About Us
মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১
  • সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম:
md Hasnain - (Bhola)
প্রকাশ ০৭/০৬/২০২১ ১১:৪৮এ এম

 দৌলতখানের মেঘনায়  ইলিশের দেখা না পেয়ে হতাশ জেলেরা

 দৌলতখানের মেঘনায়   ইলিশের দেখা না পেয়ে হতাশ জেলেরা Ad Banner

ভোলার দৌলতখানের মেঘনা নদীতে ভরা মৌসুমেও জেলেদের জালে মিলছে না কাঙ্খিত ইলিশ। সারাদিন নদীতে জাল ফেলে কাঙ্খিত ইলিশ না পেয়ে খালি হাতে অনেক জেলে ঘাটে ফিরছেন। এতে অনেকটা ইলিশ শূন্য হয়ে পড়েছে দৌলতখানের বিভিন্ন মাছঘাটসহ হাট-বাজারগুলোতে। গত বছর এই দিনে ঘাটগুলোতে রাত-দিন হাক-ডাক দিয়ে ইলিশ বেচাকেনায় প্রাণচাঞ্চল্যতাছিল ক্রেতা-বিক্রেতার মাঝে। বর্তমানে সেখানে এখন ইলিশ শূন্যতায় বলতে গেলে শুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। মেঘনায় ইলিশ না থাকায় অনেক জেলে এ পেশা পরিবর্তন করে অন্য কাজে ঝুঁকছেন। জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদনের লক্ষ্যে মার্চ-এপ্রিল টানা দুই মাস মেঘনা নদীতে সকল ধরণের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ ধরার দায়ে অনেক জেলেকে প্রশাসন জেল-জরিমানা করেছে। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার এক মাসের বেশি সময় পার হলেও এখনও জেলেদের জালে মিলছে না ইলিশ। জাটকা নিধনের ফলে ইলিশের আকাল হয়েছে বলে দাবি করেছেন সচেতন মহল।

তাদের মতে, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কয়েকটি প্রভাশালী চক্র মেঘনা নদীতে অবৈধ চরঘেরা মশারি জাল,বেহুন্দি জাল ও বেড় জাল দিয়ে জাটকা ইলিশ (চাপিলা) শিকার করে আসছে।এর ফলে মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। এদিকে এসব অবৈধ জাল বিনষ্ট করতে তৎপর উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ। প্রায় সময় বিভিন্ন মাছঘাট থেকে অভিযান চালিয়ে ওইসব অবৈধ জাল জব্দ করে জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করেন প্রশাসন।   

রবিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত দৌলতখান উপজেলার চৌকিঘাট, পাতারখাল নতুন ও পুরাতন মাছঘাট, রিপন মিয়ার মাছঘাট, ভবানীপুর মাছঘাট, গুপ্তগঞ্জবাজার মাছঘাট, সরকারি দিঘীরপাড় মাছঘাট, মেদুয়া মাছঘাট, চরপাতা মাছঘাট, সহ বিভিন্ন ঘাট ঘুরে দেখা যায়, ঘাটে তেমন মাছ নেই বললেই চলে। জেলে ও আড়তদাররা অলস সময় পার করছেন। এসময় মেঘনা নদী থেকে গুটিকয় মাছ শিকার করে বিক্রি করতে আসা বেলাল নামের এক মাঝি আক্ষেপ করে জানান, পাঁচ জন শ্রমিক (নৌকার ভাগী) নিয়ে মেঘনায় সকালে ইলিশ শিকার করতে গিয়েছি। মেঘনা নদীতে দুইবার খ্যাও বেয়ে (জাল ফেলে) একটি ইলিশ মাছও পাওয়া যায়নি। তবে ক’টা পোয়া মাছ পেয়েছি। যা ঘাটে এনে ৫শ ২০ টাকা বিক্রি করেছি। এতে নৌকার খরচ পোষানো দুরের কথা, বাকীতে জালানী নিয়ে উল্টো দেনা হয়েছি। সংসার চালাবো কিভাবে বুঝতে পারছিনা।    আবদুল্লাহ , শাহাবুদ্দিন ও রহমান মাঝি সহ কয়েকজন জেলে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে অনেকদিন আগে।

মেঘনা নদীতে ইলিশের দেখা নেই। সারাদিন নদীতে জাল ফেলে দুই-চারটা মাছ পাওয়া যায়। এ দিয়ে ইঞ্জিন চালিত নৌকার তেলের খরচও জোগাড় করা যায় না। মার্চ-এপ্রিল টানা দুই মাস মেঘনা নদীতে মাছ শিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। নিষেধাজ্ঞার সময় ছেলে-মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটিয়েছি। নিষেধাজ্ঞাকালীন মাছ ধরা থেকে জেলেদের বিরত রাখতে মার্চ,এপ্রিল, মে ও জুন এ চার মাস ৪০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা। কিন্তু অনেক জেলেই তেমন কোন চাল পায়নি বলে তাদের অভিযোগ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা স্বজনপ্রীতি করে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে চাল বিতরণ করে আসছে। এসব তালিকায় যাদের নাম রয়েছে বেশিরভাগই জেলে নয়। তারা বিভিন্ন পেশার লোকজন বলে তারা দাবি করেন।   

দৌলতখান পাতারখাল মাছঘাটের আড়তদার ইমাম হাওলাদার জানান, মেঘনায় ইলিশ না থাকায় জেলেদের পাশাপাশি আমাদেরও দুর্দিন কাটছে। সারাদিন ঘাটে থেকেও কোন আয়রোজগার নেই। মূলত মেঘনায় পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা পড়লেই দৌলতখানের ব্যবসা-বাণিজ্য সচল হয়ে ওঠে।    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি উপজেলার একটি ইউনিয়নে জেলেদের মৎস্য ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অনিয়মের বিরুদ্ধে ওইসময় কার্ডধারী জেলেরা চাল না পেয়ে বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জেলেদের তোপের মুখে পড়েন ওই ইউপির চেয়ারম্যান।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে।    দৌলতখান সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহাফুজুল হাসনাইন জানান, মেঘনায় ইলিশ আগের চেয়ে একটু কম পড়ছে। এর কয়েকটি কারণ রয়েছে। বেশিরভাগ ইলিশ সমুদ্র থেকে আসে। সমুদ্রে বর্তমানে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় সেখানে ইলিশের অবাধ বিচরণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া মেঘনা নদীর পানিতে লবণের পরিমান বেড়ে গেছে এবং দীর্ঘসময় বৃষ্টি ছিলোনা। এর ফলে মিঠা পানির প্রবাহ না থাকায় মেঘনার ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল দেখা দিয়েছে। এখন বৃষ্টি শুরু হয়েছে,নদীর লোনা পানি কেটে গিয়ে মিষ্টি পানিতে প্রচুর পরিমাণ ইলিশ পাবে বলে ওই কর্মকর্তা আশা ব্যক্ত করেন।     

জেলেদের তালিকায় স্বজনপ্রীতি ও ভিন্ন-পেশার লোক রয়েছে? এ প্রতিনিধির এমন প্রশ্নের জবাবে মাহাফুজুল হাসনাইন বলেন, উপজেলায় মোট ২০ হাজার ৩শ ৫৯ জন নিবন্ধিত জেলের তালিকা রয়েছে। মূলত তারাই চাল পাচ্ছে। জেলে ছাড়া কাউকে চাল দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। স্বজনপ্রীতি ও ভিন্ন-পেশার লোক এটা অনেকের মনগড়া কথা হতে পাড়ে।  এবিষয়ে দৌলতখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তাই বক্তব্য দেওয়া সম্ভাব হয়নি।    ছবি ক্যাপশন:- মেঘনায় ইলিশ না থাকায় জেলেরা মাছধরার কাজে ব্যবহৃত নৌকা ঘাটে বেঁধে রেখেছেন। ছবিটি রবিবার পাতারখাল মাছঘাট এলাকা থেকে তোলা।   


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ