Tamjid Shoumik
প্রকাশ ১৯/০১/২০২১ ০৯:৩৪পি এম

বিএনপি কি রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয়?

বিএনপি কি রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয়? Ad Banner

অনেক দিন আগে অবরোধ ডাকার মাধ্যমে রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় ছিল বিএনপি। এরপর হঠাৎ তাদের কোনো খোঁজ ছিলো না রাজনৈতিক মাঠে। তখনকার অবরোধ কর্মসূচী নিয়েও তাদের ছিলো না কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা।

বিএনপি বর্তমানে সরকার পতনের  আন্দোলনে যেতে চাইলেও তাদের নিজস্ব জনমত বা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাবে বারবার যে আন্দোলনের ডাক দিচ্ছে তাতে কোনো সাড়া পাচ্ছে না ।

২০১৫ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি নিয়ে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনোকিছুই বলেনি বিএনপি। এমনকি সেসময়  বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও এ বিষয়ে কিছু বলেনি।

সেসময়ে অনেকের ধারণা ছিল, বেগম জিয়া ৫ জানুয়ারি, ২০১৬ সালের এক জনসভায় অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন।  কিন্তু বেগম জিয়া সেদিন বক্তৃতায় এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেননি। এতে করে লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি  বহাল কি-না তা অস্পষ্টই রয়ে যায়।২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি ডাকা অবরোধ এবং ফেব্রুয়ারিতে অবরোধ শুরুর পর সহিংসতায় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়।

দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিএনপির এই কর্মসূচির তাপ স্তিমিত হতে থাকে। এদিকে ২০১৫ সালের মার্চের মাঝামাঝিতে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হলে বিএনপিও ধীরে ধীরে এই ভোটের দিকে অগ্রসর হয়।

একপর্যায়ে হরতাল প্রত্যাহারের ঘোষণা এলেও অবরোধ চলছে বলেই জানানো হয়। সেসময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকতউল্লাহ বুলুর নামে আসা ২০১৫ সালের ২৯ মার্চের বিবৃতিতে অবরোধ চলবে বলে জানানো হয়েছিল।

পরবর্তিতে নিজের কার্যালয়ে অবস্থানরত খালেদা জিয়া তিন মাস পর ২০১৫ সালের ৫ এপ্রিল বাড়ি ফিরে যাওয়ার পর অবরোধ চলছে কি না, তা স্পষ্ট করে বিএনপির কোনো বিবৃতি বা বক্তব্য আসেনি। এদিকে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুতে তাঁর শোকাহত মা খালেদা জিয়াকে সমবেদনা জানাতে গিয়ে গেট থেকে ফিরে গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে পৌঁছায়। তবে কার্যালয়ের প্রধান ফটকটি ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় সেখানে আট মিনিট অপেক্ষা করার পর ফিরে যান তিনি। কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছাড়া

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানে গিয়েছিলেন একজন মা হিসেবে অন্য মাকে সহানুভুতি দেখাতে।

সরকার পতন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে ২০১৫ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে টানা অবরোধ ও হরতালের ডাক দেয় বিএনপি জোট। জোটের ডাকা সেই অবরোধ ২৮০ তম দিন পর্যন্ত স্থায়ী ছিলো।

তবে বাস্তবে সেই হরতাল ও অবরোধের কার্যকারিতা দেখা না গেলেও বিএনপি জোট আনুষ্ঠানিকভাবে অবরোধ প্রত্যাহার করেনি তখনো। এছাড়া ২০১৫ সালে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা

শুরু হওয়ার সময়েও এক বিবৃতিতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জোটের পক্ষ থেকে ৭২ ঘণ্টার এ হরতালের ঘোষণা দেন।

ফলে প্রথম দিনের পরীক্ষাই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে তখন। এতে সেসময় এসএসসি ও সমমানের ১৪ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা চরম উদ্বেগের মধ্যে পড়েছিলো।

সেসময় ২০১৫ সালের ৩০ জানুয়ারি রুহুল কবির রিজভী এক বিবৃতিতে এ বিষয়ে বলেন, চলমান অবরোধ দেশে শান্তির জন্য, নিরাপত্তার জন্য, মানুষকে তার প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। কোনো চোখরাঙানি,

হুমকি, যৌথ বাহিনীর “টার্গেট প্র্যাকটিস” আন্দোলনকারীদের অদম্য পথচলাকে থমকে দিতে পারবে না।’ তিনি বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় অস্বাভাবিক ফল, পাসের হার বেশি দেখানোর জন্য শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও

প্রতিযোগিতার মূল কাজ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে জাতিকে পঙ্গু করার জন্য সরকারকে দায়ী করেন।

নতুন সংসদ নির্বাচনের জন্য সংলাপ-সমঝোতার দাবিতে চলমান ২৫ দিনের অবরোধের মধ্যে চার দফায় হরতালও দেওয়া হয় সেসময়। স্ররকার পক্ষ বিএনপির সাথে সংলাপ বা সমঝোতা করতে চাইলেও বিএনপি

সরকারের সাথে কোনো সমঝোতায় বা সংলাপে আসে নি।

এরপর দুই পক্ষে অনেক কথা বলা বলি হলেও বিএনপি সংলাপ বা সমঝোতায় যায় নি সেসময়। ২০১৫ সালে বিএনপির ডাকা লাগাতার অবরোধের সময় সহিংসতায় ২৩ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং সেসময় পেট্রোল

বোমা ছোঁড়া এবং বিপুল পরিমাণ গাড়ি পোড়ানো হয়।

এই সময় জামায়াত এবং বিএনপি একই সাথে আন্দোলন করেছে। কিন্তু তারপর বিএনপির আন্দোলন কিছুটা স্তমিত হয়ে গেলেও জামায়াত আন্দোলন শুরু করে যুদ্ধাপরাধীর বিচার নিয়ে। কিন্তু জামায়াতের নিবন্ধন

বাতিল হয়ে যাওয়ায় এরপর এক পর্যায়ে জামায়াত স্তিমিত হয়ে যায়।

পরবর্তীতে বিএনপি আন্দোলন চালিয়ে যায় যেটা এখন পর্যন্ত বর্তমান।

তবে প্রশ্ন হলো বিএনপি আনুষ্ঠিক ভাবে গণমাধ্যমে তখনকার অবরোধের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আদৌ দিবে কিনা? জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল কিন্তু বিএনপি জোটের সাথে তারা কি আছে?


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ