About Us
শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১
  • সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম:
KAZI ARIFUL KARIM SOHEL - (Khulna)
প্রকাশ ১৮/০৭/২০২১ ০৪:১২পি এম

খুলনায় ক্লিনিকে নবজাতক বিক্রিকালে গ্রেফতার ১০

খুলনায় ক্লিনিকে নবজাতক বিক্রিকালে গ্রেফতার ১০ Ad Banner
খুলনার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নবজাতক (কন্যাশিশু) বিক্রিকালে ৯ জনকে আটক করেছে র‌্যাব। এ সময় ক্লিনিকটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। নগরীর গল্লামারিতে অননুমোদিত সুন্দরবন ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। র‌্যাব শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের হাতেনাতে গ্রেফতার করে। ক্লিনিকটিতে অবৈধ গর্ভপাত ঘটানো, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখা ও ব্যবহার এবং নামি ডাক্তারদের নাম ব্যবহারেরও অভিযোগ রয়েছে। র‌্যাব-৬-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল রওশনুল ফিরোজ শনিবার দুপুরে প্রেসব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।

র‌্যাব জানায়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সুন্দরবন ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। দীর্ঘদিন ধরেই সেখানে শিশু কেনাবেচা ও অবৈধ গর্ভপাত ঘটানোর মতো কর্মকাণ্ড চলে আসছিল। দুইদিন আগে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ থেকে সোহবান হোসেনের স্ত্রী তমা বেগম (২৫) সুন্দরবন ক্লিনিকে ভর্তি হন। আগের ২টি সন্তান থাকায় স্বামীর অনুপস্থিতিতে এ সন্তান জন্মের পর ক্লিনিকের ঝাড়ুদার রেহেনা ও তার বোন হোসনেয়ারার মাধ্যমে বিক্রির জন্য খরিদ্দার খুঁজতে থাকেন। এই কাজে সার্বিক সহযোগিতা করেন ক্লিনিকের মালিক বেবী মণ্ডল ও তার স্বামী চিকিৎসক পরিচয়দানকারী টি কে মণ্ডল। শুক্রবার সন্ধ্যায় ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ওই নবজাতককে কিনতে যায় সাচিবুনিয়া এলাকার চা বিক্রেতা মজনু-লাজলী দম্পতি। গোপন সংবাদে জানতে পেরে র‌্যাব সেখানে অভিযান চালায় এবং এর সঙ্গে জড়িতদের হাতেনাতে গ্রেফতার করে।

র‌্যাব-৬-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল রওশনুল ফিরোজ বলেন, অভিযান পরিচালনাকালে দেখা যায়, ক্লিনিকটিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুদের মজুত রয়েছে। ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কোনো বৈধ কাগজপত্রও নেই। দীর্ঘদিন ধরে সাইনবোর্ডে খুলনার স্বনামধন্য চিকিৎসকদের নাম ব্যবহার করে বাণিজ্য করে আসার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ক্লিনিকটিতে সব ধরনের অপারেশন করত বাড়ির মালিক বেবী মণ্ডলের স্বামী টি কে মণ্ডল। তার নিজেরও চিকিৎসা শাস্ত্রের ওপর কোনো সনদপত্র নেই। অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গালিব পাশা, খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. সাবরিনা রহমান স্নিগ্ধা। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো-বাগেরহাটের রামপালের রামেশ চন্দ্র রায়ের ছেলে রংধনু আবাসিকের সুন্দরবন ক্লিনিকেন মালিক তুষার কান্তি মণ্ডল (৪৫), তার স্ত্রী বেবী চন্দন রায় (৩২), বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের জিওধরা গ্রামের মৃত আলী আক্কাস হাওলাদারের ছেলে মো. সোহরাব হাওলাদার (৬৫), তার মেয়ে তামান্না তমা (২৬), খুলনার লবণচরার ফাতেমাবাদ এলাকার মৃত আ. খালেকের ছেলে মো. মজুনুর রহমান খান লালু (৪৫), একই এলাকার মো. মহিদুল ইসলাম (২৭), হরিণটানা জয়খালী এলাকার মো. শামীম হোসেন (১৮), ডুমুরিয়ার গজেন্দ্রপুরের মো. মজনুর রহমান লালুর স্ত্রী নবজাতক ক্রেতা মো. লাজলী খাতুন (৩০), একই এলাকার শওকত মোল্লার স্ত্রী মোছা. লাকী আক্তার (৪৮) ও লবণচরার ফাতেমাবাদ এলাকার মো. জাকির হোসেনের স্ত্রী মোছা. হোসনে আরা বেগম (৪৫)।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ