About Us
শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১
  • সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম:
Md. Tawhidul Haque Chowdhury - (Noakhali)
প্রকাশ ২৫/০৪/২০২১ ১২:০৮এ এম

গ্রাহক হয়রানি করছে প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স

গ্রাহক হয়রানি করছে প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স Ad Banner

নোয়াখালীতে প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এর মাইজদী বাজারে অবস্থিত, মাইজদী এফপিআর সেন্টারের বিরুদ্ধে বীমার মেয়াদপূর্তির দাবি, মৃত্যু দাবি এবং সার্ভাইবেল বেনিফিট (এসবি) দাবি প্রদানে বিড়ম্বনাসহ গ্রাহকদের তীব্র হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের জোন-১ এর ইনচার্জ ও ইভিপি মোজাম্মেল হোসেন এবং ডিআইভিসি জাকির হোসেন নামের দুই অসাধু ও লোভী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উঠে এসেছে গ্রাহক হয়রানিসহ নানাবিধ তথ্য।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কোন গ্রাহকের সার্ভাইবেল বেনিফিটের টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে এই দুই কর্মকর্তা নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য গ্রাহকদের টাকার প্রয়োজনীয়তা উপেক্ষা করে জোরপূর্বক নতুন করে পলিসি কিংবা বিনিয়োগে বাধ্য করে। এছাড়াও ডিআইভিসি জাকির হোসেন নামে রয়েছে গ্রাহকের প্রিমিয়ামের টাকা আত্নসাতের অভিযোগ।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, ডিআইভিসি জাকির হোসেন কিছুদিন পূর্বে লোভের বশবর্তী হয়ে এবং প্রাইম ইসলামী লাইফে গ্রাহকের টাকা আত্নসাতের দায় এড়াতে ডায়মন্ড লাইফে যোগদান করে। পরে কিছুদিন পূর্বে রহস্যজনক কারণে পুনরায় পূর্বের কর্মস্থল প্রাইম ইসলামী লাইফে ফিরে আসে। অভিযোগ রয়েছে ডায়মন্ড লাইফে যোগদান করার পর পরই তিনি স্থানীয় এক রিক্সাচালকের স্ত্রীকে ডায়মন্ড লাইফে চাকুরী দেয়ার নাম করে, অর্থ কেলেংকারীর সাথেও জড়িত হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানের ফাইন্যান্সশিয়াল এসোসিয়েট নিয়োগেও রয়েছে এই কর্মকর্তার সীমাহীন দুর্নীতি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বীমা গ্রাহক জানান, আত্বীয়তার সম্পর্কের কারণে তিনি জাকির হোসেনকে তার মায়ের নামে করা বীমা পলিসির মাসিক প্রিমিয়ামের টাকা জমা দেয়ার পরও তিনি তা দীর্ঘদিন জমা না দিয়ে নিজেই আত্নসাত করেন। পরে তিনি বিষয়টি জানতে পেরে, এই প্রতিবেদকের সাথে যোগাযোগ করে, চাপ প্রয়োগ করলে জাকির হোসেন উক্ত আত্নসাতকৃত টাকা পলিসির অনুকূলে একসাথে জমা প্রদান করে।

সাম্প্রতিক ঐ গ্রাহকের মায়ের বীমা পলিসির অনুকূলে সার্ভাইবেল বেনিফিট (এসবি) এর এক লক্ষ আটশত টাকা উত্তোলনের সুযোগ থাকলেও, এই দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা ইভিপি মোজাম্মেল হোসেনের যোগসাজশ এবং পরামর্শে গ্রাহকের উক্ত এসবির টাকা গ্রাহকের অনুকূলে প্রদান না করে, তা অগ্রিম মাসিক প্রিমিয়ামে সমন্বয় কিংবা এফডি করার জন্য চাপ প্রয়োগ ও তালবাহানা করতে থাকে।

ঐ গ্রাহক আরো জানান, করোনা পরিস্থিতিতে বর্তমানে তার টাকার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি এই দুই কর্মকর্তাকে জানালেও, তারা তাতে কোন কর্ণপাতই করছেন না। এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত জাকির হোসেনের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বর্তমানে করোনাকালীন পরিস্থিতিতে নতুন প্রিমিয়াম সংগ্রহ না থাকায়, প্রতিষ্ঠানের হেড অফিস গ্রাহকদের এসবি টাকা না দিয়ে, তা পলিসির অনুকূলে সমন্বয় বা নতুন পলিসি বা এফডি করতে তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যার কারণে গ্রাহকদের টাকা প্রদানে তাদের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তারা তা গ্রহকদের দিতে পারছে না।

এ সময় তিনি এই প্রতিবেদককে আরো জানান, বিগত এক বছর সময় ধরে প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড-এর এই শাখা গ্রাহকদের চল্লিশ লক্ষের অধিক এসবি এবং বীমা দাবির টাকা দিতে পারছে না। গ্রাহক হয়রানি না করে, দ্রুততার ভিত্তিতে যে কোন দাবী প্রদানে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর নির্দেশনা প্রতিপালনে তাদের এমন বক্তব্য কতটুকু যুক্তিযুক্ত জানতে চাওয়া হলে তিনি কোন সুদত্তর দিতে পারেন নি।

পরে এ বিষয়ে ইভিপি মোজাম্মেল হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনিও ঐ গ্রাহকের এসবির টাকা পলিসির অনুকূলে সমন্বয় বিষয়ে ভিত্তিহীন তথ্য প্রদান করেন। এ বিষয়ে জানতে প্রতিষ্ঠানের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ