Wednesday -
  • 0
  • 0
Rakib Monasib
Posted at 26/11/2020 03:58:pm

সরকারকে চাল না দেয়ার ঘোষণা চালকল মালিকদের

সরকারকে চাল না দেয়ার ঘোষণা চালকল মালিকদের

বাজারে ধানের মূল্যের সঙ্গে চালের মূল্য সামঞ্জস্য করতে হবে। ধানের সঙ্গে চালের বাজারমূল্য সমন্বয় করে দিলে তবেই সরকারের ঘরে চাল সরবরাহ করা হবে। ধানের বাজারে দাম ভালো। এবার কৃষক ভালো দাম পেয়েছেন। কিন্তু সরকার নির্ধারিত ৩৭ টাকা মূল্যে চাল সরবরাহ করব না। এজন্য কোনো চালকল মিল মালিক সরকারের সঙ্গে চুক্তিতে যাবে না। সরকারকে সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনে লাভ না হলেও বর্তমান বাজার অনুযায়ী চালের দাম দিতে হবে।   

গতকাল দুপুরে বগুড়া শহরের একটি রেস্টুরেন্টে বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সভায় এসব কথা বলেন চালকল মালিকরা। গতকালের সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আব্দুর রশিদ। কুষ্টিয়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীনের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কেএম লায়েক আলী, কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও দিনাজপুরের মিল মালিক মোহন পাটোয়ারী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আজিজ, বগুড়া চালকল মালিক সমিতির সভাপতি এটিএম আমিনুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক দুদু।   

উল্লেখ্য, চলতি আমন মৌসুমে ২৬ টাকা কেজি দরে ধান, ৩৭ টাকা কেজি দরে সিদ্ধ চাল এবং ৩৬ টাকা কেজি দরে আতপ চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আমন মৌসুমে দুই লাখ টন ধান, ছয় লাখ টন সিদ্ধ চাল এবং ৫০ হাজার টন আতপ চাল সংগ্রহ করবে সরকার। সব মিলিয়ে সাড়ে আট লাখ টন ধান ও চাল সংগ্রহ করার লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে।   

কিন্তু এ দামে সরকারকে চাল সরবরাহ করা সম্ভব নয় জানিয়ে বক্তারা বলেন, গত ইরি মৌসুমে মিল মালিকরা লোকসান দিয়ে চাল সরবরাহ করেছেন। করোনাকালে চালকল মালিকরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাই এবার আর কোনোভাবেই ভর্তুকি বা লোকসান দিয়ে চাল সরবরাহ সম্ভব নয়। সরকারকে চাল দিতে চাই। লাভের প্রয়োজন নেই। গত বছর লোকসান করেছি। এবার লোকসান দিয়ে সরকারের বেঁধে দেয়া মূল্যে চাল দিতে পারব না। চালের মূল্য সরকারকে পুনরায় নির্ধারণ করে দিতে হবে। বর্তমানে ধানের দাম অনুসারে চালের মূল্য দিতে হবে ৪২-৪৪ টাকা কেজি। সেখানে ৩৭ টাকা কেজি দরে চাল দিলে মিল মালিকদের লোকসান গুনতে হবে। সভায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কেএম লায়েক আলী বলেন, ৪ শতাংশ চাল সরকার আমদানি করে আর ৯৬ শতাংশ চাল মিল মালিকরা দেন। বাংলাদেশে ১৮ হাজার চালকল। করোনার সময় সব মিল-কারখানা বন্ধ থাকলেও ১ ঘণ্টার জন্যও চালকল বন্ধ থাকেনি। জনস্বার্থে কাজ করেছি। সরকার বিভিন্ন খাতে প্রণোদনা দিলেও আমরা খাদ্যমন্ত্রীর কাছে ১০ হাজার টাকা প্রণোদনা চাইলেও দেয়া হয়নি।   

গতকালের সভায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার চালকল মালিক হাজী এরফান আলী, সংগঠনের উপদেষ্টা ও নেত্রকোনার চালকল মালিক এইচআর খান পাঠান সাকী, নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের রফিকুল ইসলাম, গাইবান্ধা জেলার সভাপতি আলহাজ নাজির হোসেন প্রধান, দিনাজপুরের প্রতাপ সাহা পানু, রংপুরের সামছুল ইসলাম বাবু প্রমুখ।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ