About Us
প্রকাশ ১৯/১১/২০২০ ১১:৫৮পি এম

নওগাঁর আত্রাইয়ের ছোট মাছের শুটকি যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়

নওগাঁর আত্রাইয়ের ছোট মাছের শুটকি যাচ্ছে  দেশের বিভিন্ন জেলায় Ad Banner

উত্তর জনপদের মৎস্য ভান্ডার  হিসেবে খ্যাত নওগাঁর আত্রাই উপজেলা। এই উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে  গেছে আত্রাই নদী। এছাড়াও শতাধিক বিল রয়েছে। যার কারণে আত্রাইয়ে  উৎপাদিত দেশী বিভিন্ন প্রজাতির ছোট মাছের শুটকির কদর রয়েছে  দেশজুড়ে। প্রতিদিন শতশত টন মাছ আত্রাই থেকে রেল, সড়ক ও নৌ পথে  দেশের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত করা হয়। শুঁটকি মাছ মুখরোচক  খাবারগুলোর মধ্যে একটি। সে অনুযায়ী শুঁটকি উৎপাদনেও আত্রাইয়ের  যথেষ্ট প্রসিদ্ধি রয়েছে। 


আত্রাই রেলস্টেশন সংলগ্ন ভরতেতুলিয়া গ্রামটি মূলত শুটকির গ্রাম  হিসেবেই পরিচিত। আত্রাই রেল স্টেশনে প্রবেশ করতেই রেল লাইনের দুই  পাশ দিয়ে চোখে পড়বে শুটকির মাছ শুকানোর মাচাং। শুটকির মাছের  গন্ধে চারিদিক মৌ মৌ করছে। চলতি মৌসুমে মাছের সরবরাহ নিয়ে  কোন চিন্তা নেই ব্যবসায়ীদের কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে চরম  হতাশায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।  তাই এবারের শুঁটকি মৌসুমকে ঘিরে শুঁটকি তৈরিতে এখন চরম ব্যস্ত  সময় কাটছে ব্যবসায়ীদের।

এলাকা জুড়ে এখন শুধু শুঁটকি তৈরির যেন  ধুম পড়েছে। এ উপজেলায় এবার পরপর দু’বার বন্যায় বিভিন্ন পুকুর  পুস্কনি পানিতে ডুবে যাওয়ায় মাছের বিচরণ অনেক বেশি। তাই  জলাশয়গুলোতে ধরা পড়ছে দেশীয় প্রজাতির রকমারী মাছ। আর এ মাছগুলো  প্রতিদিন সেই কাকডাকা ভোর থেকে বিক্রি হচ্ছে আত্রাইয়ের  ঐতিহ্যবাহী মাছ বাজার রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন মাছের আড়তে। এসব  মাছ কিনে শুঁটকি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন শুঁটকি ব্যবসায়ীরা। 


গত বছর এলাকায় বন্যা না হওয়ায় দেশীয় প্রজাতির মাছ প্রায় বিলুপ্ত  হয়ে গিয়েছিল। এ জন্য শুঁটকি ব্যবসায়ীরা ব্যাপক লোকসানের শিকার  হয়ে আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। সেই লোকসান পুষিয়ে  নিতে এবার তারা কোমর বেঁধে শুঁটকি তৈরিতে ঝেঁপে পড়েছেন।  এই শুটকির মাছগুলো মূলত দেশের রাজধানী ঢাকাসহ উত্তরাঞ্চলের রংপুর,  নিলফামারী, সৈয়দপুর, কুড়িগ্রাম, দিনাজুপরসহ দেশের প্রায় ১৫/২০  জেলাতে বাজারজাত করা হয় ঐতিহ্যবাহী খ্যাতি সম্পন্ন আত্রাইয়ের এই  শুঁটকি মাছগুলো।

আর এ মাছের শুঁটকি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ  করেন উপজেলার প্রায় শতাধিক পরিবার। উপজেলার ভরতেঁতুলিয়া গ্রাম  শুঁটকি তৈরীতে বিশেষভাবে খ্যাত। এ গ্রামের শতাধিক শুঁটকি  ব্যবসায়ী এ পেশার সাথে সম্পৃক্ত। শুধু বর্ষা মৌসুমে শুঁটকি তৈরি করে    দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করে তারা পরিবারের সারা বছরের  ভরণপোষণ নিশ্চিত করেন। এবারে পরপর দু’বার বন্যার কারনে নদী ও খাল বিলে  কাঁচা মাছের আমদানী অনেক বেশি।


অন্যান্যবার বাজারে মাছ কম কিন্তু  মূল্য বেশি হওয়ায় শুঁটকির বাজারে ধস নেমে ছিল। ফলে তাদের অনেক  লোকসান গুণতে হচ্ছিল। এবারে আর তাদের গুণতে হচ্ছেনা লোকসান।  মাছের ব্যাপক আমদানী, মূল্য কম এবং শুঁটকির বাজার মূল্য বেশি থাকায়  তাদের চোখে-মুখে হাসির ঝলক ফুটে উঠছে।  উপজেলার ভরতেঁতুলিয়া গ্রামের বিশিষ্ট শুঁটকি ব্যবসায়ী মঞ্জুর মোল্লা  বলেন, শুটকি ব্যবসার সাথে আমি দীর্ঘদিন থেকে সম্পৃক্ত। শুঁটকি  তৈরিতে অর্থ খরচের সাথে সাথে যথেষ্ট শ্রম ব্যয় হয়।

সর্বপোরি রৌদ্র  বৃষ্টি ও মাছের দুর্গন্ধ সবকিছুকে উপেক্ষা করে পরিবার পরিজন নিয়ে এ  পেশা চালিয়ে আসছি।  উপজেলার ভরতেঁতুলিয়া গ্রামের শুঁটকি ব্যবসায়ী শ্রী.রামপদ শীল বলেন,  পুঁটি, খোলসানী, চাঁন্দা, রাইখর, সাটিসহ বিভিন্ন জাতের দেশি  মাছের শুঁটকি আমরা তৈরি করি। এর মধ্যে বিশেষ করে পুঁটি ও সাটি  মাছের শুঁটকির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমাদেরকে বিভিন্ন সময়  সরকারিভাবে শুঁটকি তৈরির প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

আমরা সে অনুযায়ী  শুঁটকি তৈরি করি বিধায় দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্রাইয়ের শুঁটকির  চাহিদা আছে। এবারে ব্যবসাটা লাভজনক হবে বলে আমরা আশাবাদি। #  আত্রাই উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা পলাশ চন্দ্র দেবনাথ বলেন,  শুটকির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য সম্মত ভাবে শুটকির মাছ তৈরির  প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছি। তারা পূর্বে নদীর পানি দিয়ে মাছগুলো  পরিস্কার করতো। তাদের দাবী অনুযায়ী উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা  শুটকির মাছ পরিস্কার করার জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

তবে  একটি নির্দিষ্ট খাস জায়গায় যদি সরকার একটি শুটকি পল্লী  নির্মাণ করার পদক্ষেপ গ্রহণ করে তাহলে হয়তোবা আত্রাইয়ের এই শিল্পটি  আরো বিকশিত হতো। ভবিষ্যতে সরকার এই শুটকি পল্লীতে লাখ লাখ টাকা  রাজস্ব হিসেবে আয় করতে পারবেন। তিনি এই শিল্পটিকে আরো  আধুনিকায়ন করার জন্য সরকারের দ্রুত সুদৃষ্টি কামনা করেছে।#



শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ