মোঃমাসুদ করিম
প্রকাশ ২৪/০১/২০২১ ১২:৩৯এ এম

প্রাথমিক শিক্ষকের আত্নকথন

প্রাথমিক শিক্ষকের আত্নকথন Ad Banner

শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড, শিক্ষকতা মহান পেশা, শিক্ষকদের সম্মান সবার উপর - এই বাক্যগুলো আজ অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাগুজে বাক্য হয়ে গেছে যা অনেকেই মন থেকে বিশ্বাস করে না।

অনেক স্বপ্ন ও প্রত্যাশা নিয়ে একজন টগবগে তরুণ এ পেশায় আসে কিন্তু কিছু দিনের মধ্যে হতাশা ও ক্লান্তি নিয়ে অন্য পেশায় চলে যায় অথবা চেষ্টা করে। কিন্তু রাষ্ট্র কখনো বুঝতে চেষ্টা করে না কেন তারা অন্যদিকে ছুটছে অথবা বুঝেও না বুঝার চেষ্টা করছে।

প্রাথমিকের শিক্ষকদের শুরুর বেতন সাকুল্যে ১৬,০০০ থেকে ১৭,০০০ টাকা কিন্তু এ বাজার মূল্যে পরিবারসহ স্বাভাবিক জীবনযাপন করা প্রায় অসম্ভব। চাকুরীতে ঢুকে যদি নিজের পরিবার চালানোর সামর্থ্য অর্জন না হয় তাহলে সে শিক্ষক কেন এ পেশায় থাকবে? অনেকে বলেন শিক্ষকদের বেতন কম হলেও সম্মান অনেক বেশি কিন্তু যারা বলেন তারাইতো সম্মান করে না। করবেই বা কেন?

যে শিক্ষক প্রতি মাসে আপনার কাছে টাকার জন্য হাত বাড়ায় আর কখনো হাওলাত দিতে পারে না তার জন্য আপনার সম্মান কমে যাবে এটাইতো স্বাভাবিক।শিক্ষকদের সম্মান আজ এমনভাবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত যাতে বিয়ের সময় মেয়েকে শিক্ষকদের হাতে তুলে দেওয়ার সাহস পায় না কারণ তারা সমাজে স্বচ্ছল নয়।

প্রাথমিকের অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪.৩০টা পর্যন্ত সপ্তাহে ছয় দিন হলে সে শিক্ষকের পরিবার নিয়ে ভাবার সময় কোথায়? কারণ অফিস সময় ব্যতীত ক্লাসের প্রস্তুতি, উপকরণ সংগ্রহ, খাতা মূল্যায়ন  ও যাতায়াত সময় যোগ করে দেখুন তাহলে বুঝতে পারবেন শিক্ষকের অবসর কোথায়?

শিক্ষকতা এমন একটা পেশা আপনি যদি একটা মান সম্পন্ন ক্লাস করাতে চান তাহলে অফিস সময়ের বাইরে যথেষ্ট শ্রম ও সময় দিতে হবে। আর এভাবে সময় ও শ্রম দেওয়ার পরেও যদি মাস শেষে অর্থকষ্টে ভোগেন তাহলে শিক্ষকতা পেশাকে আপনি কতদিন উপভোগ করতে পারবেন? পাঠক আপনি ভেবে দেখুন।

যে বাজারে এক কাপ চায়ের দাম ১০টাকা হয় সে বাজারে শিক্ষকদের দুপুরের খাবার বা টিফিন কিভাবে ৭টাকার কম হয় তা আমার বুঝে আসে না। অনেকে হয়তো বলবেন বেতন বাড়ালেইতো সব সমস্যা সমাধান হবে না। আমিও তাদের সাথে একমত, কারণ বেতন সমস্যা ছাড়াও এখানে হাজারো সমস্যা লুকায়িত।

আমাদের উচিত প্রাথমিক শিক্ষাকে মানসম্মত শিক্ষায় রুপান্তরিত করতে সকল সমস্যাকে চিহ্নিত করে আন্তরিকতার সাথে সমাধান করা। অর্থ চিন্তা মাথায় রেখে কোন শিক্ষকের পক্ষেই সম্ভব নয় মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা।

প্রাথমিক শিক্ষায় যদি আমরা মেধাবীদের আকৃষ্ট না করাতে পারি বা মেধাবীদের ধরে রাখতে না পারি তাহলে শিক্ষা আমাদের মেরুদণ্ড হবে তবে দুর্বল মেরুদণ্ড। শেষ করছি সুকান্তের ভাষায় "ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্নিমার  চাঁদ যেন সেখানে ঝলসানো রুটি "।                                                                                                


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ