About Us
Md. Tawhidul Haque Chowdhury - (Noakhali)
প্রকাশ ০৩/০৪/২০২১ ০১:৩৪পি এম

নোয়াখালীতে তরমুজের বাম্পার ফলন, বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

নোয়াখালীতে তরমুজের বাম্পার ফলন, বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা Ad Banner

বিগত বছরের তুলনায় নোয়াখালীতে এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। স্থানীয় বাজারে চাহিদা মিটিয়ে উৎপাদিত এসকল তরমুজ নোয়াখালীর বিভিন্ন অঞ্চলসহ সারাদেশে বাজারজাত হচ্ছে। নোয়াখালীর মাটি তরমুজ চাষের উপযোগী হলেও বিগত বছর গুলোতে বৈরি আবহাওয়ার কারণে এমন বাম্পার ফলন হয়নি। এ বছর জেলার মোট ৯টি উপজেলার সকল উপজেলায়ই কমবেশি তরমুজের চাষ হয়েছে।

তবে জেলার সদর উপজেলা এবং সুবর্ণচর উপজেলায় তরমুজ চাষের হার লক্ষ্যনীয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বিগত বছর গুলোর তুলনায় এ বছর এ অঞ্চলে তরমুজের বেশ ভালো ফলন হয়েছে।  জেলার সদর উপজেলা ও সুবর্ণচর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে আবদকৃত তরমুজ ক্ষেতে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ জুড়ে তরমুজ আর তরমুজ। সাইজেও বেশ সুদর্শনীয়। মাঠের ধারে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে ট্রাক। কৃষকদের কাছ থেকে পাইকাররা তরমুজ কিনে তা ট্রাকে তুলছে। ক্ষেত থেকে তরমুজ তোলার সে আরেক মনোরম দৃশ্য। এ সকল তরমুজ যাবে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে।

অপ্রত্যাশিত ফলনে কৃষকেরাও বেজায় খুঁশি। চোখে-মুখে আনন্দের স্রোতধারা কারণ বিগত দু’বছরে এ অঞ্চলের কৃষকেরা তরমুজ চাষ করে লোকসান গুনতে হয়েছে। এ বছর তারা সে লোকসান পুষিয়ে দু থেকে তিন গুন লাভ করেছে।  সুবর্ণচর উপজেলার চরকাজী মোখলেছের তরমুজ চাষী ইব্রাহীম খলিল জানান, এ বছর তিনি প্রায় দেড় হাজার শতক জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় দশ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত তরমুজ বিক্রি হয়েছে প্রায় পঁচিশ লাখ টাকার অধিক। তার ক্ষেত থেকে তিনি আরো ৫/৭ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারবেন।

তবে জেলার সোনাপুর থেকে চেয়ারম্যানঘাট পর্যন্ত সড়কের বেহাল দশার কারণে পাইকাররা বাড়তি পরিবহন খরচের অযুহাতে কৃষকদের ভালো দাম দিচ্ছে না বলে স্থানীয় একাধিক তরমুজ চাষী অভিযোগ করেন। নয়তো তারা উৎপাদিত তরমুজে আরো ভালো লাভ করতে পারতো।  তরমুজের বাম্পার ফলন বিষয়ে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোশরেফুল হাসান চন্দন জানান, এ বছর জেলার সদর উপজেলায় ২৫শ বিশ হেক্টর জমিতে কৃষকরা তরমুজের চাষ করেছে। ইতোমধ্যে চাষিরা ২/৩ ধাপে তরমুজ বিক্রি করেছে। আগামী সপ্তাহ-দশ দিন বৃষ্টিপাত না হলে তরমুজ চাষিরা আরো ২/৩ ধাপে তরমুজ বিক্রি করতে পারবে। যার ফলে গত দুই বার তরমুজ চাষে যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবার তারা ক্ষতি পুষিয়ে লাভবান হবে।

তিনি এ সময় আরো জানান, গত দুই বার চাষিরা তরমুজ চাষে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় অনেক চাষী এ বছর তরমুজের চাষ না করে বরোধান, সয়াবিন ও বাদামসহ অন্যান্য মৌসুমী ফসলের চাষ করেছেন। যদি তারাও তরমুজ চাষে মনোনিবেশ করতো তবে এবারের এ অঞ্চলের তরমুজ চাষ দেশে মাইলফলক সৃষ্টি করতো।  সুবর্ণচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ হারুন জানান, অত্র উপজেলায় প্রায় তেরো’শ নব্বই থেকে চৌদ্দ’শ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ করেছে চাষীরা।

হেক্টর প্রতি তাদের খরচ হয়েছে নব্বই থেকে এক লক্ষ টাকা। আর বিক্রি হচ্ছে দুই লক্ষ থেকে দুই লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকায়। হেক্টর প্রতি গড় লাভ প্রায় এক থেকে এক লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা। হেক্টর প্রতি উৎপাদন প্রায় ২৫/৩০ মেট্রিক টন।  জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ শহিদুল হক জানান, জেলার মোট নয়টি উপজেলার ২৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে এ বছর তরমুজের চাষ হয়েছে।

হেক্টর প্রতি উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ২৮ থেকে ৩০ মেট্রিক টন। সরকারের পক্ষ থেকে চাষীদেরকে সার, বীজ সরবরাহ এবং মাঠ পর্যায়ে মাঠ কর্মীদের যথাযথ দায়িত্ব পালন এবং বৈরিমুক্ত আবহাওয়া থাকায় ও বৃষ্টিপাত  না হওয়ায় এ বছর জেলায় তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। জৈব সার প্রয়োগ এবং তরমুজ ক্ষেতে কীটনাশক ব্যবহার না করায় এ বছরের তরমুজ সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যসম্মতভাবে উৎপাদিত হয়েছে। 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ