Saturday -
  • 0
  • 0
Rakib Monasib
Posted at 08/01/2021 12:36:pm

সিন্ডিকেট কারসাজি: সীমিত আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস

সিন্ডিকেট কারসাজি: সীমিত আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস

বাজারে সিন্ডিকেটের কারসাজি কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ও মজুদ পরিস্থিতি ভালো থাকলেও বছরের শুরুতেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে হু-হু করে। ভরা মৌসুমে চাল থেকে শুরু করে ডাল, ভোজ্যতেল, মাছ-মাংসসহ একাধিক পণ্য ভোক্তার বাড়তি দরে কিনতে হচ্ছে।

এতে রীতিমতো নাভিশ্বাস উঠেছে সীমিত আয়ের মানুষের। এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে- সব সময়ই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আছেন যারা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন। এবারও তাই হয়েছে। তবে অসাধুরা কারসাজি করলেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বাজার পণ্যমূল্য পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, গত এক বছরের ব্যবধানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি সরু চাল ভোক্তাকে ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেশি দরে কিনতে হচ্ছে। কেজিতে মাঝার আকারের চাল কিনতে হচ্ছে ২৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি দরে। আর মোটা চাল প্রতি কেজি ৪৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেশি টাকায় ব্যয় করছে ভোক্তা।

ভোজ্যতেলের মধ্যে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন এক বছরের ব্যবধানে ১৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন ১৯ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি লিটার পাম অয়েল সুপার বিক্রি হচ্ছে ২০ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেশি দরে। পাশাপাশি এক বছরের ব্যবধানে প্রতি কেজি বড় দানার মসুর ডাল কিনতে ভোক্তার বাড়তি ১৭ দশমিক ৩৯ ও মাঝারি দানা ২১ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি গত বছরের তুলনায় ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেশি দরে কিনতে হচ্ছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস কিনতে হচ্ছে ৪ দশমিক ৬৩ ও খাসির মাংস ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেশি দরে। পাশাপাশি শিশুখাদ্যের মধ্যে কেজিতে গুঁড়োদুধের দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ০৬ শতাংশ। আর বছরের ব্যবধানে প্রতি কেজি চিনি ১ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেশিদরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন-,সরকারের পক্ষ থেকে চালের বাজারে সিন্ডিকেট (মিলার) চিহ্নিত করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে তাদের হুমকির প্রতিরোধ হিসেবে চাল আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া গত দুই বছর পেঁয়াজের মূল্যে কারসাজির কারণে অন্তত ১৫টি সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করেছিল সরকারের বিভিন্ন সংস্থা।

তবে এসব গ্রুপের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এছাড়া গত বছর দেশে আলুর সংকট না থাকলেও হিমাগার মালিকদের কারসাজিতে দাম বাড়ে হু-হু করে। তারপরও কর্তৃপক্ষ ছিল এক রকম নির্বিকার।

জানতে চাইলে কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, সিন্ডিকেটের কারসাজির কারণেই মূলত এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে ওই সিন্ডিকেট চিহ্নিত করলেও শাস্তির আওতায় আনা হয়নি। ফলে নানা ইস্যুতে গত বছর থেকে নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজার অস্থিতিশীল করে তুলছে। তাই ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণে দেশে বেশ কিছু আইন আছে, সেসব আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, সব সময়ই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আছেন যারা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন। এবার আমরা সেটা লক্ষ্য রাখব। অসাধুরা নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে কারসাজি করলেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোজ্যতেলের ব্যাপারে আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্য তেলের দাম বেড়েছে। সেজন্য দাম বাড়ার প্রভাব আমাদের দেশেও পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কী পরিমাণ বাড়ছে, আর দেশের বাজারে কী পরিমাণ বাড়ছে এটা নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা বারবার মিটিং করছে।

চালের দাম বাড়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চালের দাম বাড়ার তার অন্যতম কারণ হচ্ছে সরকারের কাছে যথেষ্ট মজুদ নেই। যার কারণে মিলাররা দাম বাড়িয়েছে। তাই সরকার চাল আমদানি করতে শক্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্যমতে, দেশে বছরে প্রায় ২০ লাখ টন ভোজ্যতেলের চাহিদা আছে। এর মধ্যে দেশীয় উৎপাদন দেড় থেকে দুই লাখ টন ও ২০-২২ লাখ টন ভোজ্যতেল আমদানি করা হয়। ফলে চাহিদার তুলনায় দেশে ভোজ্যতেলের সরবরাহ বেশি থাকে। পাশাপাশি দেশে বছরে ৫ লাখ টন মসুর ডালের চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হয় ২ লাখ ৫২ থেকে ৫৪ হাজার টন। আর আমদানি করা হয় প্রায় দুই লাখ ৬৫ হাজার টন। সেক্ষেত্রেও চাহিদার তুলনায় দেশে মসুর ডাল বেশি থাকে।

এছাড়া দেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২৪ লাখ টন। এর মধ্যে দেশে উৎপাদন হয় প্রায় ২৪ লাখ টনের বেশি। আর বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয় ১০-১১ লাখ টন। সেক্ষেত্রেও দেখা যা, নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটি দেশে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকে। তারপরও এই পণ্যটি নিয়ে সিন্ডিকেট করে প্রতি বছর ভোক্তার পকেট থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি দেশে প্রতিবছর প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ টনের মতো চালের চাহিদা আছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে প্রায় ৩ কোটি ৮৫ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়। এছাড়া ২০২০-২০২১ অর্থবছরে আউশ ও আমন মৌসুমে চাহিদা অনুপাতে ধান উৎপাদন হয়েছে। তারপরও এক শ্রেণির সিন্ডিকেট চাল নিয়ে কারসাজি করে সরকারও ভোক্তাকে জিম্মি করে ফেলেছে। ইতোমধ্যে আমন মৌসুমে সাড়ে তিন মাসের ব্যবধানে প্রতি বস্তা চালে (৫০ কেজি) সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা বাড়তি দরে চাল বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে মাছ-মাংসের কোনো ধরনের সংকট নেই, চাহিদার তুলনায় বেশি আছে। তারপরও দাম বাড়তি। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক ড. এম কে মুজেরি বলেন, যেকোনো ব্যক্তিগোষ্ঠীর হাতে বাজারের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা চলে গেলে ভোক্তার স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়। তাই ভোক্তার সুরক্ষা দিতে হলে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের দরকার প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া। কিন্তু দেশে সেটি হচ্ছে না। কিছু ব্যক্তি-গোষ্ঠীর হাতেই নিত্যপণ্য নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে। এরা কারসাজি করলে তখন সরকারের আর করার কিছু থাকে না।

তিনি মনে করেন, মুক্তবাজার অর্থনীতি থাকবে। কিন্তু তার মানে এই নয়, এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের যা খুশি তাই করার সুযোগ পাবে। বিশ্বের অনেক দেশে মুক্তবাজার অর্থনীতি থাকলেও সরকারের হাতে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও থাকে। বাংলাদেশেও এ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রাখতে হবে। এর জন্য দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর মনিটরিং সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর সুফল দেয়, তার জন্য টিসিবির সক্ষমতাও বাড়ানো জরুরি।

নতুবা দেশের প্রেক্ষাপটে ভোক্তার স্বার্থ রক্ষা করা দুরূহ ব্যাপার বলেই মনে হচ্ছে।

টিসিবির সূত্র মতে, রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬৬ টাকা। যা গত বছর একই সময় বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা। পাইজাম চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬০ টাকা। যা গত বছর একই সময় বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা। এছাড়া প্রতি কেজি মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণ জাতের চাল বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা। যা গত বছর একই সময় বিক্রি হয় ৩৫ টাকা। পাশাপাশি প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা। যা গত বছর একই সময়ে বিক্রি হয়েছে ৯৩ টাকা।

প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ১৩০ টাকা। যা আগে বিক্রি হয়েছে ১১০ টাকা। এছাড়া প্রতি কেজি বড় দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা। যা গত বছর একই সময় বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা। মাঝারি দানা প্রতি কেজি মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা। যা গত বছর একই সময় বিক্রি হয়েছে ৭৫ টাকা। প্রতি কেজি রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা। যা আগে ৩০০ টাকায় পাওয়া যেত। গরুর মাংস প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ টাকা। যা গত বছর একই সময় বিক্রি হয়েছে ৫৫০ টাকা। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকা। যা গত বছর একই সময় বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা।

প্রতি কেজি চিনি ৬৪-৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত বছর একই সয়ম ৬০-৬২ টাকায় বিক্রি হতো। ভোক্তারা বলছেন, বাজারে কোনো পণ্যের ঘাটতি নেই। সব ধরনের পণ্য চাইলেই চাহিদামতো পাওয়া যাচ্ছে। তবে বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। এটা কোনো বাজার ব্যবস্থাপনা হতে পারে না। এভাবে চলতে গিয়ে আয়ের সঙ্গে ব্যয় সামলানো যাচ্ছে না। তাই এবার সরকারের এদিকে নজর দেয়া উচিত।  বাজারে সিন্ডিকেটের কারসাজি কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ও মজুদ পরিস্থিতি ভালো থাকলেও বছরের শুরুতেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে হু-হু করে।

ভরা মৌসুমে চাল থেকে শুরু করে ডাল, ভোজ্যতেল, মাছ-মাংসসহ একাধিক পণ্য ভোক্তার বাড়তি দরে কিনতে হচ্ছে। এতে রীতিমতো ‘নাভিশ্বাস’ উঠেছে সীমিত আয়ের মানুষের।    এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে- সব সময়ই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আছেন যারা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন। এবারও তাই হয়েছে। তবে অসাধুরা কারসাজি করলেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।    সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বাজার পণ্যমূল্য পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, গত এক বছরের ব্যবধানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি সরু চাল ভোক্তাকে ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেশি দরে কিনতে হচ্ছে।

কেজিতে মাঝার আকারের চাল কিনতে হচ্ছে ২৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি দরে। আর মোটা চাল প্রতি কেজি ৪৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেশি টাকায় ব্যয় করছে ভোক্তা। ভোজ্যতেলের মধ্যে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন এক বছরের ব্যবধানে ১৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। 

এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন ১৯ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি লিটার পাম অয়েল সুপার বিক্রি হচ্ছে ২০ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেশি দরে।   

পাশাপাশি এক বছরের ব্যবধানে প্রতি কেজি বড় দানার মসুর ডাল কিনতে ভোক্তার বাড়তি ১৭ দশমিক ৩৯ ও মাঝারি দানা ২১ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি গত বছরের তুলনায় ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেশি দরে কিনতে হচ্ছে।   

প্রতি কেজি গরুর মাংস কিনতে হচ্ছে ৪ দশমিক ৬৩ ও খাসির মাংস ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেশি দরে। পাশাপাশি শিশুখাদ্যের মধ্যে কেজিতে গুঁড়োদুধের দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ০৬ শতাংশ। আর বছরের ব্যবধানে প্রতি কেজি চিনি ১ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেশিদরে বিক্রি হচ্ছে।   

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের পক্ষ থেকে চালের বাজারে সিন্ডিকেট (মিলার) চিহ্নিত করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে তাদের হুমকির প্রতিরোধ হিসেবে চাল আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

এছাড়া গত দুই বছর পেঁয়াজের মূল্যে কারসাজির কারণে অন্তত ১৫টি সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করেছিল সরকারের বিভিন্ন সংস্থা। তবে এসব গ্রুপের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এছাড়া গত বছর দেশে আলুর সংকট না থাকলেও হিমাগার মালিকদের কারসাজিতে দাম বাড়ে হু-হু করে। তারপরও কর্তৃপক্ষ ছিল এক রকম নির্বিকার।   

জানতে চাইলে কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান  বলেন, সিন্ডিকেটের কারসাজির কারণেই মূলত এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে ওই সিন্ডিকেট চিহ্নিত করলেও শাস্তির আওতায় আনা হয়নি।    ফলে নানা ইস্যুতে গত বছর থেকে নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজার অস্থিতিশীল করে তুলছে। তাই ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণে দেশে বেশ কিছু আইন আছে, সেসব আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে।   

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, সব সময়ই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আছেন যারা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন। এবার আমরা সেটা লক্ষ্য রাখব। অসাধুরা নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে কারসাজি করলেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোজ্যতেলের ব্যাপারে আমরা পর্যবেক্ষণ করছি।    আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্য তেলের দাম বেড়েছে। সেজন্য দাম বাড়ার প্রভাব আমাদের দেশেও পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কী পরিমাণ বাড়ছে, আর দেশের বাজারে কী পরিমাণ বাড়ছে এটা নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা বারবার মিটিং করছে।   

চালের দাম বাড়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চালের দাম বাড়ার তার অন্যতম কারণ হচ্ছে সরকারের কাছে যথেষ্ট মজুদ নেই। যার কারণে মিলাররা দাম বাড়িয়েছে। তাই সরকার চাল আমদানি করতে শক্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   

এদিকে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্যমতে, দেশে বছরে প্রায় ২০ লাখ টন ভোজ্যতেলের চাহিদা আছে। এর মধ্যে দেশীয় উৎপাদন দেড় থেকে দুই লাখ টন ও ২০-২২ লাখ টন ভোজ্যতেল আমদানি করা হয়। ফলে চাহিদার তুলনায় দেশে ভোজ্যতেলের সরবরাহ বেশি থাকে।   

পাশাপাশি দেশে বছরে ৫ লাখ টন মসুর ডালের চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হয় ২ লাখ ৫২ থেকে ৫৪ হাজার টন। আর আমদানি করা হয় প্রায় দুই লাখ ৬৫ হাজার টন। সেক্ষেত্রেও চাহিদার তুলনায় দেশে মসুর ডাল বেশি থাকে।   

এছাড়া দেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২৪ লাখ টন। এর মধ্যে দেশে উৎপাদন হয় প্রায় ২৪ লাখ টনের বেশি। আর বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয় ১০-১১ লাখ টন। সেক্ষেত্রেও দেখা যা, নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটি দেশে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকে।   

তারপরও এই পণ্যটি নিয়ে সিন্ডিকেট করে প্রতি বছর ভোক্তার পকেট থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি দেশে প্রতিবছর প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ টনের মতো চালের চাহিদা আছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে প্রায় ৩ কোটি ৮৫ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়।   

এছাড়া ২০২০-২০২১ অর্থবছরে আউশ ও আমন মৌসুমে চাহিদা অনুপাতে ধান উৎপাদন হয়েছে। তারপরও এক শ্রেণির সিন্ডিকেট চাল নিয়ে কারসাজি করে সরকারও ভোক্তাকে জিম্মি করে ফেলেছে।   

ইতোমধ্যে আমন মৌসুমে সাড়ে তিন মাসের ব্যবধানে প্রতি বস্তা চালে (৫০ কেজি) সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা বাড়তি দরে চাল বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে- দেশে মাছ-মাংসের কোনো ধরনের সংকট নেই, চাহিদার তুলনায় বেশি আছে। তারপরও দাম বাড়তি।   

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক ড. এম কে মুজেরি  বলেন, যেকোনো ব্যক্তিগোষ্ঠীর হাতে বাজারের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা চলে গেলে ভোক্তার স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়। তাই ভোক্তার সুরক্ষা দিতে হলে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের দরকার প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া। কিন্তু দেশে সেটি হচ্ছে না।   

কিছু ব্যক্তি-গোষ্ঠীর হাতেই নিত্যপণ্য নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে। এরা কারসাজি করলে তখন সরকারের আর করার কিছু থাকে না। তিনি মনে করেন, মুক্তবাজার অর্থনীতি থাকবে। কিন্তু তার মানে এই নয়, এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের যা খুশি তাই করার সুযোগ পাবে।    বিশ্বের অনেক দেশে মুক্তবাজার অর্থনীতি থাকলেও সরকারের হাতে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও থাকে। বাংলাদেশেও এ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রাখতে হবে।    এর জন্য দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর মনিটরিং সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর সুফল দেয়, তার জন্য টিসিবির সক্ষমতাও বাড়ানো জরুরি। নতুবা দেশের প্রেক্ষাপটে ভোক্তার স্বার্থ রক্ষা করা দুরূহ ব্যাপার বলেই মনে হচ্ছে।   

টিসিবির সূত্র মতে, রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬৬ টাকা। যা গত বছর একই সময় বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা। পাইজাম চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬০ টাকা। যা গত বছর একই সময় বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা।    এছাড়া প্রতি কেজি মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণ জাতের চাল বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা। যা গত বছর একই সময় বিক্রি হয় ৩৫ টাকা। পাশাপাশি প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা। যা গত বছর একই সময়ে বিক্রি হয়েছে ৯৩ টাকা। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ১৩০ টাকা। যা আগে বিক্রি হয়েছে ১১০ টাকা।   

এছাড়া প্রতি কেজি বড় দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা। যা গত বছর একই সময় বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা। মাঝারি দানা প্রতি কেজি মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা। যা গত বছর একই সময় বিক্রি হয়েছে ৭৫ টাকা। প্রতি কেজি রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা। যা আগে ৩০০ টাকায় পাওয়া যেত। গরুর মাংস প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ টাকা। যা গত বছর একই সময় বিক্রি হয়েছে ৫৫০ টাকা।    প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকা। যা গত বছর একই সময় বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা। প্রতি কেজি চিনি ৬৪-৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত বছর একই সয়ম ৬০-৬২ টাকায় বিক্রি হতো।   

ভোক্তারা বলছেন, বাজারে কোনো পণ্যের ঘাটতি নেই। সব ধরনের পণ্য চাইলেই চাহিদামতো পাওয়া যাচ্ছে। তবে বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। এটা কোনো বাজার ব্যবস্থাপনা হতে পারে না।    এভাবে চলতে গিয়ে আয়ের সঙ্গে ব্যয় সামলানো যাচ্ছে না। তাই এবার সরকারের এদিকে নজর দেয়া উচিত।         

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বাজার পণ্যমূল্য পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, গত এক বছরের ব্যবধানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি সরু চাল ভোক্তাকে ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেশি দরে কিনতে হচ্ছে।    কেজিতে মাঝার আকারের চাল কিনতে হচ্ছে ২৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি দরে। আর মোটা চাল প্রতি কেজি ৪৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেশি টাকায় ব্যয় করছে ভোক্তা।

ভোজ্যতেলের মধ্যে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন এক বছরের ব্যবধানে ১৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।   

এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন ১৯ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি লিটার পাম অয়েল সুপার বিক্রি হচ্ছে ২০ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেশি দরে। পাশাপাশি এক বছরের ব্যবধানে প্রতি কেজি বড় দানার মসুর ডাল কিনতে ভোক্তার বাড়তি ১৭ দশমিক ৩৯ ও মাঝারি দানা ২১ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি গত বছরের তুলনায় ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেশি দরে কিনতে হচ্ছে। 

প্রতি কেজি গরুর মাংস কিনতে হচ্ছে ৪ দশমিক ৬৩ ও খাসির মাংস ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেশি দরে। পাশাপাশি শিশুখাদ্যের মধ্যে কেজিতে গুঁড়োদুধের দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ০৬ শতাংশ। আর বছরের ব্যবধানে প্রতি কেজি চিনি ১ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেশিদরে বিক্রি হচ্ছে।   

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের পক্ষ থেকে চালের বাজারে সিন্ডিকেট (মিলার) চিহ্নিত করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে তাদের হুমকির প্রতিরোধ হিসেবে চাল আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।    এছাড়া গত দুই বছর পেঁয়াজের মূল্যে কারসাজির কারণে অন্তত ১৫টি সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করেছিল সরকারের বিভিন্ন সংস্থা। তবে এসব গ্রুপের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।   

এছাড়া গত বছর দেশে আলুর সংকট না থাকলেও হিমাগার মালিকদের কারসাজিতে দাম বাড়ে হু-হু করে। তারপরও কর্তৃপক্ষ ছিল এক রকম নির্বিকার।   

জানতে চাইলে কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান  বলেন, সিন্ডিকেটের কারসাজির কারণেই মূলত এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে ওই সিন্ডিকেট চিহ্নিত করলেও শাস্তির আওতায় আনা হয়নি।    ফলে নানা ইস্যুতে গত বছর থেকে নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজার অস্থিতিশীল করে তুলছে। তাই ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণে দেশে বেশ কিছু আইন আছে, সেসব আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে।   

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, সব সময়ই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আছেন যারা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন। এবার আমরা সেটা লক্ষ্য রাখব। অসাধুরা নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে কারসাজি করলেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোজ্যতেলের ব্যাপারে আমরা পর্যবেক্ষণ করছি।    আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্য তেলের দাম বেড়েছে। সেজন্য দাম বাড়ার প্রভাব আমাদের দেশেও পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কী পরিমাণ বাড়ছে, আর দেশের বাজারে কী পরিমাণ বাড়ছে এটা নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা বারবার মিটিং করছে।   

চালের দাম বাড়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চালের দাম বাড়ার তার অন্যতম কারণ হচ্ছে সরকারের কাছে যথেষ্ট মজুদ নেই। যার কারণে মিলাররা দাম বাড়িয়েছে। তাই সরকার চাল আমদানি করতে শক্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।    এদিকে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্যমতে, দেশে বছরে প্রায় ২০ লাখ টন ভোজ্যতেলের চাহিদা আছে। এর মধ্যে দেশীয় উৎপাদন দেড় থেকে দুই লাখ টন ও ২০-২২ লাখ টন ভোজ্যতেল আমদানি করা হয়। ফলে চাহিদার তুলনায় দেশে ভোজ্যতেলের সরবরাহ বেশি থাকে।   

পাশাপাশি দেশে বছরে ৫ লাখ টন মসুর ডালের চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হয় ২ লাখ ৫২ থেকে ৫৪ হাজার টন। আর আমদানি করা হয় প্রায় দুই লাখ ৬৫ হাজার টন। সেক্ষেত্রেও চাহিদার তুলনায় দেশে মসুর ডাল বেশি থাকে।    এছাড়া দেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২৪ লাখ টন। এর মধ্যে দেশে উৎপাদন হয় প্রায় ২৪ লাখ টনের বেশি। আর বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয় ১০-১১ লাখ টন। সেক্ষেত্রেও দেখা যা, নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটি দেশে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকে। 

 তারপরও এই পণ্যটি নিয়ে সিন্ডিকেট করে প্রতি বছর ভোক্তার পকেট থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি দেশে প্রতিবছর প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ টনের মতো চালের চাহিদা আছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে প্রায় ৩ কোটি ৮৫ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়।    এছাড়া ২০২০-২০২১ অর্থবছরে আউশ ও আমন মৌসুমে চাহিদা অনুপাতে ধান উৎপাদন হয়েছে। তারপরও এক শ্রেণির সিন্ডিকেট চাল নিয়ে কারসাজি করে সরকারও ভোক্তাকে জিম্মি করে ফেলেছে।   

ইতোমধ্যে আমন মৌসুমে সাড়ে তিন মাসের ব্যবধানে প্রতি বস্তা চালে (৫০ কেজি) সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা বাড়তি দরে চাল বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে- দেশে মাছ-মাংসের কোনো ধরনের সংকট নেই, চাহিদার তুলনায় বেশি আছে। তারপরও দাম বাড়তি।   

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক ড. এম কে মুজেরি  বলেন, যেকোনো ব্যক্তিগোষ্ঠীর হাতে বাজারের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা চলে গেলে ভোক্তার স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়। তাই ভোক্তার সুরক্ষা দিতে হলে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের দরকার প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া। কিন্তু দেশে সেটি হচ্ছে না।   

কিছু ব্যক্তি-গোষ্ঠীর হাতেই নিত্যপণ্য নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে। এরা কারসাজি করলে তখন সরকারের আর করার কিছু থাকে না। তিনি মনে করেন, মুক্তবাজার অর্থনীতি থাকবে। কিন্তু তার মানে এই নয়, এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের যা খুশি তাই করার সুযোগ পাবে।    বিশ্বের অনেক দেশে মুক্তবাজার অর্থনীতি থাকলেও সরকারের হাতে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও থাকে। বাংলাদেশেও এ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রাখতে হবে।   

এর জন্য দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর মনিটরিং সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর সুফল দেয়, তার জন্য টিসিবির সক্ষমতাও বাড়ানো জরুরি। নতুবা দেশের প্রেক্ষাপটে ভোক্তার স্বার্থ রক্ষা করা দুরূহ ব্যাপার বলেই মনে হচ্ছে।   

টিসিবির সূত্র মতে, রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬৬ টাকা। যা গত বছর একই সময় বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা। পাইজাম চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬০ টাকা। যা গত বছর একই সময় বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা।    এছাড়া প্রতি কেজি মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণ জাতের চাল বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা। যা গত বছর একই সময় বিক্রি হয় ৩৫ টাকা। পাশাপাশি প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা। যা গত বছর একই সময়ে বিক্রি হয়েছে ৯৩ টাকা। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ১৩০ টাকা। যা আগে বিক্রি হয়েছে ১১০ টাকা।   

এছাড়া প্রতি কেজি বড় দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা। যা গত বছর একই সময় বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা। মাঝারি দানা প্রতি কেজি মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা। যা গত বছর একই সময় বিক্রি হয়েছে ৭৫ টাকা। প্রতি কেজি রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা। যা আগে ৩০০ টাকায় পাওয়া যেত। গরুর মাংস প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ টাকা। যা গত বছর একই সময় বিক্রি হয়েছে ৫৫০ টাকা। 

  প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকা। যা গত বছর একই সময় বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা। প্রতি কেজি চিনি ৬৪-৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত বছর একই সয়ম ৬০-৬২ টাকায় বিক্রি হতো।    ভোক্তারা বলছেন, বাজারে কোনো পণ্যের ঘাটতি নেই। সব ধরনের পণ্য চাইলেই চাহিদামতো পাওয়া যাচ্ছে। তবে বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। এটা কোনো বাজার ব্যবস্থাপনা হতে পারে না।   

এভাবে চলতে গিয়ে আয়ের সঙ্গে ব্যয় সামলানো যাচ্ছে না। তাই এবার সরকারের এদিকে নজর দেয়া উচিত।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ