About Us
Abdur Rahman - (Moulvibazar)
প্রকাশ ০১/০৫/২০২১ ১১:১৪পি এম

সাবধান!!!

সাবধান!!! Ad Banner

সাবধান !! অধিকাংশ ওযীফার বইয়ে ভুয়া দুয়া, দুরুদ ও ফযীলত দেওয়া আছে:

নিয়ামুল কুরান, মকসুদুল মুমিনিন, পাঞ্জেগানা ওযীফা অথবা নূরানী ওয়াযেফ শরীফ ইত্যাদি নামের বাজারে প্রচলিত ওযীফার বইগুলোতে অনেক বানোয়াট ও জাল দুয়া ও দুরুদ ও ফযীলতের কথা দেওয়া আছে।

এইগুলোর ৭০-৮০% জাল, মিথ্যা ও বানোয়াট !!

এইগুলার মাঝে অনেক শিরকী ও কুফুরী কথাও দেয়া আছে !!

কয়েকটি দুয়া যেইগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট:

আহাদ নামা, দুয়ায়ে গাঞ্জুল আরশ, হাফতে হাইকল, হিজবুল বাহার্ ইত্যাদি।

এইগুলো কুরানের বিভিন্ন আয়াত অথবা মানুষের বানানো দুয়া একত্রিত করে দুয়ার মতো বানানো হয়েছে যা রাসুলুল্লাহ (সা:) করেন নি।

এইভাবে কুরানের আয়াত উল্টা পাল্টা করে তেলাওয়াত করাটা বেদাত। কারণ ইবাদত নিজের মনমতো করার সুযোগ নাই। ইবাদত সেইভাবেই করতে হবে যেইভাবে রাসুলুল্লাহ (সা:) করেছেন।

আর এই দুয়াগুলোর যে উপকার ও ফযীলতের কথা বলা আছে ১০০% মিথ্যা। আল্লাহ তাদের বিচার করুন যারা মিথ্যা কথা বলে বেদাত চালু করেছে।

কয়েকটি দুরুদ যেইগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট:

দুরুদ তাজ, দুরুদে আকবার, দুরুদে হাজারী, দুরুদে লাখী, দুরুদে মাহী, দুরুদে তুনাজ্জিনা ইত্যাদি।

এইগুলো মানুষের বানানো ভুয়া দুরুদ। এইগুলো পড়লে কোনো সওয়াব নেই উল্টা বেদাত করার কারণে গুনাহ হবে।

শ্রেষ্ঠ দুরুদ হচ্ছে দুরুদে ইব্রাহিম, যেটা আমরা নামাযে পড়ি। দুরুদ বেশি বেশি করে পড়ুন, একবার দুরুদ পড়লে আল্লাহ তাআলা ১০ বার রহম করেন। কিন্তু ভুয়া মানুষের বানানো বেদাতী দুরুদ পড়বেন না।

বিশেষ করে মা বোনেরা এইগুলো বেশি পড়েন। আপনারা এই সমস্ত বেদাতী হুজুরদের লেখা ও্যীফার বই পড়বেন না।

সহীহ ও সুন্নতী দুয়া, দুরুদ জানার জন্য হিসনুল মুসলিম বইটি কিনুন। আরো বেশি জানতে হলে রিয়াদুস সালেহীন বইয়ের দুয়া ও যিকির অধ্যায় দেখুন।

অধ্যায়ঃ দুয়া, দুরুদ ও যিকির

_____________________________________________

______

নিজের জন্য দুয়া করার পরিবর্তে শুধুমাত্র দুরুদ পড়ার ফযীলত

দুঃশ্চিন্তা ও পেরেশানি মুক্ত জীবন হচ্ছে প্রকৃত সুখের জীবন। একজন দরিদ্র মানুষ যদি তাঁর রিযক্বের চিন্তা নিয়ে সর্বদা কষ্টে থাকে, তাহলে দুনিয়ার জীবনে সে যেমন অসুখী, ঠিক তেমনি ইবাদতেও সে মনোযোগ ও আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। পক্ষান্তরে, এমন অনেক সম্পদশালী লোক রয়েছে, যাদের প্রধান চিন্তাই হচ্ছে দুনিয়া। সে তার দুনিয়াকে কিভাবে হেফাজত করবে, দুনিয়াকে ম্যানেজ করবে এই চিন্তায় তার ঘুম হারাম। সেইজন্য জীবনের যেকোন অবস্থাতেই ধৈর্য্য ধারণ করা, দুঃশ্চিন্তা থেকে মুক্ত থাকা, দুনিয়া ও আখেরাতের আমাদের সমস্ত অভাব-অভিযোগ যেনো পূরণ হয়, তারজন্য সর্বদা আল্লাহর অনুগত থাকা উচিত এবং তাঁর কাছে সাহায্য চাওয়া উচিত। আজকে এমনই একটা আমল বর্ণনা করছি, যা আমাদের দুঃশ্চিন্তা দূর করবে এবং যার উসীলায় আমাদের দুনিয়া ও আখেরাতে সমস্ত চিন্তা দূর হবে ইন শা আল্লাহ।

.

দরূদ পড়া গুনাহ ক্ষমা হওয়া এবং সকল দুঃখ-কষ্ট ও বিষন্নতা থেকে মুক্তি অর্জনের উপায়ঃ

উবাই ইবনু কা’ব রাদিয়াল্লাহু আ’নহু বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি আপনার উপর বেশী বেশী দরূদ পাঠ করি। আমি কতটুকু সময় আপনার জন্য দরূদ পাঠ করবো? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, যত তোমার মন চায়। আমি বললাম, এক চতুর্থাংশ? তিনি বললেন, যতটুকু সময় তোমার মন চায়। তবে আরও বাড়ালে তা তোমার জন্য কল্যাণকর হবে। আমি বললাম, তাহলে দুই তৃতীয়াংশ সময়? তিনি বললেন, যত মন চায়। তবে আরও বাড়ালে তা তোমার জন্য কল্যাণকর হবে। আমি বললাম, আমি আপনার জন্য পুরো সময়েই দরূদ পড়ব। তিনি বললেন, তাহলে তোমার দুঃশ্চিন্তা দূর হবে এবং তোমার পাপ ক্ষমা হবে।” তিরমিযীঃ ১৯৯৯, হাদিসটি হাসান।

.

এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আরজ করল, “হে আল্লাহর রাসুল! আমি নিজের জন্য দুয়া করার পরিবর্তে শুধু আপনার উপর দুরুদ পাঠ করতে চাই, এ ব্যাপারে আপনার কী অভিমত?” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তরে বললেন, “তাহলে তো দুনিয়া ও আখিরাতে তোমার চিন্তাসমূহের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট হবেন।” আল-মুসনাদঃ ৫/১৩৬, হাফেজ মুনযিরী এই হাদীসের সনদকে জাইয়িদ বলেছেন। আত-তারগীব ওয়াত-তারহীবঃ ২/৫০১।

ইমাম তায়বী রাহি’মাহুল্লাহ এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, “এর অর্থ হলো দুনিয়া ও আখিরাতের যে বিষয় তোমার চিন্তার কারণ হতে পারে, আল্লাহ তাআ’লা তোমার জন্য সে ক্ষেত্রে যথেষ্ট হবেন। দুরুদ পড়ার এতো বেশি ফযীলতের কারণ হলো, রাসুলুল্লাহর উপর দরুদ পড়াতে আল্লাহর যিকির রয়েছে এবং রাসুলের সম্মান মর্যাদা এবং তাঁর অধিকার আদায় করার উদ্দেশ্যে স্বীয় স্বার্থ উপেক্ষা এবং নিজের জন্য দুয়ার পরিবর্তে তাঁর জন্য দুয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়।” শারহু আত-তায়বীঃ ৩/১০৪৬।

.

সুতরাং, যেকোন বিপদ-আপদ, দুঃশ্চিন্তা কিংবা হতাশা থেকে মুক্তির জন্য অধিক পরিমাণে দুরুদ পড়া উচিত। এমনকি এই হাদীসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ

KAZ
প্রকাশ ০৯/০৫/২০২১ ১১:৫৪পি এম