About Us
Abdur Rahman - (Moulvibazar)
প্রকাশ ০২/০৫/২০২১ ১১:১২এ এম

রমজানের শেষ দশক

রমজানের শেষ দশক Ad Banner

আমরা খুব দ্রুতই রমাদানের শেষের দশকে পদার্পণ করবো ইনশা আল্লাহ।

এই শেষের দশ দশক সম্পর্কে হাদিসে আছে।

আয়িশা রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাত্রিতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান কর।

[বুখারী, হাদীস নং-২০১৭]

অন্য হাদিসে আছে,

আয়িশা রদিয়াল্লাহু তাআ’লা আনহা থেকে বর্ণিত।

রসূল ﷺ রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন, এবং বলতেন তোমরা রমজানের শেষ দশকে শবে কদর তালাশ কর।

[বুখারী, হাদীস নং-২০২০]

একে তো মহামন্বিত মাস রমাদ্বান তার উপর মহামন্বিত রাতের উপহার... শেষ দশ দিনের যে কোন একদিন... লাইলাতুল ক্বদর! আল্লাহ তাআ’লা আমাদের বলে দিয়েছেন যে, এই রাত এক হাজার মাসের থেকেও উত্তম।

অর্থাৎ এই এক রাতের ইবাদত এক হাজার মাসের থেকেও উত্তম।

[আল্ মিসবাহ আল্ মুনীর/১৫২১]

আল্লাহু আকবার!

আমার মতে এই দশ রাতের প্রতিটা রাতেই ক্বদর মনে করে সবাই মিলে চেষ্টা করতে থাকি কোনভাবেই যেন এ সুযোগ হাতছাড়া না হয়।

সহজ কিছু কাজ করা যায়ঃ-

খুশু খুজবুর সাথে প্রতি ওয়াক্ত সালাত আওয়াল ওয়াক্তে আদায় করে নেয়া।

মাগরিব, ঈশা আদায়ের পর অতিরিক্ত ২/৪ রাকাত নফল নামাজ আদায় করা।

প্রতিরাত্রে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ২/৫/১০/২০ + টাকা দান সদকা করি। একসাথে একই দিনে ১০০ টাকা দান না করে কষ্ট হলেও প্রতিরাতে ১০ টাকা করে দান করি।

ঘুমানোর আগে অন্তত সে সব সূরা মুখস্ত পারি। তা একবার করে তেলোয়াত করি।

দুয়া কবুলের জন্য যে কোন সময় এ দোয়া পাঠ করাঃ

ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻛْﺒَﺮُ ﻛَﺒِﻴﺮًﺍ ﻭَﺍﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠَّﻪِ ﻛَﺜِﻴﺮًﺍ ﻭَﺳُﺒْﺤَﺎﻥَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑُﻜْﺮَﺓً ﻭَﺃَﺻِﻴﻼً

উচ্চারন: আল্লাহু আকবার কাবীরা, ওয়াল হামদু লিল্লাহি কাছীরা ওয়া সুবহানাল্লাহি বুকরাতান ওয়া আসীলা

অর্থ: আল্লাহ মহান, অতি মহান, আল্লাহ তাআলার জন্য অনেক অনেক প্রশংসা এবং সকাল-সন্ধ্যা আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি।

(মুসলিম, তিরমিজী ৩৯৪১)

আমাদের ইবাদাত সুন্দর ও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য প্রতি নামাজ শেষে এই দোয়া পাঠ করা যায়ঃ

ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺃَﻋِﻨِّﻲ ﻋَﻠَﻰ ﺫِﻛْﺮِﻙَ، ﻭَﺷُﻜْﺮِﻙَ، ﻭَﺣُﺴْﻦِ ﻋِﺒﺎﺩَﺗِﻚَ

উচ্চারন: আল্লাহুম্মা আ ই’ন্নী আ’লা যিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হু’সনি ইবাদাতিকা।

অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তোমার স্মরণ, তোমার কৃতজ্ঞতা এবং তোমার সুন্দর ইবাদত করার ব্যাপারে আমাকে সাহায্য কর।"

(আবু দাউদ ১/২১৩, নাসায়ী, ইবেন হিব্বান, হাদীস সহীহ)

দুই সিজদার মাঝে এ দুয়া পাঠ করাঃ

ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺍﻏْﻔِﺮْ ﻟِﻲ، ﻭَﺍﺭْﺣَﻤْﻨِﻲ، ﻭَﺍﻫْﺪِﻧِﻲ، ﻭَﺍﺟْﺒُﺮْﻧِﻲ، ﻭَﻋَﺎﻓِﻨِﻲ، ﻭَﺍﺭْﺯُﻗْﻨِﻲ، ﻭَﺍﺭْﻓَﻌْﻨِﻲ

উচ্চারন: আল্লাহুম্মাগ ফিরলি, ওয়ার হামনী, ওয়াহদীনি, ওয়াজ বুরনী, ওয়া আফিনী, ওয়ার-ঝুকনী, ওয়া রফানী।

(মুসলিস, মিশকাত পৃঃ ৭৭ হা/৮৯৩)

অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি আমায় মাফ কর, আমাকে রহম কর, আমাকে হেদায়েত দান কর, আমাকে রিজিক দাও এবং আমাকে শান্তি দান করো।

তাশহুদ শেষে এই দুয়া পাঠ করাঃ

ﺍَﻟﻠَّﻬُـﻢَّ ﺇِﻧﻲِّ ﺃَﻋﻮُﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﻋَﺬﺍَﺏِ ﺟَﻬَﻨَّﻢَ،ﻭَﻣِﻦْ ﻋَﺬﺍَﺏِ ﺍﻟْﻘَﺒْﺮِ ﻭَﻣِﻦْ ﻓِﺘْـﻨَﺔِ ﺍﻟْﻤَﺤْﻴﺎَ ﻭَﺍﻟْﻤَﻤﺎَﺕِ ﻭَﻣِﻦْ ﻓِﺘْـﻨَﺔِ ﺍﻟْﻤَﺴﻴِﺢِ ﺍﻟﺪَّﺟﺎَّﻝِ

উচ্চারন: আল্লাহুম্মা ইন্নি আ’উযুবিকা মিন আযাবি জাহান্নাম ওয়া আ’উযুবিকা মিন আযাবিল ক্ববর ওয়া আ'উযুবিকা মিন ফিতনাতিল মা’হয়া ওয়াল মামাত ওয়া আ'উযুবিকা মিন ফিতনাতি মাসিহিদ দাজ্জাল।

(সহীহ মুসলিম ও মিশকাত। হাদীস নং- ৯৪০-৪১)

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমাকে জাহান্নামের আযাব থেকে মুক্তি দান করুন। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্ববরের আযাব থেকে মু্ক্তি দান করুন।

হে আল্লাহ! আপনি আমাকে জীবন মৃত্যুর কঠিন ফিতনা থেকে মুক্তি দান করুন।

হে আল্লাহ! আপনি আমাকে মাসিহি দাজ্জালের ফিতনা থেকে মুক্তি দান করুন।

মা আয়েশা নবী হযরত মুহাম্মাদ ﷺ কে জিজ্ঞাসা করেন, হে আল্লাহর রসূল! যদি আমি লাইলাতুল কদর লাভ করি, তাহলে কি দুআ' করবো?

তিনি (ﷺ) বলেন, বলবে,

ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺇِﻧَّﻚَ ﻋَﻔُﻮٌّ ﺗُﺤِﺐُّ ﺍﻟْﻌَﻔْﻮَ ﻓَﺎﻋْﻒُ ﻋَﻨِّﺎ

উচ্চারন: "আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নী।”

[আহমদ,৬/১৮২]

অর্থ: "হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল।

ক্ষমা পছন্দ কর, তাই আমাকে ক্ষমা কর।"

সালাত আদায় শেষ করে ছোট ছোট কিছু ফজিলতপূর্ন জিকির করা যেমনঃ

সুবহানআল্লাহ ৩৩বার, আলহামদুলিল্লাহ ৩৩বার, আল্লাহু আকবার ৩৩বার, ১বার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু।

প্রত্যেকবার ফরজ নামাজ আদায় করে আয়তুল কুরসী পাঠ করা।

সকালে ১০০ বার ও সন্ধ্যায় (সন্ধ্যায় বলতে আসর থেকে মাগরিবের মধ্যে যে কোন সময়ে) ১০০ বার 'সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি' ( ﺳُﺒْﺤَﺎﻥَ ﺍﻟﻠّﻪِ ﻭَ ﺑِﺤَﻤْﺪِﻩِ ) পাঠ করলে কিয়ামতের দিন নিয়মিত পাঠকারীর চেয়ে বেশী সওয়াব নিয়ে আর কেও উপস্থিত হতে পারবে না।

(সহিহ মুসলিম-৬৫৯৯)

যে ব্যক্তি 'সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী' ( ﺳُﺒْﺤَﺎﻥَ ﺍﻟﻠّﻪِ ﻭَ ﺑِﺤَﻤْﺪِﻩِ ) প্রতিদিন ১০০ বার পাঠ করবে সমুদ্রের ফেনা পরিমান (সগীরা) গুনাহ থাকলে ও তাকে মাফ করে দেওয়া হবে।

[সহীহ আল-বুখারী-৭/১৬৮, সহীহ মুসলিম-


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ

KAZ
প্রকাশ ০৯/০৫/২০২১ ১১:৫৪পি এম