• 0
  • 0
Snigdha
Posted at 14/01/2021 08:16:am

মনের বাড়ি যাই

মনের বাড়ি যাই

মন, এমন এক সত্তা, যা দেখা যায়না, ছোঁয়া যায়না। কিন্তু সে আছে, তার অস্তিত্ব সর্বত্র বিদ‍্যমান। কথায় বলে - দেহ নশ্বর, আত্মা অবিনশ্বর। তাই মনের গুরুত্ব সবকিছুর উর্ধে।

কারণে অকারণে মন খারাপ হওয়া মনেরই ধর্ম। দেখবেন, আপনার মন খারাপ হলে পুরো দিনটাই খারাপ কাটে। তখন কোন কিছুই করতে ভালো লাগেনা। কিন্তু এ অবস্থা তো বেশিক্ষণ জিইয়ে রাখা যায়না, তাই নয় কি? সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকতে হলে তথা উদ‍্যমী জীবন উপভোগ করতে চাইলে মনকে ভালো রাখতেই হবে। 

জীবনের কোন না কোন সময় প্রায় সবার মধ‍্যেই একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খায়, তা হলো, মন কি করে ভালো রাখা যায়? মন - সে যেমন ভালো থাকে, তেমনই কখনও কখনও সে ভালো নাও থাকতে পারে অর্থাৎ মনের অসুখ হতে পারে।

তবে কোনো কারণে যদি মন খারাপ থাকে বা নিজেকে সুখী না মনে হয় তবে চিন্তিত হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। ভাবুন সময়টি যদিও চাপের, তবে হঠাৎ মজার কিছু ঘটবে, ভালো কিছু হবেই আপনার জীবনে।  ডায়েট বা ব্যায়াম স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য জরুরি। এর থেকেও জরুরি সুখী থাকা।  আর জীবনে সুখী থাকার জন্যই আমাদের কিছু নিয়ম কানুন জীবনে সঠিকভাবে মেনে চলতে হবে। তো চলুন তাহলে দেখে নেয়া যাক, মন ভালো করার ছোট্ট কিছু টিপস -   

নিয়মিত হাঁটুন ঘরে যদি কিছু করার না থাকে, তবে মন ভালো করতে  কোন একটা খোলামেলা জায়গায় হাঁটতে বেরিয়ে যান। বাইরের সবুজ প্রকৃতি ও তাজা হাওয়া আপনার মনকে সতেজ করে তুলতে সাহায্য করবে। 

রোদে দাঁড়ান  নিয়ম করে যদি সকালে ঘুম থেকে উঠে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে কয়েক মিনিট রোদে দাঁড়াতে পারেন তা হলে শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন `ডি` পায়। ঝকঝকে সূর্যালোকের এমন ক্ষমতা আছে, যা মানসিক ভাবে সুস্থ রাখে। 

জল পান করুন  অনেক সময় ডিহাইড্রেশনের জন্য আমাদের মানসিক চাপ বেড়ে যায় এবং মন খারাপটি আরও বেশি করে আমাদের সামনে চলে আসে। তাই মন খারাপ দূর করতে পানি পান করে নিন এক নিঃশ্বাসে ১ গ্লাস। পানি পানের ফলে অনেকটা হালকা হয়ে যাবে মন। 

▪ বড় করে শ্বাস নিন যখন অনেক বেশি মন খারাপ হবে তখন তা আমাদের মস্তিষ্কে চাপ ফেলবে এবং মানসিক অশান্তি ও চাপ বাড়তে থাকবে। এই জিনিসটি দূর না করতে পারলে মন ভালো হবে না। তাই বড় করে শ্বাস নিন ও ধীরে ধীরে ছাড়ুন। এতে মস্তিষ্ক রিলাক্স হবে ও মানসিক চাপ কমতে থাকবে। সেই সাথে কমবে মন খারাপের মাত্রাও। 

চিৎকার করে কাঁদুন মনরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, আমরা যখন চিৎকার করি তখন আমাদের মস্তিষ্কে যে হরমোনের সৃষ্টি হয় তা মন খারাপের বিষয়টি দূর করে দেয়। তাই অনেক বেশি মন খারাপ লাগলে চিৎকার করুন একলা বসে, আপন মনেই। লুকিয়ে নিঃশব্দে কাঁদবেন না। চিৎকার করেই কেঁদে নিন খানিকক্ষণ। 

বন্ধু ও প্রিয়জনদের ফোন করুন  ম্যাসেজ নয়, বন্ধু ও প্রিয়জনদের সাথে মাঝে মধ্যে ফোনে কথা বলুন। বিশেষ করে মন খারাপের সময়। তাঁকে বলুন আপনার কষ্টের কথা। কোন কিছু শেয়ার করলে কষ্ট অনেকটাই কমে যায়। প্রয়োজনে যেকোন পরামর্শ চাইতে পারেন তাঁদের কাছ থেকে। 

▪ সবাইকে নিয়ে একত্রিত হোন  পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একত্রিত হোন, পাশাপাশি কিছু বন্ধুকে মাঝে মধ্যে দাওয়াত দিয়ে আনতে পারেন। এরপর সবাই মিলে মজাদার কোনো খেলা খেলুন। ভালো বন্ধুদের সঙ্গ আপনার সময়গুলোকে আনন্দে ভরিয়ে তুলতে সাহায্য করবে।   

নতুন কিছু করুন  নেতিবাচক ভাবনা থেকে বেরিয়ে যান। নতুন কিছু করুন। জিমে ভর্তি হোন বা খেলাধুলা কিংবা রান্নার ক্লাসে ভর্তি হতে পারেন। এতে আপনার মন ভালো রাখার জন্য দারুণ কাজে দিবে। আগামীকাল সকালে উঠে নতুন কী করবেন তাঁর পরিকল্পনা করুন। 

মাঝে মধ্যে বিচ্ছিন্ন হোন  এক বা দুই মিনিটের জন্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম থেকে বিছিন্ন হয়ে যান। নিজে নিজেই চিন্তা করুন। যেকোন সমস্যার সমাধান আপনি নিজে নিজেই পেয়ে যাবেন। এতে শুধু শুধু আর আপনার মন খারাপ হবে না। 

ঘুম  শরীর ও মন সুস্থ রাখতে বিশ্রাম খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটা দামি কিছু না। কম ঘুম বা বিশ্রাম শরীরের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। রক্তে সুগারের ভারসাম্যহীনতা, উচ্চ চাপ স্তর, স্থূলতা ও মানসিক সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। এসব থেকে ভালো থাকতে চাইলে প্রতিদিন আট ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। 

রান্না করুন  বেশি মন খারাপ হলে রাঁধতেও শুরু করতে পারেন। অনেক সময় মজার কোন রান্নাও আপনার মেজাজকে ভালো করে দিতে পারে। 

গান গাইতে পারেন  দ্রুত মন ভালো করতে গেয়ে উঠতে পারেন পছন্দের কোনো গান। নয়তো নানা ধরনের পছন্দের গান শুনতে পারেন। এটা মন ভালো করার সবচেয়ে ভালো উপায়। 

প্রিয়জনকে জড়িয়ে ধরুন  যখন আপনি আপনার ভালোবাসার মানুষকে জড়িয়ে ধরবেন তখন আপনার শরীর থেকে অক্সিটসিন নিঃস্বরিত হবে যা ভালো অনুভূত হওয়ার হরমোন হিসেবে পরিচিত। এটি আপনার বিষণ্নতা তাড়াতে সাহায্য করবে। ভালো থাকার এটি ছোট্ট একটি উপায়। 

প্রাণ খুলে হাসুন  হয়তো হাসার মতো পরিস্থিতি নেই, তবু চেষ্টা করুন হাসার। হাসি কখনো কখনো চাপ কমাতে সাহায্য করে, মেজাজ ভালো রাখে, বিষণ্ণতাকেও দূরে রাখে। তাই হাসুন। 

নিজেকে উপহার দিন মজার খাবার নিজের পছন্দের মজার কোনো খাবার খেয়ে নিন। বিশেষ করে চকলেট ধরণের কিছু খাবার। এতে করে ভালোলাগা আপনাআপনি উৎপন্ন হবে। কারণ পছন্দের কিছু করলে এবং খেলে মস্তিষ্কে ‘সেরেটেনিন’ নামক ভালোলাগার হরমোন উৎপন্ন হয়। 

ছবি দেখুন  পুরোনো ছবির অ্যালবাম দেখুন। তাতে মন খুব তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে যায়। কারণ পুরোনো দিনের মজার মজার কথা মনে করিয়ে দেয় ছবি। ফলে মন আপনা থেকেই খুশিতে ভরে ওঠে।

▪ অন্যকে সাহায্য করুন  পরিবারের সদস্যদের কাজে সাহায্য করুন বা বন্ধুদের কাজে সাহায্য করুন। এতে আপনার সময় যেমন কাটবে তেমনি মন ঝটপট ভালো করে ফেলার কিছু মজার খোরাগও পেয়ে যাবেন। যা আপনার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। 

মাঝে মধ্যে বিচ্ছিন্ন হোন  এক বা দুই মিনিটের জন্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম থেকে বিছিন্ন হয়ে যান। নিজে নিজেই চিন্তা করুন। যেকোন সমস্যার সমাধান আপনি নিজে নিজেই পেয়ে যাবেন। এতে শুধু শুধু আর আপনার মন খারাপ হবে না। 

শান্ত মন  মনের অতিরিক্ত চাপ শরীরের ওপর প্রভাব ফেলে। এ কারণে সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে চাপ এড়িয়ে চলা। ভালো থাকার এর চেয়ে সহজ উপায় কী হতে পারে? 

চলার পথে বার বার ভাবুন সব ঠিক হয়ে যাবে। যদিও খুব চাপের সময় এই ভাবনাটি সহজেই আসবে না, তবু ভাবুন ‌সব ঠিক হবে। আর জীবনে কি পেয়েছেন আর পেলেন না এ নিয়ে এতো চিন্তা না করে করে আগে ভাবুন আপনি এতোদিন যা পেয়েছেন তাই বা কজনা পায়। এই উপলব্ধি আপনাকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়ে মন ও শরীর ভালো রাখতে সাহায্য করবে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ