About Us
শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১
  • সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম:
atikullah arif - (Chapainawabganj)
প্রকাশ ২৯/০৪/২০২১ ০১:৪৩এ এম

চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবৈধ ভাবে পদ্মায় বালু উত্তোলন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবৈধ ভাবে পদ্মায় বালু উত্তোলন Ad Banner

আইনের কোন তোয়াক্কা না করেই অবৈধভাবে বালু ব্যবসায়ীরা বালু উত্তোলন করছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নে পদ্মা নদীতে অবৈধ ভাবে উত্তোলন করা হচ্ছে বালু। কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রকাশ্যে পদ্মা নদীর ওই সকল পয়েন্ট থেকে নিষিদ্ধ শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন দিয়ে লক্ষ লক্ষ ঘনফুট বালু উত্তোলন করছে।  ভাঙনের আশঙ্কায় আতঙ্কে পড়েছেন এলাকাবাসী।

চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টিপু সুলতানের নেতৃত্বে আজিজুর, জহির, তরিকুল (গেদু) সহ একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আবারও পদ্মা নদী থেকে অবাধে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন তারা।  চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন এলাকার পদ্মা নদীর গোয়াল ডুবি এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে । এতে একদিকে পদ্মা পাড়ের বাড়ি-ঘর, ফসলী জমি ও গাছ-পালা ভাঙনের মুখে পড়ছে, অন্যদিকে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের চলাচলের রাস্তাঘাট চরম ভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের। তারা জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাছে প্রতিকার চেয়েছেন। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গোয়াল ডুবি এলাকায় সরকারি ভাবে কোন বালুমহল ইজারা দেওয়া হয়নি।   সরেজমিনে চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের গোয়াল ডুবি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পদ্মা নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট। অনুসন্ধানে দেখা যায়, পদ্মা নদীর তীরবর্তী কিছুটা দূরে বসানো হয়েছে ড্রেজার মেশিন। সেখান থেকে বোডে করে বালু লোড করা হচ্ছে।

সাংবাদিকের উপস্থিতি বুজতে পারার পর অবৈধ ব্যবসায়ীরা কৌশলে স্পট থেকে পালিয়ে যায়। তারপরেই বোডের ড্রাইভার ড্রেজার মেশিন থেকে বোড সরিয়ে নেই। পদ্মা নদীর ঝুকিপূর্ণ পয়েন্টে ড্রেজার মেশিন টি বসানো হয়েছে।  পদ্মাপাড়ের অনেকেই পরিচয় গোপন রেখে এবং নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিবেদককে জানান, অবৈধ বালু ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা ও রাত থেকে ফজর পর্যন্ত পদ্মা নদীর ঐ সকল পয়েন্ট থেকে শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন দিয়ে লক্ষ লক্ষ ঘনফুট বালু উত্তোলন করছে। তারপর বিভিন্ন এলাকা ও জেলায় বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন । সেই সাথে তারা সরকারকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছেন ।

প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার কারণে পদ্মা নদীর নিকটবর্তী এলাকার শত শত বাড়ি-ঘর, ফসলী জমি, গাছপালা প্রতিনিয়ত ভাঙনের মুখে পড়ছে। পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে ঝুকিপূর্ণ পয়েন্টে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে ঐ সকল বাড়ি-ঘর, ফসলী জমি, গাছপালা পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। নদী ভাঙ্গন রোধে দ্রুত সরকারের হস্তক্ষেপ চাচ্ছেন ভাঙ্গন কবলিত ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা। অবৈধভাবে পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে স্থানীয়রা দাবি করেন। এখনই বালু উত্তোলন বন্ধ না করা গেলে এ এলাকার আরো অসংখ্য কৃষক আবাদী জমি হারিয়ে পথে বসে যাবে।  বালুবোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণে রাস্তাগুলো চলাফেরার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবী বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের বালু তোলা বন্ধ করে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এগিয়ে আসবেন।  চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান মোবাইল ফোনে জানান , বালি উত্তোলনের সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। তিনি আরও বলেন, যারা আমার নাম বলেছে তারাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবেদক কে সরাসরি তার সঙ্গে দেখা করার কথা মুঠোফোনে জানান ।   এ বিষয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনকারি আজিজুর এর সাথে  একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তার কোন রকম সাড়া পাওয়া যায়নি।

এমন কি তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।   আর এ সকল বালু পাকা সড়ক দিয়ে ভোর রাত হতে ট্রাক, ট্যাক্টর, ট্রলিগাড়ি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে বালু চলে যাচ্ছে। এতে করে ভারী যান চলাচলে রাস্তার অবস্থাও নাজুক হয়ে পড়েছে।  চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের তহসিলদার সাবিনা মুঠো ফোনে জানান,  সরকারিভাবে গোয়াল ডুবি এলাকায়  কোন বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়নি।   

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে মাঝে-মধ্যেই নদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ড্রেজার মেশিন,বোড ও বালু জব্দ করছেন। তারপরও থেমে নেই অবৈধ বালু উত্তোলন।   চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নে কারা বালি ও মাটি উত্তোলনের সাথে জড়িত সেটি এলাকার প্রায় সবাই অবগত আছেন।ইউনিয়নটির বাসিন্দারা তাদের আতঙ্কের কথা জানিয়েছেন । এলাকার প্রভাবশালী মহল এই কাজ করে যাচ্ছেন , যেন দেখার কেউ নেই।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ