Saturday -
  • 0
  • 0
Sk Shakil Ahmed
Posted at 30/11/2020 02:48:am

"ক্যান্টনমেন্ট কলেজ যশোর" স্বপ্ন পূরণের সারথি

"ক্যান্টনমেন্ট কলেজ যশোর" স্বপ্ন পূরণের সারথি

দক্ষিণবঙ্গের সেরা বিদ্যাপীঠ  ক্যান্টনমেন্ট কলেজ যশোরে অধ্যায়ন করতে পারা দক্ষিণবঙ্গের প্রতিটি ছাত্র ছাত্রীর কাছে স্বপ্নের মতো। তবে এসএসসি পেরোনো শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে ক্যান্টনমেন্ট কলেজ যশোর এ অধ্যায়ন করলে তারা কি সকল সুযোগ-সুবিধা সমূহ পাবে। তাই আজ আমরা আলোচনা করবো কেনো ক্যান্টনমেন্ট কলেজ যশোর একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্নের কলেজ হতে পারে।  

আসুন জেনে নেওয়া যাক ক্যান্টনমেন্ট কলেজ যশোরের সংক্ষিপ্ত পরিচয়ঃ-

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সামরিক ভূমি ও সেনানিবাস অধিদপ্তর কর্তৃক ১৯৬৯ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধায়নে কলেজটি পরিচালিত হচ্ছে। ৫৫ পদাতিক ডিভিশন, যশোর সেনানিবাসের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং কলেজটির প্রধান পৃষ্ঠপোষ্ক। কমান্ডার, ৫৫ আর্টিলারী ব্রিগেড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

এখন আলোচনা করবো- যে ১০ কারণে ক্যান্টনমেন্ট কলেজ যশোর হতে পারে একজন শিক্ষার্থীর প্রতীক্ষিত কলেজঃ-

১.নিয়ম-শৃঙ্খলা : ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, যশোর  বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দ্বারা পরিচালিত একটি কলেজ। একারণে কলেজটির শৃঙ্খলা সর্বস্তরে বজায় রাখা হয়।  কলেজ প্ররাঙ্গণে যথাযথ ইউনিফর্ম, ছাত্রদের চুল ছোট আছে কি না ও তাদের  ইউনিফর্ম, যথাসময়ে ক্লাস শুরু ও শেষ ইত্যাদি বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়া হয়। 

২. নিরাপত্তা :  সকল অভিভাবক  সন্তানদের নিয়ে চিন্তিত থাকেন, সন্তানদের নিরাপত্তা বাবা-মায়ের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়। তাই এই পয়েন্টটা বিশেষভাবে লেখা। কলেজ ক্যাম্পাসটি যশোর সেনানিবাসে, তাই সর্বস্তরে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। কলেজ প্রাঙ্গনে সার্বক্ষনিক নিরাপত্তা কর্মী রয়েছে।  এছাড়া কলেজটি সম্পূর্ণ রাজনীতি ও র‍্যাগ মুক্ত।  এছাড়াও কলেজে সন্তানের অনুপস্থিতি ও বিভিন্ন কার্যক্রম সরাসরি ম্যাসেজের মাধ্যমে অভিভাবক অবহিত করা হয়।

৩. অভিজ্ঞ শিক্ষক : কলেজের অধিকাংশ শিক্ষক দেশের নাম করা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাদের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। তারা অত্যন্ত যত্নসহকারে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন। শিক্ষকগণ সকলেই কম্পিউটার চালনায় পারদর্শী হওয়ায় তারা মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করে ক্লাস পরিচালনা করেন।

৪. মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম : যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজে প্রতিটি ক্লাসরুমে রয়েছে মাল্টিমিডিয়া সিস্টেম। সব বিষয়ে পাঠদানের জন্য এই সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। । একারণে প্রতিটা ক্লাস হয়ে উঠে অনেক বেশি কার্যকর ও আকর্ষনীয়।

৫. ঈর্ষনীয় ফলাফল : কলেজটি পড়ালেখার বিষয়ে আপসহীন। এর প্রতিফলন হল কলেজটির ফলাফলের ধারাবাহিকতা। ২০০২ সালে কলেজটি শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে প্রত্যয়িত হয়। এছাড়াও প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পায়। 

৬. সহশিক্ষা কার্যক্রম: পড়ালেখা ছাড়াও সহশিক্ষা কার্যক্রমে এই কলেজ বরাবরই ভালো করে আসছে। আন্তঃ ক্যান্টনমেন্ট কলেজ কুইজ প্রতিযগিতা ২০১৩ ও ২০১৫-তে চ্যাম্পিয়ন হবার পাশাপাশি আন্তঃ ক্যান্টনমেন্ট সংসদীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০১৫-তে এই কলেজ রানার আপ হবার গৌরব অর্জন করে। ২০১৩ সালের জাতীয় রসায়ন অলিম্পিয়াডে কলেজের একজন ছাত্র জাতীয় স্বর্ণপদক লাভ করে।

৭. অসাধারণ ক্যাম্পাস : যশোর ক্যান্টনমেন্ট  কলেজের ক্যাম্পাসটি যশোর সেনানিবাসে অবস্থিত। একারণে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যটা ক্লাসি। সবুজে ঘেরা ক্যাম্পাসটি পরিকল্পিত এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধায় পরিপূর্ণ। এছাড়া কলেজের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য রয়েছে দুটি পুকুর। প্রায় ২০ একর জমির উপর কলেজটি অবস্থিত।

৮. উন্নত সুযোগ-সুবিধা : কলেজে শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে কমন-রুম, ক্যান্টিন সুবিধা, উন্নত ল্যাব। এর বাইরে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার উদ্দেশ্যে  একজন সার্বক্ষনিক ডাক্তার নিয়োজিত থাকেন। কলেজটিতে রয়েছে একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরী। 

৯. অবকাঠামোগত  সুবিধা : কলেজে রয়েছে প্রয়োজনীয় ল্যাব সুবিধা। ল্যাবগুলোতে সকল শিক্ষার্থীদের জন্য বৈজ্ঞানিক বিষয় হাতে-কলমে চর্চা করার জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম। আইসিটি ল্যাবে এক ক্লাসের সকল শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে একটি করে কম্পিউটার। কলেজের সম্পুর্ণ কার্যক্রম ৪টি ভবনে পরিচালিত হয়। কমন-রুমে আছে কেরাম ও টিভি সুবিধা। শিক্ষার্থীদের সুপেয় পানির জন্য রয়েছে অত্যাধুনিক ফিল্টার সুবিধা।

১০. সুবিশাল কলেজ ক্যাম্পাসে আউট ডোর গেমঃ ফুটবল, ক্রিকেট, হ্যান্ডবল, বাস্কেট বল, ভলিবল, এ্যাথলেটিক্স খেলার জন্য পৃথক পৃথক মাঠ রয়েছে।  এবং ইনডোর গেমঃ টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন, দাবা ও ক্যারাম খেলার ব্যাবস্থা রয়েছে। এছাড়াও কলেজের অন্যান্য সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম; যেমনঃ সাংস্কৃতিক সপ্তাহ, বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালন, সোসাইটি ক্লাস কার্যক্রম, বিএনসিসি (সেনা ও বিমান শাখা), রোভার স্কাউট ও গার্লস ইন স্কাউটিং প্রভৃতি।

উক্ত বিষয়গুলো ছাড়াও আরও অনেক কারণে একজন শিক্ষার্থীর কাছে ক্যান্টনমেন্ট কলেজ যশোর তার স্বপ্নের কলেজ হতে পারে। 



শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ