Thursday -
  • 0
  • 0
রায়হান আহম্মেদ
Posted at 12/01/2021 04:54:pm

ইসলাম যখন কারো মাঝে প্রবেশ করে

ইসলাম যখন কারো মাঝে প্রবেশ করে
কুরাইশ গোত্রের বিশাল বড় নেতা বনি আদি উপগোত্রের বড় নেতা হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রা.। যেই কুরাইশ গোত্রকে আরবের মানুষ এক বাক্যে শ্রেষ্ঠ গোত্র হিসেবে মেনে নিত। কারণ তারা কাবা শরিফের কাস্টোডিয়ান ছিলেন। যেই অনন্য ব্যক্তিত্ব ওমর ইবনুল খাত্তাব রা. এঁর ইসলাম গ্রহণের জন্য প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দোয়া করেছেন। বলেছেন

আল্লাহ পাক ওমর ফারুক রা. এঁর ইসলামকে কবুল করলেন। সেই হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রা. হজরত আবু বকর সিদ্দিক রা. এঁর প্রশংসা করতে গিয়ে বলছেন,

كانَ عُمَرُ يقولُ: أبو بَكْرٍ سَيِّدُنَا، وأَعْتَقَ سَيِّدَنَا يَعْنِي بلَالًا.

হজরত জাবির ইবনু আব্দিল্লাহ আল আনসারী রা. বলেন, হজরত ওমর ফারুক রা. বলতেন, হজরত আবু বকর "আমাদের সায়্যিদ" আমাদের নেতা। "আমাদের আরেক সায়্যিদ" বা নেতাকে আজাদ করেছেন অর্থ্যাৎ "সায়্যিদুনা" বিলালকে আজাদ করেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং- ৩৭৫৪)

সুবহানাল্লাহ! আবু বকর সিদ্দিক রা. কে সায়্যিদুনা বলেছেন, আমাদের নেতা বলেছেন এটা তো খুব স্বাভাবিক। ইসলামী জগতের দ্বিতীয় খলিফা, রোমান ও পারস্য সাম্রাজ্যকে পদানত করা শাসক হজরত ওমর ফারুক রা. হজরত আবু বকর সিদ্দিক রা. এঁর আজাদকৃত দাস হজরত বিলাল ইবনু আবি রাবাহ হাবশি রা. কে "সায়্যিদুনা" বলছেন!

Can you even imagine!

This is the beauty of Islam.

ইসলাম যখন আপনার হৃদয়গহীনে প্রবেশ করবে তখনই কেবল এরকম বিনয়, নম্রতা, উদারতা ও মহানুভবতার প্রকাশ সম্ভব।

এখানে এসেই ড. আল্লামা ইকবাল রাহ. বলছেন,

"এক হি সাফ মে খাড়া হো গেয়া, মেহমুদ ও আয়াজ,

না কোই বান্দা রাহা না কোই বান্দা নাওয়াজ।"

সম্ভ্রান্ত ও অবহেলিত এসে দাঁড়িয়ে গেল একই কাতারে,

কেউ কারো প্রভূ রইল না, না রইল কেউ প্রভূ তোষনকারী।

হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রা. সায়্যিদুনা বিলাল রা. কে এই সম্মান দিয়েছেন, কারণ ইসলাম গ্রহণের দিক থেকে সায়্যিদুনা বিলাল রা. হজরত ওমর ফারুক রা. এঁর সিনিয়র ছিলেন। ইসলামের জন্য হজরত বিলাল রা. যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, যে অত্যাচার অবিচার সহ্য করেছেন তা হজরত ওমর ফারুক রা এঁর করতে হয়নি। ইসলামের জন্য কে কতটুকু ত্যাগ করেন সেটা হচ্ছে সম্মান পাওয়ার মানদণ্ড।

ইসলাম পূর্ব পৃথিবীর দুই সুপার পাওয়ার রোম ও পারস্য সাম্রাজ্য যখন মুসলমানদের করতলগত হয়ে যায়, তখন আমিরুল মুমিনিন হজরত সায়্যিদুনা ওমর ফারুক রা. রোমানদের অংশ শামের চীফ জাস্টিস নিয়োগ করেন সায়্যিদুনা আবুদ দারদা রা. কে এবং পারস্যের অংশ অর্থ্যাৎ কুফার চীফ জাস্টিস নিয়োগ করেন সায়্যিদুনা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. কে। আসহাবে সুফফার দুই গরীবতম সাহাবি ছিলেন দুজনই। যুহুদ তাকাশশুফ অর্থাৎ দুনিয়া বিমুখ জীবন যাপনের জন্য এই দুজনই বিখ্যাত ছিলেন, অনুপম মডেল ছিলেন। এবং একদম শুরুতে ইসলাম গ্রহণকারীদের অন্যতম। তাঁরা হেন কষ্ট নাই, ত্যাগ নাই যা স্বীকার করেন নাই। সায়্যিদুনা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. কে সাহিবুন নালাইন, বা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার জুতা মুবারক বহনকারী বলা হত। সফরে কিংবা হদরে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার জুতাজুড়া বুকের সাথে আগলে রাখতেন যিনি। এটাই হচ্ছে সম্মান পাওয়ার মাপকাঠি।

এমনকি হজরত আবু সুফিয়ান রা. এঁর মত মক্কার সাবেক সর্দার ও মক্কা বিজয়ের পর ইসলাম গ্রহণ করা সাহাবাগণ এসে হজরত ওমর ফারুক রা. এঁর রাজসভার বাহিরে লাইন দিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে থাকতেন খলিফার সাথে মুলাকাত করার জন্য। আর খলিফা ব্যস্ত থাকতেন সেই সকল সাহাবাকে নিয়ে যারা ইসলামের জন্য  অসংখ্য কুরবানী দিয়েছেন। যাদেরকে মক্কায় খুব অবহেলা করা হত। নির্যাতন নিষ্পেষণ করা হত৷

আসলে হজরত ওমর ফারুক রা. প্রিয় নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার সেই বিদায় হজ্জের শেষ ভাষণ অনুযায়ীই আমল করেছেন। যেখানে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,  "أَلَا لَا فَضْلَ لِعَرَبِيٍّ عَلَى أَعْجَمِيٍّ وَلَا لِعَجَمِيٍّ عَلَى عَرَبِيٍّ وَلَا لِأَحْمَرَ عَلَى أَسْوَدَ وَلَا أَسْوَدَ عَلَى أَحْمَرَ إِلَّا بِالتَّقْوَىসাবধান! অনারবের উপর আরবের কোন মর্যাদা নাই, আরবের উপর অনারবের কোন মর্যাদা নাই,

 কালোর উপর সাদার কোন প্রাধান্য নেই সাদার উপর কালোর কোন প্রাধান্য নেই একমাত্র তাকওয়া ব্যাতীত।

إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সে-ই সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত যে সর্বাধিক পরহেযগার। (৪৯ঃ১৩)

সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া আজহারী প্রিন্সিপাল ও

গবেষকঃ আল-আজহার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ