গে শিল্প-সংস্কৃতির সমন্বয়ে সমৃদ্ধ হওয়ার পরামর্শ দেন। মাদকবিরোধী সমাবেশের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার যে ডাক দেওয়া হয়েছে, তা স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ। এই আয়োজনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে শিক্ষা খাতের উন্নয়নে প্রশাসনিক সমন্বয়ের একটি ইতিবাচক চিত্র ফুটে উঠেছে।
পরিশেষে, দিনব্যাপী এই আয়োজন কালীগঞ্জের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নতুন ভবন দুটির উদ্বোধন কেবল ইট-পাথরের স্থাপনা নয়, বরং এটি শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক শিক্ষার পথ সুগম করার একটি মাইলফলক। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতার যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক ব্যক্তিত্ব গঠনে সহায়ক হবে। মাদকবিরোধী সচেতনতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার যে অঙ্গীকার এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যক্ত করা হয়েছে, তা ভবিষ্যতে একটি সুস্থ ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা রাখবে। স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের এমন সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে কালীগঞ্জের শিক্ষাব্যবস্থা ক্রমান্বয়ে আরও শক্তিশালী হবে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা এর সুফল ভোগ করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।