About Us
শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১
  • সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম:
Abdur Rahman - (Moulvibazar)
প্রকাশ ০৩/০৫/২০২১ ০৭:১৯পি এম

যে খাবার খাওয়ার পর, ওযু করতে হয়

যে খাবার খাওয়ার পর, ওযু করতে হয় Ad Banner
আমরা সাধারণত অনেক সময় আগুনে পুড়িয়ে সিমিলার কাবাব, আগুনে পুড়ানো কোফতা, মান্দি, ল্যাম্ব, গ্রিল, শু'ওয়া, বেগুন, তান্দুরি, বিভিন্ন মাকহাবোস, মাজবোস, বারবি কিউ, মাশুকা, স্পি'ট রোস্ট, পিজ্জা সহ কিছু জনপ্রিয় খাবার খাই। কিন্তু খাবার খেয়ে বাছ-বিচার করিনা যে, খাবারটা আগুনে পুড়ানো। এমনকি রোযা বা সওম রাখা অবস্থায় ভূল করি। এসব খেয়ে ওযূ করতে হবে। নাহলে, নামাজ বা সালাত পড়লে সালাত বা নামাজ হবেনা এবং কুরআন পড়লে গুণাহ হবে। হাদিসে আছে,

ﻭَﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟْﻤَﻠِﻚِ ﺑْﻦُ ﺷُﻌَﻴْﺐِ ﺑْﻦِ ﺍﻟﻠَّﻴْﺚِ، ﻗَﺎﻝَ ﺣَﺪَّﺛَﻨِﻲ ﺃَﺑِﻲ، ﻋَﻦْ ﺟَﺪِّﻱ، ﺣَﺪَّﺛَﻨِﻲ ﻋُﻘَﻴْﻞُ ﺑْﻦُ ﺧَﺎﻟِﺪٍ، ﻗَﺎﻝَ ﻗَﺎﻝَ ﺍﺑْﻦُ ﺷِﻬَﺎﺏٍ ﺃَﺧْﺒَﺮَﻧِﻲ ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟْﻤَﻠِﻚِ ﺑْﻦُ ﺃَﺑِﻲ ﺑَﻜْﺮِ ﺑْﻦِ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﺑْﻦِ ﺍﻟْﺤَﺎﺭِﺙِ ﺑْﻦِ ﻫِﺸَﺎﻡٍ، ﺃَﻥَّ ﺧَﺎﺭِﺟَﺔَ ﺑْﻦَ ﺯَﻳْﺪٍ ﺍﻷَﻧْﺼَﺎﺭِﻱَّ، ﺃَﺧْﺒَﺮَﻩُ ﺃَﻥَّ ﺃَﺑَﺎﻩُ ﺯَﻳْﺪَ ﺑْﻦَ ﺛَﺎﺑِﺖٍ ﻗَﺎﻝَ ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟْﻮُﺿُﻮﺀُ ﻣِﻤَّﺎ ﻣَﺴَّﺖِ ﺍﻟﻨَّﺎﺭُ

যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ: তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি তিনি বলেছেন, আগুনে পাকানো খাবার খেয়ে ওযূ করতে হবে। [সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৬৭৪] উটের গোশতো খেয়ে ওযূ করে করতে হবে। কিন্তু কেন করতে হবে, তার ব্যাখ্যা হলো এই গোশতো আপনার পেটে যাবার পর ওযূ ভঙ্গ হবে! হাদিসে বর্ণীত আছে,

ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺃَﺑُﻮ ﻛَﺎﻣِﻞٍ، ﻓُﻀَﻴْﻞُ ﺑْﻦُ ﺣُﺴَﻴْﻦٍ ﺍﻟْﺠَﺤْﺪَﺭِﻱُّ ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺃَﺑُﻮ ﻋَﻮَﺍﻧَﺔَ، ﻋَﻦْ ﻋُﺜْﻤَﺎﻥَ ﺑْﻦِ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦِ ﻣَﻮْﻫَﺐٍ، ﻋَﻦْ ﺟَﻌْﻔَﺮِ ﺑْﻦِ ﺃَﺑِﻲ ﺛَﻮْﺭٍ، ﻋَﻦْ ﺟَﺎﺑِﺮِ ﺑْﻦِ ﺳَﻤُﺮَﺓَ، ﺃَﻥَّ ﺭَﺟُﻼً، ﺳَﺄَﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺃَﺃَﺗَﻮَﺿَّﺄُ ﻣِﻦْ ﻟُﺤُﻮﻡِ ﺍﻟْﻐَﻨَﻢِ ﻗَﺎﻝَ ﺇِﻥْ ﺷِﺌْﺖَ ﻓَﺘَﻮَﺿَّﺄْ ﻭَﺇِﻥْ ﺷِﺌْﺖَ ﻓَﻼَ ﺗَﻮَﺿَّﺄْ . ﻗَﺎﻝَ ﺃَﺗَﻮَﺿَّﺄُ ﻣِﻦْ ﻟُﺤُﻮﻡِ ﺍﻹِﺑِﻞِ ﻗَﺎﻝَ ﻧَﻌَﻢْ ﻓَﺘَﻮَﺿَّﺄْ ﻣِﻦْ ﻟُﺤُﻮﻡِ ﺍﻹِﺑِﻞِ . ﻗَﺎﻝَ ﺃُﺻَﻠِّﻲ ﻓِﻲ ﻣَﺮَﺍﺑِﺾِ ﺍﻟْﻐَﻨَﻢِ ﻗَﺎﻝَ ﻧَﻌَﻢْ . ﻗَﺎﻝَ ﺃُﺻَﻠِّﻲ ﻓِﻲ ﻣَﺒَﺎﺭِﻙِ ﺍﻹِﺑِﻞِ ﻗَﺎﻝَ ﻻَ

জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাযি:) থেকে বর্ণিতঃ

এক লোক রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল,

আমি কি বকরীর গোশ্ত খেয়ে ওযূ করব?

তিনি বললেন, তোমার ইচ্ছা ওযূ করতে পারো আর নাও করতে পারো।

সে বলল,আমি কি উটের গোশ্ত খেয়ে ওযূ করব?

তিনি বললেন, হ্যাঁ, উটের গোশ্ত খেয়ে তুমি ওযূ করবে।

সে বলল, আমি কি বকরীর ঘরে সলাত আদায় করতে পারি?

তিনি বললেন, হ্যাঁ। সে বলল, আমি কি উটের ঘরে সলাত আদায় করতে পারি?

তিনি বললেন, না। [সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৬৮৮]

যেহেতু, হাদীসে স্পষ্ট প্রমাণ করছে যে, উটের গোশ্ত খেলে ওযূ নষ্ট হয়ে যাবে সেহেতু, কোন প্রকার মন্তব্য ছাড়াই এ নির্দেশ মেনে নিতে হবে। আল্লাহর আদেশ দুনিয়ায় মানুষের পরিক্ষার উদ্দেশ্যে। ওযূ অবস্থায় উটের গোশ্ত খেয়ে সলাত আদায়ের ইচ্ছা করলে অবশ্যই পুনরায় ওযূ করতে হবে। উটের আস্তাবলে বা বাসায় বা ঘরে সলাত আদায়ের নিষেধের কারণ হচ্ছে, উট দুষ্ট প্রকৃতির বড় দেহের পশু। সলাত আদায়কারীর ভালোই ক্ষতিসাধন করতে পারে। পক্ষান্তরে বকরীর ঘরে সলাত আদায় করলে ক্ষতি সাধনের আশঙ্কা নেই। বকরী বা ছাগলের ঘর পবিত্র হলে, সালাত আদায়ে কোন সমস্যা নেই। অনেক মানুষ এই বিষয়ে জানেনইনা।

আপনি চাইলে কিছু মানুষকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন, দেখবেন অনেক লোক মনে হবে যেন প্রশ্নটি নতুন শুনেছে। তবে এ বিষয় নিয়ে আলেমরা খুব কমই কথা বলেন। তারা এর গুরুত্ব তুলে ধরতে পারেননা। দোষ আমাদের এজন্যই যে, আমরা কুরআন এবং হাদিস থেকে দূরে। আল্লাহ আমাদের গুণাহ ক্ষমা করুক, জ্ঞান বৃদ্ধি করুক।

সবার উচিৎ, ভালোভাবে মানবজাতির জীবনবিধান সম্পর্কে জানা। 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ