About Us
সত্যজিৎ দাস - (Habiganj)
প্রকাশ ১০/০৬/২০২১ ০৪:১০পি এম

গোবরে পদ্মফুল

গোবরে পদ্মফুল Ad Banner

গোবরে পদ্মফুল কখনোই ফুটেনা। আমার এসব লেখা পড়ে আমাকে আবার অহংকারী বলবেন না। আমি স্বেচ্ছা শ্রমিক। রাজপ্রাসাদে জায়গা করতে পারি নাই আক্কেলের দোষে।  আজকাল অনেকে রিকসাওয়ালাকে বেশীভাড়া দেবার জন্য স্লোগান তুলছেন। বাংলাদেশ যে রিকশাওয়ালার সন্তানে ভরে গেছে, সেটা আমি জানতাম না। এসব প্রচার দেখে বুঝতে পারলাম ।  আমার মত সবাই মানবেন? সেটা না,আর আমি আমার মত চাপিয়েও দিবনা। কিন্তু আমার মত আমি প্রকাশ করবো।  আজকালকার আরামপ্রিয় ছাপোষা জনগণকে লেবার চালাতে হয়না। যারা লেবার চালায়, তারা জানে এদেশে দূর্নীতি খালি চেয়ারে বসে হয়না, সব লেভেলের মানুষ হারামে অভ্যস্ত। 

*আপনার কাজের বুয়া যেভাবে ঘর পরিস্কার করে, আপনি নিজে একদুইদিন পরিষ্কার করে দেখেন, সে হারাম উপার্জন করছে আপনার কাছ থেকে। সে যে শ্রম দেবার কথা,তার ১০ পার্সেন্ট সে দেয় আপনাকে,অথচ বেতন ১০০ পার্সেন্ট নিচ্ছে। 

*যেকোন মিস্ত্রি কে দিয়ে আপনি কাজ করিয়ে দেখেন, সে ১০ পার্সেন্ট ও শ্রম আপনাকে দেয় নাকি। অথচ তার বেতন আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে কোন অংশেই কম নয়। 

* কৃষিকাজে উৎপাদন কম হয় শ্রমিকের অসততার কারণে। আপনি কৃষিকাজ করালে ঠেলা বুঝবেন।  এদেশে আনফেয়ার বেনেফিট নিয়ে নিয়ে আমরা অভ্যস্ত। অবশ্য ঘুষের টাকা আছে, নয়তো ব্লাকমেইল এর টাকা আছে আপনাদের, এসব গায়ে লাগবেই বা কেন? সরকার পাগলের মত এদেরকে ভাতা দিয়ে দিয়ে আরো অলস বানাচ্ছে ভোটবানিজ্যর খাতিরে। 

বিদেশে এসব করার কোন চান্স নেই। আমাদের শ্রমিকরাই বিদেশে গিয়ে শ্রম দেয়, অথচ আমাদের কে এই শ্রম দিবেনা। আমরা যে এক টাকার কাজে দয়াকরে ৫ টাকা দেই এজন্য । এদেরকে চাবকানো যেত যদি, তাহলে দেখতেন, বাংলাদেশের কত দ্রুত উন্নতি হচ্ছে। এখন বলতে পারেন, আনফেয়ার বেনেফিট নিয়ে এরা কেন ধনী নয়???  বাস্তবে আনফেয়ার বেনেফিট নিয়ে কেউ ধনী হতে পারে না। অফিসার সাহেবরাও পারেন না। কারণ হারাম যে পথে আসে, সে পথেই দ্রুত চলে যাবে, থাকবেনা। একসপ্তাহ কাজ করে একমাস নেশা করলে বা বদমায়েশি করলে টাকা থাকবে ? আমরা দারিদ্রের দুষ্টচক্রের মধ্যেই ঘুরপাক খাই এজন্য। 

অবশেষে, 

আমার কষ্টের উপার্জন হতে এক টাকা বেশী রিক্সাওয়ালাকে আমি দিতে বাধ্য না। 

আমার কষ্টের উপার্জন হতে এক টাকা বেশী আমি কাজের বুয়া কে দিতে ইচ্ছুক না। 

আমার কষ্টের উপার্জন হতে এক টাকা বেশী আমি কোন লেবারকে দিবোনা, আমি যত উদার ও যত বড়লোকই হই ।


দান আর পারিশ্রমিক এক নয়। যে আমাকে ব্লাকমেইল করবে, তাকে দান দিতে আমি বাধ্য না ।  আমি কোন সরকারি ভর্তুকিতে জীবনযাপন করিনা। সরকার আমার টাকায় চলে, আমার পরামর্শ সরকারের নেয়া উচিত। সরকার আমার কাছে দায়ী। তাই, কোন লেবার এক টাকা বেশী আমার কাছে চাইলে জুতাপেটা করবো, এতে জেল ফাঁসি হলে হয়ে যাক। কোন লেবার কাজ না করে আমার কাজের ক্ষতি করলে চাবকাবো ধরে, এতে যদি কেউ মামলা করতে চান আমার বিরুদ্ধে, করতে পারেন। আনফেয়ার বেনেফিট আমি কাউকে দেইনা। 


আর দান খয়রাত, সেটা মন চাইলে আমার সকল সঞ্চয় দিয়ে দিব, যাকে ইচ্ছা তাকে দিব, শরিয়তের কারণে যাদের দাবী আছে, তারা ছাড়া কেউ দাবী করতে পারবেনা।  আর ব্লাকমেইল যারা করতে উদ্যত হয়, তারা আমার কোন রূপ দেখে,খবর নিয়ে দেখবেন।  আর আপনার আব্বা রিক্সা চালক কিংবা কৃষিশ্রমিক বা রাজমিস্ত্রী কাঠমিস্ত্রিকে আনফেয়ার বেনেফিট দিতে চাইলে আপনার পকেট খালি করেন, কিন্তু এটাকে ট্রেন্ড বানিয়ে সমাজের ও জাতির মেরুদণ্ড ভাঙতে চাইলে, আপনার লুকানো পিতৃপরিচয় জাতির নিকট উন্মোচিত হয়। করোনাকালীন দ্রব্যমূল্য বাড়লে সেটার ক্ষতিপূরণ আমি দিব কেন, সরকার দিক।                                       

উমায়রা ইসলাম 

আইনজীবী,বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ