About Us
Md. Razib Hossain - (Kushtia)
প্রকাশ ০৩/০৪/২০২১ ০৪:০৬পি এম

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পানির জন্য হাহাকার

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পানির জন্য হাহাকার Ad Banner

চৈত্রের দাবদাহে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলা ও শিবগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এসব স্থানে অধিকাংশ নলকূপে পানি উঠছে না। তীব্র দাবদাহ আর পানির সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকাবাসী।  হাতেগোনা কয়েকটি নলকূপে সামান্য পানি উঠলেও বেশিরভাগ স্থানে নলকূপে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। এতে আসন্ন রমজান মাসে বিপাকে পড়ার শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয়রা। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার বাতেন খাঁ মোড়, পিটিআই মাস্টার পাড়া, পাওয়ার হাউস মোড়, দরগা পাড়া বিডিআর কলোনির মানুষ পড়েছে চরম পানি সংকটে। যেসব স্থানে পানি উঠছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।  পৌর এলাকার নিমতলার বাসিন্দা সানোয়ারা হোসেন বলেন, সুপেয় পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে প্রায় আধা কিলোমিটার দূর বাতেন খাঁ মোড়ের নলকূপ থেকে। সেখানে পানি সংগ্রহ করতে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘক্ষণ।  একই অভিযোগ শিবতলার ইয়াসমিন বেগমের। তিনি জানান, পানি সংকটের কারণে প্রায় পুরো বছর বাইরে থেকে পানি কিনে পান করতে হয়। 

দরগা পাড়ার বাসিন্দা মঞ্জুর জানান, দরগা পাড়ার কোনো বাড়ির নলকূপেই পানি উঠছে না। একটিমাত্র নলকূপে পানি ওঠে। ওই নলকূপ থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হয়। সেটাও আবার সব সময় পাওয়া যায় না। হাতে কলস ও বালতি নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়।  এদিকে চৈত্রের দাবাদাহের শুরুতেই পানির সংকট দেখা দিয়েছে শিবগঞ্জ পৌরসভাতেও।

গত প্রায় ২০-২৫ দিন থেকে এ সংকটের শুরু হয়েছে বলে জানান পৌরবাসী। যানা যায়, ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত পৌরসভাটিতে এবারই প্রথমবার সবচাইতে বেশি সংকট লক্ষ্য করা গেছে। সরকারি নলকূপগুলোও বেশিরভাগ অকেজো হয়ে গেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। খাবার ও ব্যবহারের পানির জন্য তাদের ছুটতে হচ্ছে উৎপাদক নলকূপ স্থাপনকারী উচ্চবিত্ত প্রতিবেশীদের বাড়িতে। 

অপরদিকে পৌর এলাকায় পাইপলাইনে পানি সরবরাহের জন্য উদ্যোগ নেয়া হলেও পাইপলাইন স্থাপনে টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি দিয়েও সাড়া না পাওয়ায় প্রকল্পটি নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। সেইসঙ্গে শহরের ৬টি পয়েন্টে ৬টি পাম্প স্থাপন করা হলেও বৈদ্যুতিক সংযোগ এখনও দেয়া সম্ভব হয়নি।  শিবগঞ্জ হাজারি ডাঙ্গা গ্রামের ইরিন বেগম জানান, রাতে এবং ভোরে মোটর চালালে পানি কয়েকদিন ওঠার পর সেটাও অকেজো হয়ে যায়। 

পৌরসভার মেয়র সৈয়দ মনিরুল ইসলাম পানি সংকটের কারণে পৌরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, গরমের শুরুতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক এলাকার নলকূপে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। সাবমার্সিবল পাম্প স্থাপনের কারণে এ সংকট আরও প্রকট হয়েছে।  তবে পানি সরবরাহ প্রকল্পটি আরও আগে বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নেওয়ায় পৌরবাসীকে আরও একটু ধৈর্য ধরতে হবে। প্রকল্পের ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।  তিনি বলেন, আগামী ২০ দিনের মধ্যে পাম্পগুলোতে সংযোগ স্থাপনের জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে। আর পাইপলাইন স্থাপনের জন্য যে টেন্ডার হয়েছিল সেখানে একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান অংশ নেওয়ায় স্বচ্ছতা আনতে আবারও টেন্ডার দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে তদবির করা হচ্ছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জন পলাশ হাসদা বলেন, এ এলাকায় মাটির ২০০ ফুট নিচে বালুর স্তর পাওয়া যাচ্ছে না। ২০০ থেকে ৮০০ ফুট পর্যন্ত মাটির স্তর রয়েছে। যার ফলে টিউবয়েলে পানি উঠছে না। এছাড়াও এ অঞ্চলে আর্সেনিকের প্রবণতাও প্রকট।  তবে স্থানীয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর ভিলেজ কমিউনিটির মাধ্যমে সুপেয় পানি সংকট মোকাবিলার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তিনি।  তিনি আরও বলেন, অদূর ভবিষ্যতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পানির সংকট আরও তীব্রতর হতে পারে। সেজন্য এখন থেকে পানির অপচয় রোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ