• 0
  • 0
Verified আই নিউজ বিডি ডেস্ক
Posted at 05/01/2021 03:10:pm

গনতন্ত্রের দরজা জানালা বন্ধ করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ: রিজভী

গনতন্ত্রের দরজা জানালা বন্ধ করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ: রিজভী

ক্ষমতায় এসে আওয়ামীলীগ গণতন্ত্রের দরজা-জানালা বন্ধ করে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির সিনয়র যুগ্ম মগাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

আজ মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিন।

রিজভী বলেন, একটি ষড়যন্ত্রের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার পর থেকে গণতন্ত্রের সব দরজা-জানালা বন্ধ করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। নাগরিক স্বাধীনতার গলায় ফাঁসির দড়ি লটকিয়ে দিয়েছে।

নিঃশব্দ বোবাকণ্ঠই হচ্ছে আওয়ামী বাকশালীদের কাছে প্রিয়। ক্ষমতাসীনরা উৎপীড়নের পথ বেছে নিয়ে যেভাবে গণতন্ত্রকে বিষাক্ত গ্যাস চেম্বারে ঢুকিয়েছেন, তার পরিণতি হবে এই সরকারের জন্য ভয়াবহ।

মার্কিন রাষ্ট্রনায়ক টমাস জেফারসন বলেছেন,অন্যায় যখন আইন, তখন প্রতিরোধই একমাত্র কর্তব্য।

৫ জানুয়ারী বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে এক কালিমালিপ্ত দিন বলে অবহিত করে বলেব, সাত বছর আগে ২০১৪ সালের এই দিনে সারাদেশে ভোটার ও বিরোধী দলের প্রার্থীবিহীন একতরফা বিতর্কিত, প্রতারণামূলক, হাস্যকর ও শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ প্রহসনমুলক একদলীয় পাতানো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি আরও বলেন, সারাদেশে নির্বাচন কেন্দ্রগুলো ছিল একদম ফাঁকা। কোথাও কোথাও ভোটারের বদলে ভোট কেন্দ্রে চত্ষ্পুদ প্রাণীর বিচরণ দেখেছে বিশ্ববাসী।

স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ ভোট চুরি করে দাবি করে তিনি বলেন, ৭৩ সালের ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে নিজেদের কলংকিত রেকর্ডকে ভেংগে ফেলে।

স্বাধীনতা অর্জনের মাত্র সোয়া এক বছরের মাথায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ জনগণের উপর বিশ্বাস রাখতে পারেনি। তাদেরকে সন্ত্রাস-ভোট ডাকাতি কারচুপির আশ্রয় নিতে হয়েছিল।

জনগণের ক্ষমতার প্রতি অবিশ্বাসী এবং অবিশ্বস্ত আওয়ামী লীগ মানুষের ভোটাধিকার হরণ করতে পরিকল্পিতভাবে ২০১১ সালে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করে দিয়েছিলো।

এরপর যে কোনো উপায়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে তারা প্রস্তুতি গ্রহণ করতে থাকে।

রিজভী বলেন, ৫ জানুয়ারী ২০১৪ সালে প্রহসনের নির্বাচন প্রায় সকল রাজনৈতিক দল বর্জন করেছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা ও তাঁর দলকে ক্ষমতায় রাখার জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্ত দৃশ্যমান হয়।

তৎকালীন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব মিসেস সুজাতা সিং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদকে শেখ হাসিনার পাতানো নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য কি হুমকি দিয়েছিলেন তা এরশাদ নিজেই গণমাধ্যমে বলেছিলেন।

তারপরেও জাতীয় পার্টি তাদের সকল মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করার পরেও বন্দুকের নলের মুখে ভয় দেখিয়ে কয়েকজনকে বিজয়ী ঘোষনা করে গৃহপালিত বিরোধী দলের আসনে বসানো হয়।

বিএনপি এই শীর্ষ নেতা বলেন, আজকের এ দিনে ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে জনগণকে করা হয়েছে পরাধীন।

স্বাধীনভাবে ভোট প্রদানের অধিকার ও ইচ্ছাকে ধ্বংস করা হয়েছে। গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে সংবিধান,গণতন্ত্রকে।

অঘোষিত বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ‘লাল ঘোড়া’ দাবড়িয়ে দেয়ার আদলে স্বৈর সরকারের সন্ত্রাসী বাহিনী, গুম-খুন বাহিনী, দখল-লুটেরা বাহিনী, ধর্ষক বাহিনী লন্ডভন্ড করে চলেছে গোটা দেশ।

তিনি বলেন, এখন জনগন জানে, যে কোন নির্বাচনের আগে নৌকা প্রতীক টেন্ডারে তোলা হচ্ছে। যে প্রার্থী বেশী দামে কিনতে পারে তার ভাগ্যে শিকে ছেঁড়ে। নৌকা প্রতীক পাওয়া মানে নির্বাচিত হওয়া।

এভাবে আওয়ামী লীগ এখন ভোট ডাকাতলীগে পরিণত হয়ে বাংলাদেশের অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থাকে জাদুঘরে পাঠিয়ে দিয়েছে।

ধিক্কার জানিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কাছে নির্বাচন,গণতন্ত্র, মানবাধিকার, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব কিছুর মূল্য নেই।

তাদের কাছে জবরদস্তি করে ক্ষমতায় দুর্নীতি লুটপাট করে সব চেটেপুটে খাওয়াটাই মূখ্য।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ