About Us
শনিবার, ১৯ জুন ২০২১
  • সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম:
Ranajit Kumar Barman
প্রকাশ ১৯/১১/২০২০ ০৫:০৯পি এম

শ্যামনগরে ১৯ নভেম্বর হানাদার মুক্ত দিবস পালিত

শ্যামনগরে ১৯ নভেম্বর হানাদার মুক্ত দিবস পালিত Ad Banner

১৯ নভেম্বর সাতক্ষীরার  শ্যামনগর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের ১৯ নভেম্বর শ্যামনগরে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করার মধ্য দিয়ে দেশের প্রথম যুদ্ধে মুক্ত অঞ্চল হওয়ার গৌরবান্বিত হয় শ্যামনগরবাসি। বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে সাতক্ষীরা জেলার সর্বশেষ সুন্দরবন সংলগ্ন উপজেলা শ্যামনগরে ১৯৭১ সালের ১৯ আগষ্ট পাক বাহিনীর অর্তকিত আক্রমনে প্রাণ হারায় ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা যথাক্রমে সুবেদার ইলিয়াস, আবুল কালাম আযাদ প্রমুখ। এ দিনে আরো কয়েক জন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারায়। আকষ্মিক এ আক্রমণের বিরুদ্ধে মুক্তিবাহিনী প্রতিরোধ গড়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে নি। গেরিলা যুদ্ধের কেীশল হিসেবে মুক্তিযোদ্ধারা লে. মাহফুজ বেগের নেতৃত্বে শ্যামনগর সদর থেকে ক্যাম্প পিছিয়ে নেয়। আর এ দিন থেকে পাক বাহিনী স্থায়ীভাবে ঘাটি গাড়ে শ্যামনগরে।

এ সময় থেকে টানা ৩ মাস পাকবাহিনী শ্যামনগর দখলে রাখে এবং এ সময়ে তাদের হাতে প্রাণ হারায় কয়েক জন নিরীহ বাঙালী। শ্যামনগরের মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা গাজী আবুল হোসেন জানান, টানা তিন মাসে পাক বাহিনী শ্যামনগর সদরে ৫/৬ বার মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে পড়ে। তৎমধ্যে শ্যামনগর পাক হানাদার ঘাটিতে এক দিনে চারিদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধারা এমবুশ করে এবং টানা ৩ ঘন্টা যুদ্ধের পর পাক সেনা ৪ জন নিহত হয়। এ সময়ের মধ্যে শ্যামনগরের কৈখালী, ভেটখালী, হরিনগর, রামজীবনপুর, গোপালপুর পাকবাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধ হয়। জানা যায় কৈখালী ও হরিনগর এলাকায় নৌকমান্ড ও মুক্তিযোদ্ধা গেরিলা বাহিনী যৌথভাবে টানা তিন ঘন্টা ভয়াবহ যুদ্ধে অংশ নেয়। শ্যামনগর বিভিন্ন এলাকায় পাকবাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে পড়ে ও ১৮ নভেম্বর রাতের আঁধারে শ্যামনগর ত্যাগ করে। পর পরই মুক্তিযোদ্ধারা এসে শ্যামনগর দখল নেয়। এরপর স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে ১৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে শ্যামনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও উপজেলা প্রশাসন আলোচনাসভা, দোয়া অনুষ্ঠান সহ অন্যান্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। 

মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের হল রুমে আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি এস এম জগলুল হায়দার। তিনি বক্তব্যে শ্যামনগর মুক্তিযুদ্ধ কালিন সময়ের স্মৃতি বর্ণণা করেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলেন। শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আ.ন.ম আবুজর গিফারীর সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আতাউল হক দোলন, সহকারী কমিশনার ভূমি আব্দুল হাই সিদ্দিকী, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রভাষক সাঈদুজ্জামান সাইদ, শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুল হুদা,সাবেক কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা দেবী রঞ্জন মন্ডল, সাবেক অধ্যক্ষ বীরমুক্তিযোদ্ধা জি এম ওসমান গণি প্রমুখ। বীরমুক্তিযোদ্ধা মাষ্টার নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় আলোচনাসভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ,বীরমুক্তিযোদ্ধা সামছুর রহমান প্রমুখ। আলোচনাসভা শেষে দোয়া অনুষ্ঠান করা হয়।  


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ