• 0
Verified আই নিউজ বিডি ডেস্ক
Posted at 11/01/2021 02:37:pm

আঘাত এলেই মানুষ সচেতন হয়: প্রধানমন্ত্রী

আঘাত এলেই মানুষ সচেতন হয়: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্তে বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি পরিবর্তন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ সোমবার (১১ জানুয়ারি) সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আঘাত এলেই মানুষ সচেতন হয়।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের জন্য যেটা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিলো যখন পদ্মা সেতু নিয়ে প্রশ্ন করা হলো। আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক এর পেছনে আমাদেরই দেশের কিছু লোক এর সাথ জড়িত। এটাই হচ্ছে সবচেয়ে দুর্ভাগ্যের বিষয় যে সামান্য একটা ব্যাংকের এমডির পদের লোভে একটা দেশের সার্বিক উন্নয়নের বিরাট সুযোগ পদ্মা সেতু, দক্ষিনের ২২ টি জেলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে।

আমাদের জিডিপিতে প্রায় ২ শতাংশ যোগ হতে পারে, সেই পদ্মা সেতুটাই বন্ধ করার ব্যবস্থা নিয়েছিলো।

তিনি বলেন, বোধহয় একটা আঘাত আসলে মানুষ সচেতনও হয় নিজের কাজ করা শেখে। আমরা সেটাই শিখেছি। এই আঘাতটা আমাদের উপর এসেছিলো আমরা হতাশ হইনি। চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম, পদ্মা সেতু নিজেদের অর্থায়নে করবো সে ঘোষণাও দিয়েছিলাম। আজকে সেটা সেটা বাস্তবে রুপ পেয়েছে।

এই একটা সিদ্ধান্তই সারা বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি পরিবর্তন করে দিয়েছে যে বাংলাদেশ পরনির্ভরশীল না।

বঙ্গবন্ধুর উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যাদের সম্পর্কে জাতির পিতা বলেছিলেন দাবায়ে রাখতে পারবে না, দাবায় রাখা যে যায় না সেটা আমরা প্রমান করেছি। আমাদের এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে। আমাদের যতটুকুই আছে, আমাদের যে বিশাল জনগোষ্ঠীর কর্মক্ষম করে তাদের নিয়েই আমরা কাজ করতে পারবো।

আমাদের বিশাল উর্বর ভূমি এবং আমাদের দেশের মানুষ তাদেরকে নিয়েই আমরা দেশকে গড়বো।

লম্বা সময় সরকার ক্ষমতায় থাকাতে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্নিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সরকার প্রধান।

তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়াতে একটা সুযোগ আমাদের হয়েছে যে আজকের বাংলাদেশ সারা বিশ্ব সম্মান জানায়। আগে যেমন বাংলাদেশের কথা শুনলেই বলতো প্রকৃতিক দূর্যোগ ঝড় বন্যা দারিদ্রতা। এখন আর সে কথা কেউ বলে না। বরং বাংলাদেশ সারা বিশ্বে একটা দৃষ্টান্তে স্থাপন করেছে কিভাবে উন্নয়ন করা যায় দারিদ্র বিমোচন করা যায়, কর্মসংস্হান করা যায়, কিভাবে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নত করা যায়।

এ ধারণটা আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে। যাতে করে আমাদের যে লক্ষ্য আমরা যে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা দিয়েছি এবং পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা করেছি সেটার বাস্তবায়ন আমরা করবো। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।

২০২১ সাল আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মন্ত্রিসভার সদস্যদের নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ২০২১ সালের প্রথম মিটিং আমরা করছি। সবাইকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা। এ সালটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন। ২০২০ সাল আমরা আমাদের মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন করছি। সেই সাথে ২০২১ সাল আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ন জয়ন্তিও আমরা উদযাপন করতে যাচ্ছি।

বাংলাদেশের জন্য এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সৌভাগ্য আমি কৃতজ্ঞতা জানাই বাংলাদেশের জনগনের প্রতি তারা আমাকে ভোট দিয়ে তাদের সেবা করার সুযোগ করে দিয়েছেন। তাই আমরা ক্ষমতায় থেকে মানুষের সেবা করাতে পারছি।

নতুন বছরে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, আজকে আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার সকল শর্ত পূরণ করেছি। জাতির পিতা চেয়েছিলেন বাংলাদেশকে ক্ষুধামুক্ত দারিদ্রমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে। আমরা তার জন্মশত বার্ষিকীতে করোনা ভাইরাসের কারনে অনেক অনুষ্ঠান করতে পারি নি।

কিন্তু আমাদের লক্ষ স্থির করেছি, এদেশে একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না, প্রতিটি ঘর আলোকিত হবে, শিক্ষা স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে মৌলিক চাহিদাগুলো আমরা পুরণ করবো, কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করবো, দেশের আমরা এগিয়ে নিয়ে যাবো।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ