About Us
Md Jahidul Islam Sumon
প্রকাশ ১৯/১১/২০২০ ১১:১৭এ এম

ফরাক্কায় লাইনচ্যুত হয়ে বাড়িতে ঢুকল রেল ইঞ্জিন

ফরাক্কায় লাইনচ্যুত হয়ে বাড়িতে ঢুকল রেল ইঞ্জিন Ad Banner

অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন পরিবারের সদস্যরা .মঙ্গলবার গভীর রাতে ফরাক্কার কেন্দুয়ায় লাইনচ্যুত হয়ে একটি মালগাড়ির ইঞ্জিন রেলের গার্ডওয়াল ও সিমেন্ট কারখানার পাঁচিল ভেঙে একটি বাড়িতে ঢুকে যায়। ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দারা এসে পরিবারের সবাইকে উদ্ধার করেন। তবে বরাতজোরে সকলেই রক্ষা পেয়েছেন। ঘটনায় রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সিমেন্ট কারখানার বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষুব্ধ এলাকার বাসিন্দারা। রেলকর্তারা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছেন বলে জানা গিয়েছে।

বুধবার সকালে ফরাক্কা ব্যারেজের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় মালদহগামী একটি মালগাড়ির বেশ কয়েকটি ওয়াগন ইঞ্জিন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ইঞ্জিনটি বেশ কিছুটা এগিয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি রেল কর্মীদের নজরে আসে। পরে তা জুড়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাত ১টা নাগাদ দরজা এঁটে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন পরিবারের সবাই। আচমকা হুড়মুড়িয়ে রেলের গার্ডওয়াল ও সিমেন্ট কারখানার পাঁচিল ভেঙে ইঞ্জিনটি ঘরে ঢুকে পড়ে। প্রচণ্ড শব্দে সকলের ঘুম ভেঙে যায়। শিশু ও বড়রা ভয়ে কান্নাকাটি শুরু করেন। আতঙ্কে সকলেই বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা সকলকে উদ্ধার করেন। জানা গিয়েছে, রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় হামিদুল শেখ ও তৈমুর শেখের বাড়ির বারান্দায় ইঞ্জিনটি ঢুকে পড়ে। হামিদুল বলেন, আচমকা বিকট আওয়াজে ঘুম ভেঙে বাড়ির বাইরে এসে দেখি, একটি মালগাড়ির ইঞ্জিন বাড়ির উঠোনে ঢুকে গিয়েছে। তখনও বুঝে উঠতে পারছিলাম না আসলে কী হয়েছে। আমাদের বাড়ির কিছুটা অংশ ফাটল ধরেছে। তবে, সিমেন্ট কারখানার মালগাড়ি যাতায়াতের ফলে আমাদের জীবনের ঝুঁকি ছিল। অল্পের জন্য আমরা রক্ষা পেয়েছি। স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, সিমেন্ট কারখানার ছাইয়ে ঘরবাড়ি সব নোংরা হয়ে যায়। তারপর এভাবে ঘরের মধ্যে ট্রেন ঢুকে পড়ায় আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। আমরা ক্ষতিপূরণ সহ এই এলাকায় রেল চলাচলে আরও সাবধানতা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। প্রসঙ্গত, ফরাক্কা ও মালদহ শাখায় ট্রেন চলাচল করলেও সিমেন্ট কারখানায় যাওয়ার জন্য একটি লাইন রয়েছে। ওই লাইনের একটি ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হয়ে ঢুকে পড়ে।

এলাকার বাসিন্দারা বলেন, যেভাবে গভীর রাতে ইঞ্জিনটি লাইনচ্যুত হয়েছে তাতে বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু বরাতজোরে ওই বাড়ির সবাই রক্ষা পেয়েছেন। আমাদের দাবি, সিমেন্ট কারখানায় মালগাড়ি চলাচল করার সময় যথাযথ সাবধানতা নেওয়া হোক। সিমেন্ট কারখানা কর্তৃপক্ষ কিছুতেই তাদের দায় এড়াতে পারে না। তাছাড়া রেল কর্তৃপক্ষেরও বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা উচিত। বুধবার সকাল ৮টা নাগাদ ফরাক্কা ব্যারাজের উপর দিয়ে একটি মালগাড়ি যাওয়ার সময় হঠাৎই ইঞ্জিন থেকে বেশ কয়েকটি রেক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ইঞ্জিনটি বেশ কিছুটা এগিয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি রেল কর্মীদের নজরে আসে। বেশ কয়েক ঘণ্টা রেল চলাচল ব্যহত হয়। রেলকর্তারা এসে বিষয়টি খতিয়ে দেখেন।

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ফরাক্কা ব্যারেজের ১০নম্বর গেটে মালদহগামী মালগাড়ির কয়েকটি রেক খুলে গেলে এই বিপত্তি ঘটে। তবে ব্যারেজের উপর হওয়ায় বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা মিলেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ