About Us
মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১
মনসুর হেলাল - (Tangail)
প্রকাশ ০৯/০৬/২০২১ ০১:৫০পি এম

"মুসলিম আইনে নারীদের সম্পত্তির অংশ "

"মুসলিম আইনে নারীদের সম্পত্তির অংশ " Ad Banner

বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই মুসলিম। মুসলিম হিসেবে পুরুষের যেমন সম্পত্তিতে নির্দিষ্ট একটা অংশ রয়েছে তেমনি নারীদেরও সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির এক ধরনের হক রয়েছে।     

জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ মন্ত্রীসভায় পাস হবার পরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইসলাম নামধারি এক পক্ষ সরাসরি এর বিরোধিতা করছে, এক পক্ষ পক্ষে রয়েছে এবং আরেক পক্ষ কোন অবস্থানই নিচ্ছেনা অর্থাৎ তাদের কোন বক্তব্যই নেই। 

স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপারটা নিয়ে সাধারণ মানুষজন বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছে। আসলে এই নীতিমালায় উল্লেখিত যে দু’টো ধারা নিয়ে এত আলোচনা-সমালোচনা এর কারণই না কি? 

এটা কি সত্যিকারভাবেই রাজনৈতিক কোন ইস্যু তাও আলোচনার দাবি রাখে।   

তার আগে দেখে নেয়া দরকার পবিত্র কোরআন এবং ইসলামী গ্রন্থগুলো, মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১ অধুনা জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ এবং বাংলাদেশের সংবিধানের বক্তব্যই বা কি!   

যদি সমান অধিকারের ব্যাপার নিয়ে বিরোধিতা করতেই হয় তাহলে বাংলাদেশের সংবিধানের কিছু ধারা নিয়েও বিরোধিতা করা উচিত!  এবার দেখি বাংলাদেশের সংবিধান কী বলে।    বাংলাদেশের সংবিধানে ২৭ অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে যে, সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।   

২৮(২) অনুচ্ছেদ আছে, রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী পুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন।   

২৯(১) এ রয়েছে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকিবে।    মানুষ প্রবর্তিত আইন/নীতিমালা আলোচনার আগে দেখে নেয়া যাক পবিত্র কোরানের কি ভাষ্য। পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারা, নিসা, মায়িদাহ প্রভৃতি সুরার বেশ কিছু আয়াতে দিকনির্দেশনা থাকলেও- মূলত সুরা নিসার তিনটি আয়াতেই (১১, ১২ ও ১৭৬) সম্পত্তি কিভাবে বন্ঠিত হবে- তা সুস্পষ্ট ভাবে বর্ণিত হয়েছে।   

সুরা নিসা, আয়াত ১১: আল্লাহ্ তোমাদেরকে তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কেআদেশ করেন: একজন পুরুষের অংশ দু’জন নারীর অংশের সমান। অত:পর যদি শুধু নারীই হয় দু-এর অধিক, তবে তাদের জন্যে ঐ মালের তিন ভাগের দুই ভাগ যা ত্যাগ করে মরে এবং যদি একজনই হয়, তবে তার জন্যে অর্ধেক। মৃতের পিতা-মাতার মধ্য থেকে প্রত্যেকের জন্যে ত্যাজ্য সম্পত্তির ছয় ভাগের এক ভাগ, যদি মৃতের পুত্র থাকে। যদি পুত্র না থাকে এবং পিতা-মাতাই ওয়ারিস হয়, তবে মাতা পাবে তিন ভাগের এক ভাগ। অত:পর যদি মৃতের কয়েকজন ভাই থাকে, তবে তার মাতা পাবে ছয় ভাগের এক ভাগ ওছিয়্যতের পর, যা করে মরেছে কিংবা ঋণ পরিশোধের পর। তোমাদের পিতা ও পুত্রের মধ্যে কে তোমাদের জন্যে অধিক উপকারী তোমরা জান না। এটা আল্লাহ্ কর্তৃক নির্ধারিত অংশ নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, রহস্যবিদ।''সুবহানাল্লাহ''    কন্যা পাবে:  ২/৩ ভাগ, যদি দুই এর অধিক হয় ও কোন পুত্র সন্তান না থাকে।  ১/২ ভাগ, যদি একজন হয় ও কোন পুত্র সন্তান না থাকে => ১ পুত্রের ভাগ = ২ কন্যার ভাগ।   

মাতা পাবে: ১/৬ ভাগ যদি পুত্র থাকে। ১/৩ ভাগ যদি পুত্র না থাকে এবং শুধু পিতামাতাই ওয়ারিশ হয়।  ১/৬ ভাগ, যদি মৃতের ভাই থাকে সুরা নিসা, আয়াত ১২: আর, তোমাদের হবে অর্ধেক সম্পত্তি, যা ছেড়ে যায় তোমাদের স্ত্রীরা যদি তাদের কোন সন্তান না থাকে। যদি তাদের সন্তান থাকে, তবে তোমাদের হবে এক-চতুর্থাংশ ঐ সম্পত্তির, যা তারা ছেড়ে যায়; ওছিয়্যতের পর, যা তারা করে এবং ঋণ পরিশোধের পর। স্ত্রীদের জন্যে এক-চতুর্থাংশ হবে ঐ সম্পত্তির, যা তোমরা ছেড়ে যাও যদি তোমাদের কোন সন্তান না থাকে। আর যদি তোমাদের সন্তান থাকে, তবে তাদের জন্যে হবে ঐ সম্পত্তির আট ভাগের এক ভাগ, যা তোমরা ছেড়ে যাও ওছিয়্যতের পর, যা তোমরা কর এবং ঋণ পরিশোধের পর। যে পুরুষের, ত্যাজ্য সম্পত্তি, তার যদি পিতা-পুত্র কিংবা স্ত্রী না থাকে এবং এই মৃতের এক ভাই কিংবা এক বোন থাকে, তবে উভয়ের প্রত্যেকে ছয়-ভাগের এক পাবে। আর যদি ততোধিক থাকে, তবে তারা এক তৃতীয়াংশ অংশীদার হবে ওছিয়্যতের পর, যা করা হয় অথবা ঋণের পর এমতাবস্খায় যে, অপরের ক্ষতি না করে। এ বিধান আল্লাহর। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, সহনশীল।.''সুবহানাল্লাহ''    অর্থাৎ, স্ত্রী পাবে:  ১/৪ ভাগ, যদি কোন সন্তান না থাকে।  ১/৮ ভাগ, যদি সন্তান থাকে।    ভাই-বোন পাবে:  ১/৬ ভাগ, যদি এক ভাই কিংবা এক বোন থাকে- প্রত্যেকে, যদি পিতা-পুত্র-স্ত্রী না থাকে।  ১/৩ ভাগ, যদি ভাই-বোনের সংখ্যা দুই এর অধিক হয়- ভাইবোন একত্রে, যদি পিতা-পুত্র-স্ত্রী না থাকে।   

সুরা নিসা, আয়াত ১৭৬: মানুষ আপনার নিকট ফতোয়া জানতে চায় অতএব, আপনি বলে দিন, আল্লাহ্ তোমাদিগকে কালালাহ এর মীরাস সংক্রান্ত সুস্পষ্ট নির্দেশ বাতলে দিচ্ছেন, যদি কোন পুরুষ মারা যায় এবং তার কোন সন্তানাদি না থাকে এবং এক বোন থাকে, তবে সে পাবে তার পরিত্যাক্ত সম্পত্তির অর্ধেক অংশ এবং সে যদি নি:সন্তান হয়, তবে তার ভাই তার উত্তরাধিকারী হবে। তা দুই বোন থাকলে তাদের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির দুই তৃতীয়াংশ। পক্ষান্তরে যদি ভাই ও বোন উভয়ই থাকে, তবে একজন পুরুষের অংশ দুজন নারীর সমান। তোমরা বিভ্রান্ত হবে আল্লাহ্ তোমাদিগকে সুস্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিচ্ছেন। আর আল্লাহ্ হচ্ছেন সর্ব বিষয়ে পরিজ্ঞাত।.”''সুবহানাল্লাহ''    বোন পাবে:  => ১/২ ভাগ, যদি একজন হয়, যদি ভাই না থাকে, যদি মৃতের উধ্বস্তন-অধ:স্তন না থাকে।  => ২/৩ ভাগ, যদি একাধিক হয়, যদি ভাই না থাকে, যদি মৃতের উধ্বস্তন-অধ:স্তন না থাকে  => ১ ভাই এর ভাগ = ২ বোন এর ভাগ, যদি ভাই থাকে, যদি মৃতের উধ্বস্তন-অধ:স্তন না থাকে।    এ গেলো কোরআন বর্নিত সম্পত্তির উত্তরাধিকার সংক্রান্ত ধারার কথা। এবার দেখি মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১ কি বলে।     

মুসলিম পারিবারিক আইনে উত্তরাধিকার সম্পর্কে বলা হয়েছে কোন নারী বা পুরুষের মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে মৃতের আনুষ্ঠানিকতা সম্পাদনের খরচ, দেনাশোধ বা মৃতব্যক্তি যদি কোন উইল সম্পাদন করে যান তবে তা হস্তান্তরের পর যে সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকে তার উপর মৃতের সন্তান সন্তানাদি ও আত্মীয় স্বজনের যে অধিকার জন্মায় তাই।  এ উত্তরাধিকার আইনে তিন শ্রেণির উত্তরাধিকারের কথা বলা হয়েছে যার মধ্যে রয়েছে অংশীদার, অবশিষ্টাংশ ভোগী, দূরবর্তী আত্মীয়বর্গ। অংশীদার তাদেরকেই বুঝানো হয়েছে যারা পবিত্র কোরআনে বর্ণিত সম্পত্তি ভাগ-বন্টনের।                                                         

শিক্ষার্থী :আইন বিভাগ,                                                       

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ