About Us
Md. Rajibul Islam - (Gazipur)
প্রকাশ ১১/০৬/২০২১ ০৬:২২পি এম

আপনার স্ত্রীর যত্ন নিন

আপনার স্ত্রীর যত্ন নিন Ad Banner




সম্পর্কে কীভাবে মধুরতা আসবে তা নির্ভর করে স্বামী তার স্ত্রীকে কীভাবে এবং কতটুকু দেখাশোনা করেন অর্থাৎ  কেয়ার করেন তার ওপর। 

স্বামীর প্রতি স্ত্রীর যেমন দায়িত্ব রয়েছে তেমনি স্ত্রীর প্রতিও স্বামীর সমান দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দায়িত্ব সম্পর্কে আমাদের সমাজ শেখায় শুধু ভরণপোষণ আর ভাত কাপড়৷ না, একদমই না৷ স্ত্রীর ভরণপোষণ দেয়া স্রষ্টা নির্ধারিত, দিতেই হবে৷ ইসলামী শরিয়াহ মতে ওয়াজিব। না দিলে গুনাহগার তো হতেই হবে, আল্লাহর কাছে জবাবদিহিও করতে হবে।  স্ত্রীর প্রতি স্বামীর আরও অনেক দায়িত্ব রয়েছে৷ কিছু মৌলিক কিছু ঐচ্ছিক। 


স্ত্রীর প্রতি স্বামীর এই দায়িত্ব হলো- একজন পুরুষের শ্রেষ্ঠ ও সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ আচরণ।  

একজন বিবাহিত পুরুষের জন্য অত্যাশ্যকীয় হলো সেই আচরণ সম্পর্কে জানা যার সাহায্যে সে তার স্ত্রীকে পরিণত করতে পারেন এক স্বর্গীয় সত্তায়। 


এ জন্য আপনাকে আপনার স্ত্রীর কিছু বিষয় যথাযথভাবে চিহ্নিত করতে হবে৷ এবং সেগুলোর ঘটতি থাকলে দ্রুত পূরণ করে নিতে হবে। 

এজন্য আপনাকে দুটো বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ একজন মানুষকে যথাযথভাবে বুঝতে গেলে নিম্নোক্ত দুটি বিষয় মানতে হবে এবং এই দুটো বিষয়ের মধ্যেই অন্যান্য বিষয়গুলো শাখা প্রশাখা হিসেবে যুক্ত রয়েছে।  বিষয় দুটি হলো—



• স্ত্রী কোন জিনিসটি আপনার কাছ থেকে পাওয়ার  আকাঙ্খা করে। এবং


•কোন বিষয়গুলো স্ত্রী আপনার কাছ থেকে একদমই প্রত্যাশা করে না। 


এ দুটি পয়েন্টের সবগুলো বিষয় খুঁটে খুঁটে বের করবেন৷ এবং সেগুলো যাচাই করলেই বুঝতে পারবেন আপনার স্ত্রী আসলে কেমন। তার মনমানসিকতা কেমন। তার চিন্তাভাবনা কোন পর্যায়ের৷ তার চাহিদাগুলোও চিহ্নিত করতে পারবেন। 

 

পয়েন্ট দুটির যদি ব্যাখা করি তাহলে মূল বিষয়টি বুঝতে সহজ হবে। 


 প্রথম পয়েন্টে স্ত্রীর আকাঙ্খার কথাটি বলা হয়েছে।  অর্থাৎ একজন বিবাহিত পুরুষের প্রথম পদক্ষেপ হবে স্ত্রীর পছন্দের বিষয়গুলো চিহ্নিত করা।  স্ত্রীর আকাঙ্খিত বিষয়গুলোর পারলে একটা লিস্ট করে নিতে পারেন৷ যেমন ধরুন–


•আপনার স্ত্রী যেসব খাবার খেতে পছন্দ করেন। সপ্তাহে অন্তত একটা দিন আপনার স্ত্রীকে  পছন্দের খাবারগুলো নিজে রান্না করে অথবা রেস্টুরেন্টে নিয়ে গিয়ে খাওয়াতে পারেন৷ সম্পর্কের ভিত্তি মজবুত হবে৷ 


•আপনার স্ত্রীর পছন্দের কাজগুলো করতে সাহায্য করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ– আপনার স্ত্রী হয়তো বই পড়তে ভালোবাসেন৷ প্রতি মাসে নতুন কিছু অসাধারণ বই আপনার স্ত্রীকে  উপহার দিতে পারেন৷ ভীষণ খুশি হবে৷ 


•ঘরের কাজে স্ত্রীকে সাহায্য করলে স্ত্রী খুশি হবেই৷ এবং একই সাথে আপনার ও তার মাঝে একটা আলাদা অনুভূতির সৃষ্টি হবে যা একে অপরকে সহজেই বুঝতে সক্ষম করবে। নিজেদের মধ্যে দারুণ আন্ডারস্ট্যান্ডিং তৈরি হবে। যা সম্পর্ক মধুর করতে অত্যন্ত জরুরী। 


•ছুটির দিন তো ফ্রি থাকেন।  এ সময়টা স্ত্রীর সাথে ঘনিষ্টভাবে কাটান। গল্প করতে পারেন। স্ত্রীর মাথায় তেল দিয়ে দিতে পারেন৷ চুল আচঁড়ে দিতে পারেন। চুলে বেণি করে দিতে পারেন ইত্যাদি । 


•আপনার স্ত্রী হয়তো ঘুরতে পছন্দ করেন৷ নতুন নতুন জায়গা ও দর্শনীয় স্থানগুলো দেখার ইচ্ছে থাকতে পারে।  এজন্য আপনি সপ্তাহে অন্তত একদিন, সপ্তাহে না হলে মাসে অন্তত একদিন স্ত্রীকে নিয়ে বেড়িয়ে পড়ুন নতুন কিছু এডভেঞ্চারের জন্য। স্ত্রীর সাথে কাটানো এইসময়টা কিন্তু সম্পর্কে অকল্পনীয় মধুরতা আনবে৷ 

দূরে  কোথাও না নিতে পারলেন। আপনার এলাকায় কোন ভালো জায়গা থাকলে সপ্তাহে একটা দিন বিকেল বেলা দুজনে ঘুরে আসতে পারেন৷ পাশপাশি কাটাতে পারেন ভালোলাগার কিছু মুহূর্ত। ছেলেমেয়ে থাকলে তাদের সহ ঘুরে আসুন সময়টা আরও ভালো কাটবে৷ 


•আপনার স্ত্রী হয়তো সাজতে পছন্দ করেন৷ সামর্থ্য কম থাকলে মেকাপ বক্স তো আর কিনে দিতে পারবেন না৷ এক কৌটা কাজল এক পাতা বিন্দু সাইজের টিপ আর কিছু রঙিন চুড়ি কিনে দিতে তো আর সামর্থ্যে আঘাত লাগবে না। কিনে দিন৷ বেচারি অসম্ভব রকম খুশি হবে৷ হয়তো প্রকাশ নাও করতে পারে। কিন্তু অসম্ভব রকম খুশি হবে এটা শিওর হয়ে নিন। 


•প্রতিটা মেয়েই অপেক্ষায় থাকে তার স্বামী ফেরার সময় হয়তো তার জন্য কিছু একটা নিয়ে আসবে৷ কিন্তু আমরা অনেকেই এই কাজটা করি না৷ কেউ পুরুষতান্ত্রিকতার অহংকারে আবার কেউ  করি ‘ধুর এসবের কোন মানে হয়’ তিন বেলা তো খাচ্ছে, পরছে আবার কী নেবো? (!)

আমাদের এরকম চিন্তা ধারার জন্যই আমাদের  সম্পর্কগুলোয় মধুরতা আসে না৷ 

এখন থেকে আজ থেকে নিয়ত করুন বাসায় ফেরার সময় অন্তত দশ টাকা দামের একটা চকোলেট অথবা একটা আইসক্রিম অথবা হতে পারে চানাচুরের একটা প্যাকেট অথবা হতে পারে অন্য যেকোন জিনিস৷ চেষ্টা করুন যেটা বেশি পছন্দ করে সেটা নিতে৷ আপনার এই পাঁচ দশ টাকাই আপনার সম্পর্কের ভিত্তি হয়ে দাঁড়াবে, তা কল্পনাও করতে পারবেন কখনো হয়তো৷ 


•প্রতিটা মেয়েই খুব করে চায় তার স্বামী তার পাশে বসে গল্প করুক, কিছুটা সময় কাটাক৷ হাতে হাত রেখে বলুক ভালোবাসি। কিন্তু আমরা পুরুষরা অবসর পেলেই দৌড়ে যাই বন্ধু বান্ধবের আড্ডায়৷ বিয়ের পর একজন পুরুষের একজনই বন্ধু থাকে সে হলো– স্ত্রী। 

অথচ আপনি আপনার শ্রেষ্ঠ বন্ধুকে অবহেলা করছেন৷ সম্পর্ক মধুর হবে কীভাবে বলুন তো?  


•স্ত্রী অসুস্থ হলে সবটা সময় তার পাশে থাকার চেষ্টা করুন। চাকরির সময়টুকু বাদে বাকী পুরোটা সময় তার পাশে থাকুন।  মুখে বলতে হবে না ভালোবাসি।  মুখে ভালোবাসি বলার দ্বারা সম্পর্ক টিকে না। ভালোবাসেন কি বাসেন না তা কাজের মাধ্যমেই উভয়ে উপলব্ধি করতে পারবেন৷ 


এরকম আরো অনেক বিষয় রয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করুন৷ সম্পর্ক কোন পুতুল খেলা নয়৷ সম্পর্ক এমনি এমনি টিকে থাকবে আশা করা মূর্খতা। কোন  সম্পর্ক এমনিতেই টিকে থাকে না, সম্পর্ককে আগলে রাখতে হয়।  আগলে রাখতে জানতে হয়৷ 



দ্বিতীয় পয়েন্টটি হলো— স্ত্রীর অপছন্দের বিষয়গুলো চিহ্নিত করা এবং সেই অপছন্দনীয় কাজগুলো না করা৷ 


বর্তমান সময়টা খুব খারাপ। সিগারেট হারালে সিগারেট পাবেন। কিন্তু ভালো বউ একবার হারালে কপালে আর কখনও ভালো বউ জুটবে সে আশা কেবলই বৃথা!  


আপনার সিগারেটের অভ্যাস থাকলে ধীরে ধীরে ছেড়ে দিন৷ সিগারেটের সাথে শুধু আপনার একটা পুরোনো অভ্যাস জড়িত। কিন্তু আপনার দাম্পত্য জীবন, আপনার সম্পর্কটার সাথে জড়িত আছে অনেক কিছু। অনেক স্মৃতি, আবেগ, ভালোবাসা, মায়া,  কাছে পাওয়া। যা  হারালে আপনি কখনোই আর তা ফিরে পাবেন না।  


•অন্যান্য নেশা থাকলে তাও ছেড়ে দিন। নেশা না ছাড়লে হয়তো সম্পর্কই আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে একদিন। 


•আড্ডায় বা অন্য কোন সাধারণ  কারণে রাত করে বাসায় ফিরবেন না। দ্রুতই ফিরে আসুন৷ বাজে আড্ডা বন্ধ করে দিন। আড্ডা দিতে চাইলে স্ত্রীর সাথে আড্ডা দিন। স্ত্রী আপনার শ্রেষ্ঠ বন্ধু এটা মাইন্ড সেট করে নিন। নাহলে স্ত্রীকে আপন ভাবতে কঠিন ঠেকবে। 



★সুতরাং, স্ত্রীর ন্যায়সঙ্গত আকাঙ্খা ও অধিকারের সাথে খাপ খাইয়ে আপনাকে আপনার  নতুন জীবনকে বিন্যস্ত করে নিতে হবে।


★ নিজের আচার ব্যবহার ও ভাবভঙ্গির সাহায্যে আপনি আপনার  নিজ স্ত্রীকে এমনভাবে প্রভাবিত করতে পারেন যাতে করে স্ত্রী সহজেই আপনার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে৷ 

এজন্যই তো বলা উচিত, “সংসার সুখের হয় পুরুষের গুণে।” 


সুতরাং, আপনি স্ত্রীর প্রতি সদয় হলে স্ত্রীও আপনার প্রতি সদয় হবে৷ সে স্ত্রী যতই পাষাণ হৃদয়ের হোক না কেন৷ কারণ, প্রতিটি মেয়ের ভেতরে একটা আলাদা সত্তা লুকিয়ে থাকে সে সত্তার নাম– নারী সত্তা৷ আর নারী মানেই– মা।  মা মানেই—মমতার এক আস্ত সাগর৷ 


নিউটনের সূত্রটা তো আমরা সবাই জানি। সূত্রটি হলো– “প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে।” 


অতএব, আপনি যতটুকু ভালোবাসা দেবেন ততটুকুই ফিরে পাবেন৷ আপনি অবহেলা করলে সেও দূরত্ব বাড়িয়ে নেবে৷  দূরত্ব কেই বা চায়? দূরত্ব নয়, কাছে টানুন। আগলে রাখুন আপন মানুষটাকে৷ মানুষটা কিন্তু একান্তই আপনার।  শুধু আপনার। আগলে রাখার দায়িত্বটাও তাই আপনার।  





বিষয়: আপনার স্ত্রীর যত্ন নিন 

লেখা: মুনতাকীম রাজীব


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ