About Us
শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১
  • সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম:
Abdur Rahman - (Moulvibazar)
প্রকাশ ০২/০৫/২০২১ ০৭:১৩পি এম

ইতিকাফ কি?জেনে নিন!!!

ইতিকাফ কি?জেনে নিন!!! Ad Banner

 ইতিকাফ বিষয়ক প্রশ্ন উত্তরঃ ■■

.

৩১২৫ . উবায়দুল্লাহ . ফরিদাবাদ, ঢাকা

প্রশ্ন:

এ বছর রমযান মাসে আমি ইতিকাফ করার নিয়ত করেছি।

কিন্তু আমার বাসা থেকে মসজিদে খাবার পৌঁছে দেওয়ার মতো কেউ নেই।

আমি কি বাসায় গিয়ে খাবার আনতে পারব? যদি খাবার আনতে যাই তাহলে আমার ইতিকাফ কি ভেঙ্গে যাবে?

উত্তর:

মসজিদে খাবার পৌঁছে দেওয়ার মতো কেউ না থাকলে খাবার আনার জন্য আপনি বাসায় যেতে পারবেন।

এ কারণে ইতিকাফ ভাঙবে না।

তবে খাবার আনার জন্য মসজিদ থেকে বের হয়ে অন্য কোনো কাজে বিলম্ব করা যাবে না।

অন্য কাজে অল্প সময় ব্যয় করলেও ইতিকাফ ভেঙ্গে যাবে।

অবশ্য ঘটনাক্রমে খাবার প্রস্ত্তত না হলে সেজন্য অপেক্ষা করতে পারবেন।

-আলবাহরুর রায়েক ২/৩০৩; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৮০; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/২২৪

.

২৩২৭ . মফীজুদ্দীন সরকার . শিয়ালবাড়ি, মিরপুর

প্রশ্ন:

কোনো কোনো এলাকায় দেখা যায়, রমযানের শেষ দশ দিনে এলাকাবাসী কেউ এতেকাফ না করলে অন্য এলাকা থেকে কোনো দরিদ্র ব্যক্তিকে খানা ও পারিশ্রমিক দিয়ে এতেকাফ করানো হয়।

প্রশ্ন হল, ক) এরূপ করলে এলাকাবাসী সুন্নত তরকের গুনাহ থেকে বাঁচতে পারবে কি না?

খ) ঐ ব্যক্তির জন্য এতেকাফকালীন দিনগুলোর পারিশ্রমিক নেওয়া জায়েয হবে কি না?

উত্তর:

ক) রমযান মাসের শেষ দশ দিন এতেকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা আলাল কিফায়াহ। যদি কোনো মসজিদে এক জনও ইতেকাফে বসে তাহলে এলাকাবাসী সুন্নত তরকের গুনাহ থেকে বেঁচে যাবে। আর যদি একজনও এতেকাফ না করে তাহলে ঐ এলাকার সকলেই গুনাহগার হবে।

খ) এতেকাফ একটি ইবাদত, যা বিনিময়যোগ্য নয়।

তাই এতেকাফের জন্য পারিশ্রমিক নেওয়া জায়েয নয়।

কাউকে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে এতেকাফ করালে সে এতেকাফ সহীহ হবে না। অতএব এ জাতীয় এতেকাফ দ্বারা এলাকাবাসী দায়িত্বমুক্ত হতে পারবে না।

-হেদায়া, ফাতহুল কাদীর ২/৩০৪; রদ্দুল মুহতার ২/৪৪২; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৬৭; ইলাউস সুনান ১৬/১৭২-৭৩; রদ্দুল মুহতার ৬/৫৫

.

৩৫১৩ . নূরুল্লাহ বিন যুবাইর . টঙ্গী, ঢাকা

প্রশ্ন:

রমযানের শেষ দশকে কোনো ব্যক্তি ইতিকাফরত অবস্থায় পেশাব-পায়খানার জন্য মসজিদের বাইরে বের হলে পথে সালামের আদান-প্রদান করতে পারবে কি না?

তদ্রুপ কারো শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পারবে কি না?

আমাদের এখানে প্রচলিত আছে যে, ইতিকাফরত ব্যক্তি রাস্তায় কাউকে সালাম দেয় না এবং তাকে সালাম দিলে জবাব দেয় না; বরং কোনো ধরনের কথাবার্তা না বলে প্রয়োজন সেরে মসজিদে চলে যায়। হুযুরের কাছে এক্ষেত্রে সঠিক মাসআলাটি জানতে চাচ্ছি।

উত্তর:

ইতিকাফরত ব্যক্তি পেশাব-পায়খানার জন্য মসজিদের বাইরে গেলে আসা যাওয়ার পথে পথ চলতে চলতে সালাম আদান-প্রদান করতে পারবে।

তদ্রুপ এসময় পথ চলতে চলতে কারো সাথে অল্পস্বল্প কথাও বলতে পারবে।

এতে ইতিকাফের ক্ষতি হবে না।

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত আছে, তিনিবলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফ অবস্থায় চলতে চলতে রোগীর কুশলাদি জিজ্ঞেস করতেন।

কিন্তু এর জন্য রাস্তায় দাঁড়াতেন না।

সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৪৭২

তবে কারো সাথে কথা বলা বা কুশলাদি জিজ্ঞাসার জন্য মসজিদের বাইরে অল্প সময়ও দাঁড়ানো জায়েয হবে না।

Ñসহীহ মুসলিম, হাদীস ২৯৭; মিরকাতুল মাফাতিহ ৪/৫২৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২১

.

২৮৮৫ . সারোয়ার মোর্শেদ . ময়মনসিংহ

প্রশ্ন:

আমি গত রমযানে আমাদের মহল্লার মসজিদে ইতিকাফ করার ইচ্ছা করি।

কিন্তু সমস্যা হল মসজিদের কোনো ইস্তেঞ্জাখানা নেই।

এ অবস্থায় বাসায় এসে জরুরত সারা ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না।

তাই বাসা থেকে ইস্তেঞ্জা সেরে মসজিদে এসে অযু করি এবং এভাবে দশ দিন অতিবাহিত করি।

জানতে চাই, এভাবে আমার ইতিকাফ কি আদায় হয়েছে?

উত্তর:

হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার ইতিকাফ সহীহ হয়েছে।

কেননা ইস্তেঞ্জার জরুরুতে মসজিদের বাইরে যাওয়া জায়েয।

আর মসজিদের ইস্তেঞ্জাখানা না থাকলে এজন্য বাসা-বাড়িতে যাওয়াও জায়েয। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফরত অবস্থায় ইস্তিঞ্জার প্রয়োজন ব্যতীত ঘরে প্রবেশ করতেন না।

-সহীহ বুখারী ১/২৭২; সহীহ মুসলিম ১/১৪২; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৭৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৪৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২১২

.

২০৬৩ . মুহাম্মাদ আরমান . নোয়াখালী

প্রশ্ন:

আমাদের এলাকায় এক রমযানে ইতিকাফের জন্য কোনো লোক পাওয়া যাচ্ছিল না।

অবশেষে মহল্লাবাসী মিলে একজন দিনমজুরকে ঠিক করল যে, সে মসজিদে ইতিকাফ করবে।

বিনিময়ে তাকে ঐ দিনগুলোতে কাজ করলে যে পরিমাণ মজুরি সে পেত তাকে তা দেওয়া হবে।

প্রশ্ন হচ্ছে, এভাবে টাকা দিয়ে ইতিকাফে বসানোর দ্বারা ইতিকাফের দায়িত্ব আদায় হবে কি না?

উত্তর:

বিনিময় নিয়ে ইতিকাফ করা বা করানো সম্পূর্ণ নাজায়েয।

কারণ ইতিকাফ একটি ইবাদত।

আর ইবাদতের বিনিময় দেওয়া-নেওয়া নাজায়েয।

ঐ লোকের ইতিকাফ দ্বারা সুন্নতে মুয়াক্কাদা (কেফায়া) এর দায়িত্ব আদায়


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ