Thursday -
  • 0
  • 0
Mohammad Rabiul Hossain (Shamrat)
Posted at 07/01/2021 12:14:am

একজন পাখি প্রেমি চট্টগ্রামের সোলায়মান আলম শেঠ!

একজন পাখি প্রেমি চট্টগ্রামের সোলায়মান আলম শেঠ!

মোহাম্মদ রবিউল হোসেনঃআল্লাহর অপরূপ সৃষ্টিকৌশলের এক মহানিদর্শন অনিন্দ্যসুন্দর ও পরম আকর্ষণীয় পক্ষিকুল। আকাশে ডানা মেলে পাখিরা উড়ে বেড়ায় এবং নিজস্ব ভাষা ও পদ্ধতিতে সৃষ্টিকর্তার গুণগান করে। পক্ষিকুল মানবজাতির উপকারী, পরিবেশবান্ধব এবং পৃথিবীর সৌন্দর্যের একটি প্রতীক। পাখিরা প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য সুরক্ষা করে। যখন দল বেঁধে চক্রাকারে পাখিরা আকাশে চক্কর দেয় এবং কিচিরমিচির শব্দ করে ঘুরে বেড়ায়, তখন কলকাকলির এমন দৃশ্যাবলি দেখে মানুষ চরম আনন্দে বিমোহিত হয়। অন্যসব প্রাণীর মতো পাখিরাও আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা জানে এবং নিজ নিজ ভাষার পদ্ধতি জ্ঞানে তা পালন করে। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘তুমি কি দেখো না যে আকাশসমূহে ও পৃথিবীতে যারা আছে, তারা এবং উড্ডীয়মান পক্ষিকুল তাদের পাখা বিস্তার করে আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে? প্রত্যেকেই জানে তার প্রার্থনার এবং পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণার পদ্ধতি। তারা যা করে আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবগত।’ (সূরা আন-নূূর, আয়াত: ৪১) আল্লাহর নবী হজরত সুলায়মান (আ.)-কে পাখিদের ভাষা শিক্ষা দেওয়ার প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘সুলায়মান হয়েছিল দাউদের উত্তরাধিকারী এবং বলেছিল, ‘হে মানুষ! আমাকে পাখিকুলের ভাষা শিক্ষা দেওয়া হয়েছে...এটা অবশ্যই সুস্পষ্ট অনুগ্রহ।’

অথচ আমরা দেখি দিনের পর দিন গ্রামে বা শহরে ,খালে বা বিলে, নদী বা সমুদ্রের,বনে বা জঙ্গলে যে যেভাবে পারছে পাখি শিকার করছে।পাখি যে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় এক অনবদ্য জীব সেটা হয়তো বা মানুষ ভুলে গেছে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে দেখা যায় পাখির প্রতি মানুষের মায়া, মমতা, ভালবাসা অনেক। অথচ বাংলাদেশে তার বিপরীত। পাখির ভারসাম্য রক্ষা করার কথা বলা হলেও বাংলাদেশের তা মানা হয়না আইন কার্যকর ও হয় না যা অত্যন্ত কষ্টের এবং দুঃখের ।


পাখি প্রেমি নামে শুনি কিন্তু বাস্তবে দেখেছেন? আজ শুনাবো আসল পাখি প্রেমিকের গল্প! চট্টগ্রামে এমন একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি যিনি পাখির প্রতি অগাধ ভালোবাসা। এই মানুষটি যখন দেখে পাখিকে খাঁচায় বন্দী রেখেছে তখন তার অনেক কষ্ট লাগে । যখন তিনি দেখেন পাখি বাজারে বিক্রি করতে এনেছে তখন তার অনেক কষ্ট হয়। যখন বাজারে বিক্রি করতে এনেছেন এটিতো আইনত দণ্ডনীয়। তখন এই মানুষটি পাখি সব কিনে নেয় কিনে খাঁচার দরজা খুলে দেয় তখন পাখিগুলো মুক্ত আকাশে নিঃশ্বাস নিতে থাকে, আকাশের সাথে মিশে যেতে থাকে, মনেপ্রাণে আনন্দ নিয়ে উড়ে বেড়ায়,তখন তার অনেক ভাল লাগে। তিনিই চট্টগ্রামের রাজনীতিক ব্যক্তিত্ব জনাব সোলায়মান আলম শেঠ। প্রতি সপ্তাহে ২৫ হতে ৩০ টি পাখি খাঁচা থেকে ছেড়ে দেয়। প্রতিমাসে চার শুক্রবার তিনি পাখি অবমুক্ত করেন খাঁচা থেকে। প্রতি শুক্রবারে তার খরচ হয় সাড়ে পাঁচহাজার থেকে ছয় হাজার টাকা। প্রতি মাসে ২৫ হতে ২৭ হাজার টাকা।  এবার আপনারাই হিসাব করুন একজন পাখিপ্রেমী এক বছরে কত টাকা খরচ করে এবং ১০ বছরে তা কত দাঁড়াই? অবিশ্বাস্য হলেও ঘটনাটি একেবারেই সত্য। এই বিষয়ে জনাব সোলায়মান আলম শেঠ এর সাথে কথা বললে তিনি আই নিউজ বিডি ডট কমকে বলেন - বন্যপ্রাণি নিধন করা, আটক রাখা বেইআইনি ও শাস্তিমূলক অপরাধ। তাই আমি ওদের খাঁচায় আটকে থাকবে তা হতে দিই না। কেউ যেন পাখি শিকার না করে এ ব্যাপারে তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রচার প্রচারণা করে থাকেন বলে জানান। তিনি আরো বলেন,পাখিদের মুক্ত থাকতে দাও। তাদের কষ্ট দিও না। পাখি শিকার করা খুব অন্যায়। সবার প্রতি অনুরোধ কেউ যেন পাখি শিকার না করে।

জনাব সোলায়মান আলম শেঠ কে পাখি অবমুক্ত করতে গিয়ে এত টাকা কেন খরচ করেন তা জিজ্ঞেস করতেই তিনি আই নিউজ বিডি ডট কমকে বলেন, দেখেন আল্লাহ আমাকে অনেক টাকা দিয়েছে আল্লাহর রহমতে আমি সন্তুষ্ট। আমি হয়তোবা বাজার থেকে বা দোকান থেকে এ পাখি গুলো কিনে অবমুক্ত করি আমার ভালো লাগে। সামান্য টাকা দিয়ে যদি আমি পাখিগুলোকে মুক্ত আকাশে ছেড়ে দিতে পারি, তাদের নিঃশ্বাসের ব্যবস্থা করতে পারি এটি আমার ভালোলাগা। আমি টাকা খরচ করে পাখি অবমুক্ত করছি সবার প্রতি অনুরোধ আপনাদের টাকা খরচ করতে হবে না। আপনারা পাখি কে ভালবাসুন,পাখিকে গুলি করা থেকে রক্ষা করুন, পরিবেশ ভারসাম্য যাতে থাকে সেই বিষয়ে আপনারা সরকারের প্রতি দৃষ্টি দিন। বাজারে যদি কোনভাবে পাখি বিক্রি হয় সেটি আপনারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে ধরুন, কর্তৃপক্ষকে জানান তাহলেই হয়তোবা আমাদের দেশের পাখিগুলো প্রাণের নিঃশ্বাসে আকাশে উড়তে পারবে। পুরো বাংলাদেশের আকাশ পাখিতে কিচিরমিচির করবে আমাদের গান শুনাবে দেখবেন কত আনন্দ কত ভালোলাগা কাজ করবে। পরিবেশ ও ভারসাম্য রক্ষা হবে বিদেশ থেকে এদেশে পর্যটক আসবে লাইন বেঁধে শুধু পাখি দেখতে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ