About Us
K. H. M. Nurul Alam (Kamal)
প্রকাশ ০৫/০৪/২০২১ ০৫:৩৭পি এম

হাওরাঞ্চলের কৃষকের কান্না

হাওরাঞ্চলের কৃষকের কান্না Ad Banner

নেত্রকোনার মদনের বৃষ্টিবিহীন কালবৈশাখী গরম বাতাসের ঝড় বয়ে গেছে। এই ঝড়ে নেত্রকোনার মদনসহ আশে পাশের বিভিন্ন এলাকার বোরো  ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। 

গতকাল রোববার সন্ধ্যার দিকে কালবৈশাখী গরম বাতাসের ঝড় শুরু হয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত বয়ে গেছে। 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে পৌরসভাসহ উপজেলার ৮ ইউনিয়নে এবার ১৭ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এছাড়াও ৫শ ১৫ হেক্টর জমিতে পাট ও করিফোয়ান ৩শ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বোরো ধান ও অন্যান্য ফসলের ফলন ভাল হয়েছে। 

লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি ধান উৎপাদন হবে বলে আশা ছিলো কৃষকদের। ব্রী-২৮ ধানের পাশা পাশি কাটা শুরু হয়েছে বিভিন্ন জাতের হাইব্রিড ধান। কষ্টে ফলানোর সোনার ফসল ঘরে তুলতে অনেকেই ব্যস্ত সময় পার করছিলেন।  গেল কয়েক বছরের চেয়ে এবার উপজেলায় রোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বেশ কিছু জমির ধানই পাকতে শুরু করেছিলো। ধান ঘরে তুলতে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন কৃষক- কৃষাণীরা। কিন্তু গত রাতের কয়েক মিনিটের কালবৈশাখী ঝড়ের গরম বাতাস যেন কৃষকদের সব স্বপ্ন বিলীন করে দিয়েছে। ধার- দেনা করে এক ফসলী জমির ফসল হারিয়ে পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই কৃষকের।   

সরেজমিনে দেখা যায়, কালবৈশাখী ঝড়ে গরম বাতাসে ধান পাটসহ বিভিন্ন সবজি ক্ষেত সাদা হয়ে পড়েছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে পুরার মতো কালো হয়ে যাচ্ছে। 

মদন পৌর সদরে কৃষক সবুজ, কাজল ও ইমরান সহ অনেকেই বলেন, গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে হঠাৎ কাল বৈশাখী ঝর গরম বাতাস বয়ে যায়। সকালবেলা ক্ষেতে এসে দেখি সব ধানের জমি সাদা হয়ে গেছে। এবার জমিতে ভালো ফলন হয়েছিল এখনতো জমি কাটা যাবে না। অন্যের জমি লিজ নিয়ে দার দেন করে আবাদ করেছিলাম। এখন দেনা কিভাবে পরিশোধ করব এবং সংসার নিয়ে কিভাবে চলব ? 

গোবিন্দশ্রী গ্রামের কৃষক আবুল মিয়া, নজরুল ইসলাম ও মজিবুর সহ অনেকেই বিলাপের সুরে বলেন, গতকালের গরম বাতাসে আমাদের সোনার ফসল ধান, পাট ও সবজির ক্ষেত সহ সব সাদা হয়ে গেছে। এখন আমরা আমাদের সংসার নিয়ে কিভাবে চলব ? 

মাগান ইউনিয়নের ঘাটুয়া গ্রামের কৃষক সাবেক ইউপি মেম্বার মোঃ আনিছ মিয়া ও মাঘান ইউনিয়নের আ'লীগ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সহ অনেকেই বলেন, হাওরে ধান কাটার মতো অবস্থা নেই। সব জমি সাদা হয়ে গেছে এখন ভেবে পাচ্ছিনা আমাদের সংসার কিভাবে চালাবো। আমরা একটি মাত্র ফসলের উপর নির্ভরশীল। 

ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তি রায়হানুল হক জানান, গত রাতের কালবৈশাখী ঝড়ে কৃষদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে তা অপূরণীয়। আমাদের লোকজন মাঠে আছে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য এখনো বলা যাচ্ছে না।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ