About Us
Suraya Parvin
প্রকাশ ০৩/০৩/২০২১ ০৩:৩৪পি এম

হৃদয়ের রক্তক্ষরণ শুনিতে কি পাও!

হৃদয়ের রক্তক্ষরণ শুনিতে কি পাও! Ad Banner

আলী রা: এর জন্য জুমার খুতবায় অভিশাপ চালু করেছিল কেউ। ইমাম হাসান  হুসাইনের বাবা, অভিশাপ তার প্রাপ্য। অস্বীকার করার স্পর্ধা আছে কি কারো?

ইমাম হোসাইন রা: এর জন্য প্রাণ কাঁদতো। গোপন  চিঠিতে লিখলেন, আপনি আমার কলিজার চেয়েও প্রিয়। কিন্তু এখানে আসলে তলোয়ারের ধার ছাড়া আর কিছুই দেয়ার নেই আপনাকে। 

সময় বড় নির্মম হয়ে উঠেছিল।

কুফা শব্দটা মিরজাফরের নামের মতো একটা নির্দিষ্ট অর্থবহ হয়ে রইলো।'কুফা' একটা শহর। আর আমাদের কথায়, আমাদের বোধে, কুফা একটা বাঁধা, বিন্ধাচল পর্বতের মতো গতিরোধক। আরো নিচে নামলে, কুফা একটা অলক্ষ্মী। 

অলক্ষ্মী হিন্দুয়ানী শব্দ। কিছু মনে হয় করার নেই।

বরকতময়, বরকতহীন এখানে  য্যুৎসই হচ্ছে না।

 বাংলায় শব্দভাণ্ডার খুব একটা সমৃদ্ধ না। আমার নিজের জন্য আর কি।

আমরা কুফাবাসী কলিজার হুসাইনকে নিজের তলোয়ারের ধার দেখাচ্ছি। দোর্দণ্ড প্রতাপশালীর বন্দী খাঁচায় থেকে। আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। শুনিতে কি পাও!!

চল্লিশ বছর আলবেনিয়া শাসন করা  এনভার হালিল হোজ্জা। দোর্দণ্ড প্রতাপশালী তার সে সময়ের। নিরাপত্তা ভয়ে ভীত সে জন, গড়ে তুলেছিলেন অসংখ্য বাংকার। দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। ছোট ছোট সেসব। এর মাঝে একটা এতোটাই বিশালাকার, যেন একত্রে দুটো ফুটবল মাঠ। একশত ছয়টি কক্ষ আছে তাতে। কারো মতে শ'তিনেক। বিশ্বযুদ্ধের তাণ্ডবলীলা যতই হোক, তার নাগাল পাবে না কেউ। 

ভিন্নমত এলাউ হতো না। নিরুদ্দেশ হয়ে যেতো চেনাজানা যুবকেরা। চুপ ছিল জনতা, একদম চুপ। দেশে বিশৃঙ্খলাহীন মহাশান্তি। কবরের নিস্তব্ধতা। লাইন দিয়ে দিয়ে খাবার কিনছে। চিজ, সসেজ না। রুটি, পাস্তা আর সস। আমাদের ভাত, ডাল। একটু আলু পেলে ভদ্রজনোচিত কিছু হয়ে যায়।

মাদার তেরেসা কিন্তু সে দেশের। সেই সময়ের। এনভার হোজ্জার ( হোকসা)  শাসনামল তার জীবনকালে। সারা পৃথিবীতে শান্তির বারতা হলেন।  এই রত্ন নিজ বাড়িতে রইলেন না অথবা থাকতে পারলেন না।

ধর্মীয় মূল্যবোধ থাকতে পারবে না। জ্যাজ সঙ্গীত ছিল নিষিদ্ধ। তার মৃত্যুর বছর পাঁচেক পরে কমিউনিস্ট শাসন, সে দেশ ছেড়ে পালায়।

হোজ্জার ভাস্কর্য উপড়ে ফেলে উল্লাস করেছিল সে দেশের মানুষ। বিশাল সে বাংকার এখন নাম নিয়েছে বাংকআর্ট। এখানে, একটা কনসার্ট রুমের চারিদিকে হোজ্জার সময়কার মন্ত্রী, আমলা আর হোজ্জার ছবি সাজিয়ে রাখা। বাজানো হয় 'জ্যাজ' সঙ্গীত। আজ  যেন তাদের বাধ্য করা হচ্ছে, এই সঙ্গীত শুনতে।

বার্লিন দেয়ালের প্রভেদ ঘুচেছে সেই কবে!! লেনিন গ্রাদ নাম নিয়েছে সেন্ট পিটারসবাগে।

"রাজা যায়, রাজা আসে। প্রজাও যায়, নতুন প্রজা আসে। কিছুই টিকে থাকে না। ক্ষুধার্ত সময় সব গিলে ফেলে, তবে গল্প গিলতে পারে না। গল্প থেকে যায়।"

হোজ্জার বাংকারে বর্তমানের কনসার্ট কক্ষ আর সে সময়ের মন্ত্রী আমলাদের ছবি।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ

Verified আই নিউজ বিডি ডেস্ক
প্রকাশ ১৯/০৪/২০২১ ০৩:০৭পি এম