About Us
শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১
  • সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম:
Md.Limon
প্রকাশ ০১/০৫/২০২১ ১১:১৩পি এম

ভাবছি শ্রমিকদের কথা

ভাবছি শ্রমিকদের কথা Ad Banner

আমরা যেটা দেখি সেটা কি শ্রমিকের গড়িয়ে পড়া ঘাম নাকি বিন্দু বিন্দু রক্ত | মানুষ যখন সুস্থ থাকার জন্য হাটতে গিয়ে জলমগ্ন হয় হয়তো সেটা ঘাম | শ্রমিক তো তা করেনা | সে  জীবনের দুঃসহ  বোঝা মাথায় নিয়ে কাজ করতে গিয়ে রক্তস্নাত হয় | একটা ভুখা নাংগা শ্রমিক ইটের পর ইটের গাঁথুনি দিয়ে বড় বড় দালান কোঠা বানায় অথচ তাকে থাকতে হয় বস্তিতে, গোলাকার পাইপের ভিতরে  কিংবা রাস্তায় | যেখানে মাথার উপরে ছাদটাও নেই | আর থাকলেও সে ছাদের কোনো মূল্য নেই | 


একটা শ্রমিক বড় বড় হোটেল রেস্তরাঁয় প্রতিদিন মানুষের জন্য রাজভোগের মতো নানা রঙের নানা ঢঙ্গের লোভনীয় খাবার বানায় | সে খাবারের ভাগ সে পায়না | মুখের ক্ষুধা চোখ দিয়ে মিটায় | সে শ্রমিকের বাসায় তার সন্তাদের না খেয়ে থাকতে হয় | প্রতিদিন ক্ষুধার সাথে লড়াই করে বাঁচতে হয় | অভুক্ত মুখগুলো যন্ত্রনায় আছাড়ি  বিছারি খায়, অবহেলায় অযত্নে মাটিতে গড়াগড়ি খায় | 


 যে  বৃদ্ধ শ্রমিককে  হাতুড়ি দিয়ে পাথর ভাঙতে হয় সে জানে এই পাথর ভাঙার চেয়ে তার মৃত্যু হলেই ভালো হতো  | কিন্তু মৃত্যু তো অনিশ্চিত | তাই যতক্ষণ মৃত মানুষদের পৃথিবীতে বাঁচার অভিনয় করতে হয় ততক্ষন পাথর ভাঙার দুঃসহ বাস্তবতাকে মেনে নিতে হয় | 

পৃথিবীর মানুষের অদ্ভুত এক নিয়ম | শিক্ষিত বড় সাহেবরা শ্রমিকদের বানানো বড় বড় দালান কোঠায় বসে  টাকার অংকে  তথাকথিত কাজের মূল্য পায় অথচ  শ্রমিকরা তিল তিল করে শ্রম দিলেও তার মূল্য পায়না | শিক্ষা ও ক্ষমতাকে  পুঁজি করে বড় বড় সাহেবরা স্বার্থপরের মতো নিজেদের সুযোগ সুবিধা তৈরী করে শোষণ আর বৈষম্যের মেগা মেগা পরিকল্পনা বানায় | আবার তার বাস্তবায়নে কাজে লাগায় "ছোটলোকের বাচ্চা,  মূর্খ, অপদার্থ"  বলে গালমন্দ করা শ্রমিকদের | 


বড় বড় মানুষরা এক একটা নাটক বানায় আর সে নাটকে অভিনয় করতে করতে শ্রমিকদের দম বন্ধ হয়ে আসে | বড় বড় রথী মহারথীদের  শোষণ আর বৈষম্যের পায়ের নিচে চাপা পড়ে যায় অসহায় শ্রমিকদের স্বপ্ন | একটা একটা অলিখিত জীবনের গল্প |   শ্রমিকদের রক্তে এই মানব সভ্যতার জন্ম হয়েছে  | অথচ ইতিহাসে শ্রমিকদের নাম নেই, নাম আছে শ্রমিকদের অবদান লুন্ঠনকারী ভদ্রবেশী শিক্ষিত মানুষদের | আমরা আধুনিক মানুষরা সুট-প্যান্ট-টাই  শরীরে চাপিয়ে দিয়ে গর্ব করে বলি  মানুষ কত সভ্য হয়েছে | অথচ অসভ্য ক্রীতদাস প্রথার মতো আজও চলছে শ্রমিকদের উপর নির্যাতন নিপীড়ন | 


অফিসের এসির নিচে দামি একটা হেলানো দুলানো চেয়ারে বসে বড় বড় সাহেবরা কখন আরামে ঘুমিয়ে পড়েন তা হয়তো তারা জানেননা  | অথচ শ্রমিকদের সূর্যের দেহ থেকে বেরিয়ে আসা আগুনের মতো রোদে পুড়ে কাজ করতে হয় | দেহের চামড়া রোদে পুড়ে কুঁচকে যায়,  শরীরটা রোদের  দহনে ভেঙে পড়ে | তারপরও জীবনযুদ্ধের লড়াইটা চালিয়ে  যেতে হয় আমৃত্যু | এমন ভারসাম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা থেকে মানুষ বেরিয়ে এসে শ্রমিকদের  মূল্য দিক, মনুষ্যত্বের মূল্য দিক | তবে হয়তো শ্রমিকদের অধরা জীবনের স্বপ্নটা কিছুটা হলেও শান্তি পাবে | যেমন আমরা মৃত  আত্মা শান্তি পাক বলে চিৎকার করতে থাকি | অথচ  মানুষটা বেঁচে থাকতে তাকে শান্তি দেইনা, মূল্য দেইনা  আর মরে গেলে আবেগে আপ্লুত হয়ে যাই | 


সত্যি সেলুকাস কি বিচিত্র এ মানুষ ! এই পচনশীল পৃথিবী শ্রমিকদের কথা কখনো ভাবেনা | কিন্তু তারপরও নিঃস্বার্থ শ্রমিকরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে জীবন বাজি রেখে কাজ করে যায়  | পৃথিবীর উত্তরোত্তর বিকাশে অবিস্মরণীয় অবদান রেখে যায়  |  নিজেরা হয়তো সেটা  বুঝেনা, তবে সে না বোঝার অন্তর্নিহিত মর্মটা জানে একটা শ্রমিকের ত্যাগের মূল্য কখনো পরিশোধ করা সম্ভব না |


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ