Verified MD. MIRAZUL-AL- MISHKAT
প্রকাশ ২৪/০১/২০২১ ০৮:৪০পি এম

সফট লোনের টাকা আগামী মাসের শুরুতেই পাচ্ছে হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা

সফট লোনের টাকা আগামী মাসের শুরুতেই পাচ্ছে হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা Ad Banner

করোনাকালীন অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখতে স্মার্টফোন কিনতে অসামর্থ্য-আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের শিক্ষাঋণের ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) থেকে স্মার্টফোন কিনতে অসামর্থ্য-আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের একটি তালিকা ইউজিসিতে প্রেরণ করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় ইউজিসির শিক্ষাঋণ পাবেন হাবিপ্রবি’র ১ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী। বিষয়টি নিশ্চিত করে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. ইমরান পারভেজ।

এ বিষয়ে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক বলেন, " শিক্ষার্থীদের আবেদনপত্র যাচাই বাছাই করে সফট লোনের জন্য ইউজিসিকে আমরা একটি তালিকা পাঠিয়েছিলাম। 

এর প্রেক্ষিতে ইউজিসি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ হাজার ৬৭৫ জন শিক্ষার্থীকে সফটলোন প্রদানের জন্য অনুমতি দেয় । কিন্তু নীতিমালা শিক্ষার্থীরা পড়ার পর আমরা দ্বিতীয় ধাপে পুনরায় অনলাইনে আবেদন করতে বলি। সেখানে প্রায় ১৪৮৫ জনের আবেদন জমা পরে আমাদের কাছে। আমরা সেই আবেদন সমূহ যাচাই-বাছাই কাজ শুরু করেছি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের তালিকার বাহিরে কেউ আবেদন করে থাকলে তারা লোন পাবে না। আজ ( রবিবার ) ইউজিসির সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি আগামী ২৮ জানুয়ারির মাঝেই আমরা চেক পেয়ে যাবো। তবে চেক পাওয়ার পর সকল প্রক্রিয়া শেষ করতে সাতদিন সময় লাগবে আমাদের। তবে আশা করছি ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা সফট লোনের টাকা নিজেদের ব্যাংক একাউন্টে পেয়ে যাবে "।


এ সময় তিনি আরো বলেন, “যেহেতু এটি সরকারি টাকা সেহেতু চার কিস্তিতে সফট লোনের টাকা শিক্ষার্থীদের পরিশোধ করতে হবে।

আর এই লোন পেতে গেলে শিক্ষার্থীদেরকে অবশ্যই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে।

কারণ সব টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হবে। এজন্য আমার আহ্বান থাকবে যেসকল শিক্ষার্থীদের এখনো ব্যাংক একাউন্ট নেই তারা যাতে দ্রুত নিজের ব্যাংক একাউন্ট খুলে ফেলে। এছাড়া হাবিপ্রবির ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা যারা এখনো স্টুডেন্ট আইডি কার্ড পায়নি কিংবা ভোটার আইডি কার্ড হয়নি তাদের জন্য আমরা বিশেষ ব্যবস্থায় হাবিপ্রবির রুপালি ব্যাংক শাখায় ব্যাংক একাউন্ট খুলতে পারে সে ব্যাপারে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠাবো "।  



সফটলোনের বিষয়ে ইউজিসি প্রেরিত নীতিমালায় বলা হয়েছে,‘ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের যে তালিকা কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছে, তাদেরকে ঋণের বিষয়টি যথাযথভাবে অবিহিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক কমিশনে প্রেরিত তালিকায় শিক্ষার্থীর নাম আছে কি-না তা পুনরায় যাচাই করে দেখতে হবে ও কমিটির সুপারিশের আলোকে আট হাজার টাকা সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে আগামী ৩১ জানুয়ারি, ২০২১ এর মধ্যে দিতে হবে।’

নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের প্রদানকৃত এই ঋণ সম্পূর্ণ সুদমুক্ত এবং স্মার্টফোন ক্রয়ের ভাউচারটি সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে ১০ ফ্রেব্রুয়ারী ২০২১ এর মধ্যে সফটলোন অনুমোদন কমিটি’র সদস্য-সচিবের নিকট জমা দিতে হবে।

এছাড়া, ইউজিসির নীতিমালা সম্বলিত নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘এই ঋণের অর্থ সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় খালার পর কিংবা অধ্যয়নকালীন সময়ে ৪টি সমান কিস্তিতে বা এককালীন পরিশোধে করিতে হইবে এবং ঋণের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর নামে কোন ট্রান্সক্রিস্ট ও সাময়িক/মূল সনদ ইস্যু করা হবে না।’


প্রসঙ্গত, হাবিপ্রবি থেকে সর্বপ্রথম শিক্ষাঋণের জন্য ২৫২৬ জন শিক্ষার্থীর নামের তালিকা পাঠানো হলে ইউজিসি একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থীকে ঋণ প্রদান করা হবে বলে জানায়। এর প্রেক্ষিতে তালিকা সংশোধন করে পাঠানো হলে ১ হাজার ৬৭৫ জন শিক্ষার্থীকে সফট লোন দেয়ার অনুমতি প্রদান করে ইউজিসি। দ্বিতীয় ধাপে প্রায় ১৮৫ জন শিক্ষার্থী সফট লোন নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে নি।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ