About Us
মো. বিল্লাল হোসাইন - (Jamalpur)
প্রকাশ ০১/০৪/২০২১ ০২:৪০এ এম

কিশোর হাবিবুরকে হত্যার ঘটনা বর্ণনা দিলেন ঘাতক ভ্যানচালক

কিশোর হাবিবুরকে হত্যার ঘটনা বর্ণনা দিলেন ঘাতক ভ্যানচালক Ad Banner

পরকীয়ার জের ধরে কিশোর হাবিবুরকে হত্যার বর্ণনা দিলেন ঘাতক ময়নাল হক। ময়নাল হকের স্ত্রীর সঙ্গে হাবিবুরের পরকীয়ার সম্পর্ক চলে আসছিলো। ঘটনার রাতে স্ত্রীর মুঠোফোন থেকেই কল করে ডেকে আনা হয় হাবিবুরকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সীমা রাণী সরকার।

জানা যায়, হাবিবুর রহমান নামে ওই কিশোরের লাশ মাথাবিহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ২২ মার্চ লাশ উদ্ধারের পর হত্যা মামলা হয় পরদিন ২৩ মার্চ। এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিল হাবিবুর। তার বাড়ি হবদেশ গ্রামে। বাবার নাম জাহান উদ্দিন। হাবিবুর ঘোড়ামারা মল্লিক মণ্ডল দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

হাবিবুরের লাশ উদ্ধারের দুইদিন পর ২৫ মার্চ ঢাকার গাজীপুর থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে ময়নাল হক নামে একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পেশায় তিনি ভ্যানচালক। আটকের পর তিনি ২৭ মার্চ প্রথমে পুলিশ ও পরে আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিতে জানান, তার স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার জেরে হত্যা করা হয় হাবিবুরকে। ময়নালের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে বুধবার বিকেলে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সীমা রানী সরকার।

ময়নাল জানান, নিজ স্ত্রীর সঙ্গে কিশোরের পরকীয়ার সম্পর্ক আছে- এমন ঘটনা জানতে পেরে স্ত্রীর মুঠোফোন থেকে কল দিয়ে ডেকে আনা হয় ওই কিশোরকে। এরপর জামালপুরের দিগপাইত ইউনিয়নের হবদেশ গ্রামে হাত-পা বেঁধে হত্যা করা হয়। লাশ লুকিয়ে রাখা হয় একটি ডোবায়। ঘটনার এক মাস পর লাশের খোঁজ পান ওই কিশোরের স্বজনেরা।

সীমা রানী সরকার জানান, হাবিবুরের সঙ্গে ময়নাল হকের ৩২ বছর বয়সী স্ত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে ময়নাল তা জানতে পারেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো।

স্বীকারোক্তিতে ময়নাল বলেছেন, এ কারণেই হাবিবুরকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। সে অনুযায়ী ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে স্ত্রীর মুঠোফোন থেকে ওই ছাত্রকে ডেকে আনা হয়। রাত ১টার দিকে বাড়ির কাছেই শিল্পাঞ্চলের একটি উন্মুক্ত মাঠে নিয়ে ওই ছাত্রের হাত-পা বেঁধে হত্যা করা হয়। পরে লাশ মাঠের কাছেই বামনজি বিলে লুকিয়ে রাখা হয়। ঘটনার পর ময়নাল পালিয়ে চলে যান গাজীপুর।

সীমা রানী সরকার বলেন, মুঠোফোনের সূত্র ধরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২৫ মার্চ ময়নাল হককে গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করে। তার স্বীকারোক্তি অনুয়ায়ী হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া আরো তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেফতার হওয়া সবাই হবদেশ গ্রামের বাসিন্দা।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ