About Us
Md.Nezam Uddin - (Chattogram)
প্রকাশ ০১/০৫/২০২১ ১১:২০পি এম

মে দিবসের ভাবনা ও ইসলামের শ্রমনীতি

মে দিবসের ভাবনা ও ইসলামের শ্রমনীতি Ad Banner





আজ থেকে ১৩৫ বছর আগে রক্তাক্ত ইতিহাসের মধ্যে দিয়ে শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তাই পহেলা মে -কে সারাবিশ্বে মে দিবস হিসাবে পালন করা হয়।? বিশ্বের সর্বত্রব্যাপী শ্রমিক শোষিত হচ্ছে ধনকুবেরদের কর্তৃক। তাই শ্রমিকরা তাদের প্রাপ্ত দাবি- দাওয়া আদায়ের জন্য ১৮৮৬ সালে আমেরিকায় এক শ্রমিক ধর্মঘটের আহ্বান করে। সেদিন প্রায় তিন হাজার শ্রমিক সংবলিত এত বিশাল র্যালির আয়োজন করা হয় ৮ ঘণ্টা কর্মকালের জন্য। ফলে মালিক শ্রেণির সাথে শ্রমিক শ্রেণির সংঘাত অনিবার্য হয়ে ওঠে। ফলে ৪ মে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা আন্দোলনের ডাক দেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ' হে মার্কেট স্কয়ারে পুনরায় গণ- আন্দোলনের মাঝে আবার পুলিশ গুলি ছোড়ে। এতে আবার অনেক শ্রমিক নিহত হয়। এমনকি শেষ পর্যন্ত এটি বিশাল দাঙ্গায় রূপ নেয়
আন্দোলনের সাথে জড়িত কয়েকজনকে দাঙ্গা মামলায় আসামি করা হয়। সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বে সবকিছুই অভিনয় ও ভাব। তাই আদালাত কোন প্রমাণ না পেলে ও ক'জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়। এমনকি ১৮৮৭ সালের ১১ নভেম্বর আসামিদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এর ফলে বিশ্বে প্রতিবাদ ঝড় ওঠে। এই পরিক্রমায় ১৮৮৯ সালের জুলাই মাসে ফ্রান্সের প্যারিসে ইন্টারন্যাশনাল লেবার কংগ্রেসের আয়োজন করা হয় এবং এখানে প্রতিবছর ১লা মে-কে মে দিবস হিসাবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে শ্রমিকেরা তাদের কার্যকাল কিছুটা কমাতে সমর্থ হয়। আন্দোলন ব্যতীত কখনো অধিকার আদায় হয় না।
সম্প্রতি বাংলাদেশে শ্রমিকদের আন্দোলনে পুলিশ কর্তৃক নিপীড়ন দেখা যায়। বাঁশকালি গন্ডামরা এলাকায় গত ১৭ ই এপ্রিল নির্মমভাবে পুলিশ গুলি চালায় শ্রমিকদের ওপর। সাথে সাথে মৃত্যুবরণ করে ৫ জন নিরীহ শ্রমিক। এখনো চিকিৎসাধীন আছে অনেকে। এর পরে হাজার হাজার শ্রমিকের নামে মামলা করা হয়।
বাংলাদেশ লেবার ফোর্স সার্ভে অনুযায়ী দেশের মোট শ্রমিক সংখ্যা ৪ কোটি ৪৪ লাখ প্রায়। এর মধ্যে পুরুষ শ্রমিক ৩ কোটি ৪৫ লাখ আর মহিলা শ্রমিক ৯৯ হাজার প্রায়। কৃষি, বন ও এ সম্পর্কিত কাজে জড়িত শ্রমিকের সংখ্যা ২ কোটি ১৯ লাখ প্রায়। মৎস্য শিল্পে ১০ লাখ ৫০ হাজার। খনিজ দ্রব্যের কাজে নিয়োজিত ৮২ হাজার। উৎপাদনসামগ্রী প্রস্তুত কাজে নিয়োজিত ৪ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার শ্রমিক, বিদ্যুৎ, গ্যাস১২ লাখ স্বাস্থ্য ও সামাজিক কর্মকান্ডে ৫০ লাখ ১৫ হাজার, এবং স্বউদ্যোগে নির্মিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা ২৫ লাখ ৭৫ হাজার। শ্রম মন্ত্রণালয়ের ২০০২-২০০৩ পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৫-১৭ বছরের মোট শিশু ৪ কোটি ২৩ লাখ ৬৭ হাজার। এর মধ্যে শিশুশ্রমে নিয়োজিত ৭৪ লাখ ২৩ হাজার। অর্থাৎ মোট শিশুর ১৭.৫ শতাংশ শিশুশ্রমে জড়িত। এর মধ্যে ছেলেশিশু ৫৪ লাখ ৭১ হাজার আর মেয়েশিশু ১৯ লাখ ৫২ হাজার। বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে ৫৭ শতাংশ শিশু কাজ করছে শুধু খাবারের বিনিময়ে। তাদের কোন বেতন ভাতা দেয়া হচ্ছে না।

দেশের সমাজ আজ লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতি ও উদ্বীয়মান অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নূন্যতম মজুরি নীতির অভাবে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। একদিকে ১৯৬১ সালের নূন্যতম মজুরি আইন, ১৯৬৯ সালের নূন্যতম মজুরি অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ সালের স্কপ-সরকার চুক্তি ১৯৯২ সালে গঠিত জাতীয় শ্রম আইন কমিশনের প্রয়োগহীনতা, অপর দিকে নতুন মুক্তবাজারের বিশ্বঅর্থনীতি একতরফা দাপটে দেশের শ্রমিক সাধারণের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বছর বছর মুদ্রাস্ফীতি ঘটেছে, দ্রব্যমূল্য বেড়েছে কিন্তু শ্রমিকদের প্রকৃত মজুরি কমিশন আশানোরূপ বাড়েনি। দেশের অর্থনীতির চাকা ঘোরায় যে শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করায় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

ইসলামের শ্রম ও শ্রমিকের অধিকার

ইসলাম শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রসঙ্গে সুস্পষ্ট ও বলিষ্ঠ বক্তব্য রয়েছে। হাদীসে আছে, শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগে তার মজুরি দিয়ে দাও। হাদীসে আরো আছে শ্রমজীবীর উপার্জনই শ্রেষ্ঠতর যদি সে সৎ উপার্জনশীল হয়। যে ব্যক্তি নিজের শ্রমের ওপর জীবিকা নির্বাহ করে তারচেয়ে উত্তম আহার আর কেউ করে না। কেবল উপর্যুক্ত হাদীসদ্বয় নয়, এ রকম অসংখ্য হাদীসের বাণী রয়েছে, যেখানে শ্রমকে সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমরা মুসলমানমাত্রই এ বিষয়ে সবিশেষ অবগত যে, ইসলামের দৃষ্টিতে ধনী-গরিব, উঁচু-নীচু সবাই সমান। এই যখন অবস্থা তখন তো অধীনস্থ লোকদের খাটো করে দেখার কোনো অবকাশ নেই। এমনো হতে পারে যে, খাদেম তার মুনিব অপেক্ষা উত্তম এবং এও বিচিত্র নয় যে, আল্লাহর দরবারে খাদেমের কর্মই অধিক পছন্দনীয়। অনেক নবীই শ্রম বিনিয়োগ করে নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করেছেন।

নবী করীম (সাঃ) এ প্রসঙ্গে একবার বলেছিলেন: ‘দুনিয়াতে আল্লাহ এমন কোনো নবী প্রেরণ করেননি যিনি বকরি চরাননি। হযরত দাউদ (আঃ) কর্মকার ছিলেন, হযরত আদম (আঃ) কৃষক ছিলেন, হযরত নূহ (আঃ) ছুতার (কাঠের কর্মসম্পাদনকারী) হযরত ইদ্রিস (আঃ) দর্জি, হযরত মূসা (আঃ) বকরি চরিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ইসলামী সমাজ ব্যবস্থায় এমন ভূরি ভূরি নজির রয়েছে যে, একজন সৎ এবং যোগ্য ব্যক্তি মজদুর হয়েও রাষ্ট্রের কর্তধার পর্যন্ত হতে পারেন এবং হয়েছেনও। হযরত বেলাল, আম্মার, খাব্বাব, শুয়াইব, যায়েদ (রাঃ) প্রমুখ আরো অনেকেই মাওয়ালী বা আদায়কৃত দাস শ্রমিক ছিলেন। আজকাল শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক এক জটিল সমস্যায় আবর্তিত হচ্ছে। বলতে দ্বিধা নেই শ্রমিক-মালিক আজ যেন দু’টি মারমুখী প্রতিদ্বন্দ্বী। ইসলাম বলে, শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক যেন কৃত্রিমতায় আচ্ছন্ন হয়ে না পড়ে। কারণ শ্রমিক আর মালিকের পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছাড়া জাতীয় উৎপাদনে সন্তোষজনক হার আশা করা যায় না।

বিশ্বের ইতিহাসে মানবতার বন্ধু রাহমাতুল্লিল আলামীনই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বপ্রথম মানবিক শ্রমনীতির প্রবর্তন করেন। তাঁর পূর্বে কোন দেশ বা অর্থনীতিতেই শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণের প্রয়াস গ্রহীত হয়নি। এমনকি পরেও কোন দেশ বা মতবাদে সমতুল্য কোন নীতি গৃহীত হয়নি। আজ হতে চৌদ্দশত বছর পূর্বে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রবর্তিত শ্রমনীতি আজও বিশ্বের শ্রেষ্ঠ শ্রমনীতি। পুঁজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার অনুসৃত শ্রমনীতি মানবিক নয়, ইনসাফভিত্তিক তো নয়ই। শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক, শ্রমিকদের সঙ্গে ব্যবহার, তাদর বেতন ও মৌলিক প্রয়োজন পূরণ ইত্যাদি প্রসঙ্গে রাসূলে করীমের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রদর্শিত পথ ও হাদীসসমূহ থেকেই ইসলামের বৈপ্লবিক ও মানবিক শ্রমনীতির সম্যক পরিচয় পাওয়া যাবে। মজুরদের অধিকার সম্বন্ধে তিনি বলেন-

তারা তোমাদের ভাই! আল্লাহ তাদের দায়িত্ব তোমাদের উপর অর্পণ করেছেন। কাজেই আল্লাহ যাদের উপর এরূপ দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছেন তাদের কর্তব্য হলো তারা যে রকম খাবার খাবে তাদেরকেও সেরকম খাবার দেবে, তারা যা পরিধান করবে তাদেরকে তা পরাবার ব্যবস্থা করবে। যে কাজ করা তাদের পক্ষে কষ্টকর ও সাধ্যতীত তা করার জন্যে তাদেরকে কখনও বাধ্য করবে না। যদি সে কাজ তাদের দিয়েই করাতে হয় তা হলে সে জন্যে তাদের প্রয়োজনীয় সাহায্য অবশ্যই করতে হবে।
(বুখারী)

অন্যত্র রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শ্রমিকদের সম্পর্কে বলেছেন, শ্রমিককে এমন কাজ করতে বাধ্য করা যাবে না, যা তাদেরকে অক্ষম ও অকর্মণ্য বানিয়ে দেবে।
(তিরমিযী)

তাদের উপর ততখানি চাপ দেওয়া যেতে পারে, যতখানি তাদের সামর্থ্যে কুলায়। সাধ্যাতীত কোন কাজের নির্দেশ কিছুতেই দেওয়া যেতে পারে না।
(মুয়াত্তা, মুসলিম)

মজুরদের বেতন, উৎপাদিত পণ্যে তাদের অংশ ইত্যাদি সম্পর্কে তিনি সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন-
মজুরের মজুরী তার গায়ের ঘাম শুকাবার পূর্বেই পরিশোধ কর।
(ইবনে মাজাহ, বায়হাকী)

মজুরকে তার কাজ হতে অংশ দান কর। কারণ, আল্লাহ মজুরকে কিছুতেই বঞ্চিত করা যেতে পারে না।
(মুসনাদে আহমদ বিন হাম্বল)

উপরোক্ত হাদীসসমূহ হতে যেসব মূলনীতি পাওয়া যায় সেগুলোই রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রবর্তিত মানবিক শ্রমনীতি। সংক্ষেপে এগুলো হচ্ছে-

উদ্যোক্তা বা শিল্প মালিক মজুর-শ্রমিককে নিজের ভাইয়ের মতো মনে করবে। সহোদর ভাইয়ের মধ্যে যে সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে এ ক্ষেত্রেও সে রকম সম্পর্ক থাকব অন্ন বস্ত্র-বাসস্থান প্রভৃতি মৌলিক প্রয়োজনের ক্ষেত্রে শ্রমিক ও মালিক উভয়ের মান সমান হবে। মালিক যা খাবে ও পরবে শ্রমিককেও তাই খেতে ও পরতে দেবে।

সময় ও কাজ উভয় দিক দিয়েই শ্রমিকদের সাধ্যমতো দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে, তার বেশী নয়। শ্রমিককে এত বেশী কাজ দেওয়া উচিৎ হবে না যাতে সে ক্লান্ত ও পীড়িত হয়ে পড়ে। এত দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তাকে শ্রম দিতে বাধ্য করা যাবে না, যার ফলে সে অক্ষম হয়ে পড়ে। শ্রমিকের কাজের সময় নির্দিষ্ট হতে হবে এবং বিশ্রামের সুযোগ থাকতে হবে।
যে শ্রমিকের পক্ষে একটি কাজ করা অসাধ্য তা সম্পন্ন হবে না এমন কথা ইসলাম বলে না। বরং সে ক্ষেত্রে আরও বেশী সময় দিয়ে বা বেশী শ্রমিক নিয়োগ করে তা সম্পন্ন করা যেতে পারে।

শ্রমিকদের বেতন শুধুমাত্র তাদের জীবন রক্ষার জন্যে যথেষ্ট হলে হবে না। তাদের স্বাস্থ্য, শক্তি ও সজীবতা রক্ষার জন্যে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় ব্যয়ের ভিত্তিতেই বেতন নির্ধারণ করতে হবে।

উৎপন্ন দ্রব্যের অংশবিশেষ বা লভ্যাংশের নির্দিষ্ট অংশও শ্রমিকদের দান করতে হবে।

শ্রমিকদের কাজে কোন ত্রুটি-বিচ্যুতি ঘটলে তাদের প্রতি অমানুষিক আচরণ বা নির্যাতন করা চলবে না। বরং যথাযথ সহানুভূতিপূর্ণ ব্যবহার করতে হবে।

চুক্তিমত কাজ শেষ হলে অথবা নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হলে শ্রমিককে দ্রুত মজুরী বা বেতন পরিশোধ করতে হবে। এ ব্যাপারে কোন ওজর-আপত্তি বা গাফলতি করা চলবে ন।

পেশা বা কাজ নির্বাচন করার ও মজুরীর পরিমাণ বা হার নির্ধারণ সম্পর্কেও দর-দস্তর করার পূর্ণ স্বাধীনতা ও অধিকার শ্রমিকের রয়েছে। বিশেষ কোন কাজে বা মজুরীর বিশেষ কোন পরিমাণের বিনিময়ে কাজ করতে জবরদস্তি করা যাবে না।

কোন অবস্থাতেই মজুরদের অসহায় করে ছেড়ে দেওয়া চলবে না। তারা অক্ষম ও বৃদ্ধ হয়ে পড়লে পেনশন বা ভাতার ব্যবস্থা করতে হবে। এ উদ্দেশ্যে বায়তুল মালের তহবিল ব্যবহৃত হতে পারে।

উপরে বর্ণিত নীতিমালার আলোকে দ্বিধাহীন চিত্তে বলা যেতে পারে যে, ইসলাম মজুরের যে মর্যাদা ও অধিকার স্বীকৃত হয়েছে এবং শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে যে প্রীতির সম্পর্ক স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাতে শ্রমিক-মালিক দ্বন্ধ ও সংঘাতের কোন সুযোগ থাকে না। দুইয়ের সম্মিলিত চেষ্টা ও আন্তরিকতা পূর্ণ সহযোগিতার ফলে শিল্পের ক্রমাগত উন্নতি ও শ্রীবৃদ্ধি হওয়াই স্বাভাবিক। সর্বোপরি মুমিন মুসলমান শিল্প-মালিক ও উদ্যোক্তরা ঈমানের তাগিদে পরকালের কঠিন শাস্তি হতে রক্ষা পাওয়ার জন্যেই এই শ্রমনীতি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসবে। অন্য কোন ধরনের অর্থনীতিতে যা প্রত্যাশা করা একেবারেই অসম্ভব। দুনিয়ার মজুদুর এক হও শ্লোগানসর্বস্ব সমাজতন্ত্রের বাধ্যতামূলক শ্রমদান যেমন এখানে অনুপুস্থিত, তেমনি পুঁজিবাদী মালিকের অবমাননাকর শর্ত ও লাগামহীন শোষণও নেই। শ্রমিক ও মালিক পরস্পর ভাই-এই বিপ্লবাত্মক ঘোষণাই ইসলামী শ্রম।




নেজাম উদ্দিন
শিক্ষার্থী - চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
সদস্য- বাংলাদেশ তরুণ লেখক কলাম ফোরাম, চবি


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ